বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাল জাতি। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারীশিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য বেগম জিয়াকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার অন্য যেসব বিশিষ্ট নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করে সম্মানিত করা হয়েছে-তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু তাঁদের কাজের সেবাস্রোত অব্যাহত রয়েছে। তা থেকে জনগণ, দেশ-জাতি, অর্থনীতি সুফল ভোগ করছে। এদের মধ্যে অবশ্যই স্বতন্ত্র বিশেষণে মূল্যায়ন প্রাপ্য-মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট, শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার। কারণ স্বামী নিহত হওয়ার পর গৃহবধূর ঘেরাটোপ ভেঙে তাঁকেই হাল ধরতে হয়েছিল স্বামীর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলেন তিনি। নীতি-আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং আপসহীন দৃঢ়তায় তিনি দলকে তিন দফায় ক্ষমতার মসনদে পৌঁছান। ব্যাপক জনরায়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। সেজন্যই জাতি তাঁকে আপসহীন দেশনেত্রীর শ্রদ্ধার আসনে বসায়। একপর্যায়ে তিনিই হয়ে ওঠেন গোটা জাতির বিবেক, অভিভাবক এবং ভরসার স্থল। কিন্তু তাঁর প্রতিপক্ষ, পতিত স্বৈরাচার নিষ্ঠুর প্রতিহিংসায় তাঁর ওপর চরম অসম্মানের কালিমা লেপন করে। ভিত্তিহীন মামলায় কারাবন্দি করে মানসিক নির্যাতন চালায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর শরীরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় তাঁকে। দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে গত ৩০ ডিসেম্বর অমরলোকের যাত্রী হন এই মহীয়সী নারী। পরদিন তাঁর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ এবং চোখের জলে তাঁকে স্বামীর কবরের পাশে শেষশয্যায় সমাহিত করা প্রমাণ করে-তিনি জাতির কতটা শ্রদ্ধা-ভালোবাসার আসন লাভ করেছিলেন। সেজন্য এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করে জাতি তাঁর কাছে অপরিশোধ্য ঋণ কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করল।