‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’-প্রাচীন এ প্রবচন যে কতটা বাস্তবতানিষ্ঠ তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। অনাচার-দুরাচার, দমনপীড়ন, খুন-নির্যাতন আর লাখো কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তাঁর সরকার ও দলের প্রায় সব নেতা পালিয়ে গেলে, বিরাট এক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে। বিপ্লবী ছাত্র-জনতাই মূলত গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেল জয়ী, বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে করা হয় সে সরকারের প্রধান। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও অর্জনের শীর্ষছোঁয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গঠন করা হয় উপদেষ্টা পরিষদ। শুভস্বপ্ন-আকাক্সক্ষা জেগেছিল জনমনে। এরা জোর দিয়েছিলেন সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে। অঙ্গীকার করেছিলেন-সাম্য সম্প্রীতি ন্যায্যতা পরমতসহিষ্ণুতা এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার। দৃশ্যমান চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। সংস্কারের একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এখন পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসছে সদ্য সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। শুধু তা-ই নয়, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় উপদেষ্টাদের সুপারিশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও মিলছে দুর্নীতি আর অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র। এটা চরম অনভিপ্রেত ও দুর্ভাগ্যজনক। ছাত্র-জনতা বিশ্বাস করে যাঁদের হাতে ক্ষমতার ভার তুলে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগের পাহাড় জমতে দেখে মনে হচ্ছে-শিয়ালের কাছে মুরগি পুষতে দেওয়া হয়েছিল। মুখ খুলতে শুরু করেছেন নানা পদে বিভিন্ন দপ্তর-বিভাগে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা। ভয় হয় কেঁচো খুঁড়তে কত বড় সাপই না বের হয়! মোটকথা ভূত তাড়াবার শর্ষেতেই যে ভূতের আসর ছিল, তা স্পষ্ট। তাহলে আর বিষ নামবে কিসে? হ্যাঁ, তারও নিদান আছে। সব অভিযোগ আমলে নিয়ে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। কঠোর বার্তা দিতে হবে-দুর্নীতির দায় থেকে কেউ রক্ষা পাবে না।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আইনের চোখে সবাই সমান।