এ কথা এখন সর্বজনবিদিত, এনজিওপতি তথা ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসাজীবী বহুল বিতর্কিত ড. ইউনূস সাম্রাজ্যবাদের পালিত দালাল। ইউনূসকে তারা প্রায় তিন দশক ধরে পেলেপুষে পুষ্ট করেছে এবং ২০০৬ সালে নোবেল পাইয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করিয়েছে। এর পেছনে ওদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল সময়সুযোগমতো ইউনূসকে প্রয়োজনের তাগিদে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করা। এর সত্যতা এখন প্রমাণিত। আজ আর বলতে দ্বিধা নেই, সাম্রাজ্যবাদীদের সে অভিলাষ সিদ্ধ হয়েছে। ২০২৪-এর মেটিকুলাস ডিজাইনের সফল জুলাই আন্দোলনের পরে, আলোচিত ডিপ স্টেট ইউনূসকে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসিয়ে নিজেদের ষোলোকলা পূর্ণ করেছে। ইউনূস গং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অসম বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাকে বিবেকবান মানুষমাত্রই দাসত্বের চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে এবং অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবিও জানাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ কতটা দেশ-জনতাকে শত্রুজ্ঞান করলে পরে এমনটা গোলামির চুক্তি করতে পারে এবং জাতির সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে? জাতীয় স্বার্থ সর্বাগ্রে- এই বোধ বিবেচনা সব দেশপ্রেমিক মানুষের থাকলেও ইউনূস গংয়ের নেই। ইউনূস নিজের স্বার্থলাভ ছাড়া যে আর কিছু বোঝেন না, এটা আজ স্পষ্ট। লক্ষণীয় আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত ১৩১টি, পক্ষান্তরে মনিব দেশ আমেরিকার জন্য মাত্র ৬টি! এখন সবাই বিবেচনা করে দেখুন- এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের না স্বার্থ বিসর্জনের? এ চুক্তি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দির, না মুক্তির, আত্মমর্যাদার?
অসম ও দাসত্বের চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের প্রায় বিনা শুল্কে আমদানি করতে বা কিনতে হবে চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, মোটরযান যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক দ্রব্য। এ ছাড়া বাদাম, হাঁস-মুরগি, ফলমূল, তুলা, গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন মাছ, মাংস ও দুগ্ধজাতীয় ও খাদ্যজাতীয় শত শত পণ্য। এ ছাড়াও আছে, তেল, গ্যাস, বিমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে এবং বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব তো থাকবেই? অর্থাৎ মার্কিন অনুমোদন ও অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশে বড় কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসা প্রায় অসম্ভব। এর মানে মার্কিন অনুমতি ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে না বাংলাদেশ! বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিকে অগ্রাধিকার এবং খনিজ সম্পদ রপ্তানির অধিকার দিতে হবে?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চুক্তির শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনবে। পনেরো বছরে পনেরো বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি অ্যাক্সিলারেট এনার্জিসহ (এলএনজি) অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কিনবে। এখানে বলা আবশ্যক এলএনজির স্ট্র্যাটেজিক উপদেষ্টা পদে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস। এখন জিজ্ঞাস্য বিষয় হলো, ইউনূস গং বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে এই চুক্তি করে ব্যক্তিগতভাবে কতটা লাভবান হলো? তাদের নিজস্ব বাণিজ্যের পাল্লা কতটা ভারী হলো! জাতিদ্রোহী এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিব্যি কি তাদের এ দেশের জনগণ দিয়েছে? যদি না দিয়ে থাকে, তা হলে একটা অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে অন্য একটি দেশের সঙ্গে দাসত্বের চুক্তি করে? যেখানে লাভ এবং বাণিজ্য- সেখানেই ইউনূস এমন একটা ধারণা এখন বদ্ধমূল হয়েছে ইউনূসকে ঘিরে। ইউনিসেফের সতর্কবার্তা ও অনুরোধ সত্ত্বেও শিশুদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় জীবন রক্ষাকারী টিকা না কিনে ইউনূস অমানুষের পরিচয় দিতেও দ্বিধা করেননি। কারণ নিজেদের এনজিওর মাধ্যম টিকা আনলে ন্যূনতম ৮০ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য হতো! এই লোভের পাপে প্রায় ৫০০ শিশুর অকালমৃত্যু, হাজার হাজার শিশু অসুস্থ হয়ে জীবন বিপদাপন্ন। শুধু টিকাই নয়, পতিত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের ৩৮টি কর্মসূচিও বাতিলও করেছেন ইউনূস! কার স্বার্থে এই অমানবিক সিদ্ধান্ত?
লেখক : সাংবাদিক