ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাঁচটি আসনে এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
দিনাজপুর-১ আসনে ১২৯টি কেন্দ্রের সবকটির ফলে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম (ধানের শীষ) ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট।
দিনাজপুর-২ আসনে ১১৬টি কেন্দ্রের ফলে বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একেএম আফজালুল আনাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট।
দিনাজপুর-৩ আসনে ১৩১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট।
দিনাজপুর-৪ আসনে ১৩১টি কেন্দ্রের ফলে বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া (ধানের শীষ) ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আফতাব উদ্দীন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর-৫ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক (তালা প্রতীক), যিনি বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট।
দিনাজপুর-৬ আসনে ২০০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলে বিএনপির ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (ধানের শীষ) ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোটারের উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে নারী ও সনাতন ধর্মীয় ভোটারদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে সর্বস্তরের জনগণের। ভোর থেকে ভোটারদের লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। অনেকে সপরিবারে ভোট দিতে আসেন।
প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে তরুণ ভোটাররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এবারই তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া