খেলাপি ঋণ দেশের অনেক ব্যাংককে দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে নামিয়েছে। ব্যাংক খাতের জন্য দুরারোগ্য ক্যানসারে পরিণত হয়েছে এই অপচর্চা এবং তা সহ্য করা। জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা হতে দিচ্ছে না লাগামহীন খেলাপি ঋণের পাহাড়সম ভার। উইপোকার মতো করে খাচ্ছে সমৃদ্ধির ভিত্তি। এর অবসান হওয়া জরুরি। অর্থমন্ত্রী সোমবার জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। দুর্ভাগ্যজনক যে এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনভিপ্রেত বাস্তবতা হচ্ছে, মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। কী ভয়ংকর অবস্থা! এর সমাধানসূত্র হতে পারে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। পাশাপাশি তদারকি জোরদার, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার টিম শক্তিশালী করাও প্রয়োজন। সাধারণত ৯০ বা তার বেশি দিন কিস্তি বকেয়া থাকলে, তা বকেয়া বলে গণ্য হয়। কিন্তু দেশের ব্যাংকগুলোতে স্বেচ্ছাচারীভাবে বছরের পর বছর লক্ষ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে। পুনঃ তফসিলের আইনি ফাঁকে, নামমাত্র কিস্তি প্রদান করে ঋণখেলাপিরা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ এবং পাচার করে আসছেন। সব সময়ই এর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ ক্ষমতাসীন মহল জড়িত থাকছে। তাদের প্রভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন নিয়ম রক্ষা করে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তখন তারাও জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতিতে। ঋণের শর্ত পূরণ না হলেও ভুয়া জামানতে হাজার হাজার, লাখো কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর হয়ে যায়। আপতকালে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। দেখা যায়-যার ভিত্তিতে ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, সেখানে কিছুই নেই। এই আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে, গোড়ার গলদ মেরামত করতে হবে। ভূত তাড়াবার শস্যকে ভূতমুক্ত করা প্রাথমিক কর্তব্য। বর্তমান সংসদে তার অনুকূল শক্ত আইন প্রণীত হোক। আদায়ে কঠোর পদক্ষেপের পথনির্দেশনাও প্রয়োজন। না হলে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দিন দিন স্ফীত হয়ে শুধু ব্যাংকিং খাতকে পঙ্গু নয়, জাতীয় অর্থনীতিকেই অন্তঃসারশূন্য করে ফেলবে।
শিরোনাম
- বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
- স্ত্রীসহ সাবেক এমপি এনামুল হকের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
- ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে দেশীয় সক্ষমতাই হবে আমাদের প্রধান শক্তি’
- মুগদায় মরদেহর সাত টি অংশের পর এবার মাথা উদ্ধার
- মাঝ আকাশে একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চাইলেন, শেষমেশ কামড় দিলেন বিমানকর্মীকে
- ‘ফিট আছি’ বলে সমালোচকদের জবাব নেইমারের
- ডুয়েটের সব গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড কর্মসূচি
- নড়াইলে পিকআপ-লরির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪
- কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা
- সৌদিতে কঠোর ব্যবস্থা, পারমিট ছাড়া হজে নিয়ে বিপাকে ৫ জন
- কক্সবাজারে ২০ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার
- ওমরাহ ভিসা শুরু ৩১ মে, জেনে নিন পুরো সময়সূচি
- ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটাই গোল করে বিশ্বকাপ মাতিয়েছিল পানামা, এবার কী হবে
- ডিবিএল সিরামিকসের ‘টাইলচক’ জিতল ওয়ান শো অ্যাওয়ার্ড
- স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আলো: বিইউএফটি স্কলারশিপ
- জাল কাগজপত্র জমা দিলে প্রত্যাখ্যান হবে শেনজেন ভিসার আবেদন
- সিলেটে মানব পাচারকারীসহ ১৪ অনুপ্রবেশকারী আটক
- ষষ্ঠ ও একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়লো
- ইউএইতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ
- বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে নেইমারের নাটকীয় বিদায়, প্রশ্নে ম্যাচ অফিসিয়ালরা
খেলাপি ঋণ
কার্যকর সমাধানসূত্র প্রণীত হোক
প্রিন্ট ভার্সন
এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর
বিআরটি প্রকল্প বাতিলে মত বুয়েট বিশেষজ্ঞদের, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা
৪ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন
মাঝ আকাশে একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চাইলেন, শেষমেশ কামড় দিলেন বিমানকর্মীকে
১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম