‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এ দুটি বিষয় ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনি প্রচারণার বড় চমক। দলের ভূমিধস জয়ে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের মাস না পেরোতেই অঙ্গীকার পূরণের কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল উদ্বোধন করলেন নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির। রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করে বেশ কজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচির আওতায় মাসে আড়াই হাজার টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে ভাতা দেবে সরকার। দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্যসূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। আগে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন, সরকারি চাকরি করছেন বা পেনশনভোগী আছেন-ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেতে থাকলে ওই পরিবার এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না। এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সে পরিবার ভাতা পাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হওয়ার পর হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারকেও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ যথেষ্ট যাচাইবাছাই করেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ শুরু হলো। যেসব নীতিকাঠামোর ছাকনিতে পরিবার বাছাই করা হচ্ছে-তাতে এ প্রকল্পে জনগণের টাকার নয়ছয় হবে না এবং প্রকৃত প্রাপ্য-পরিবার উপকৃত হবে বলে আশা করা যায়।