ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দখল করে ব্যালটে সিল, পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোগ গ্রহণ করে ফলাফল পূণফলাফল ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার। শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয় ও দারুল আমান ট্রাস্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম সরকার বলেন, নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-৪ আসনে পাঁচটি কেন্দ্রে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী প্রিজাইডিং অফিসারকে তালা বন্ধ করে রাখে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ সময় বিএনপির লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যালটের ধানের শীষে সিল মারে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু তারা কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি বলেন, ওই দিন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিরাভাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, কুমিরাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোচাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিংহজানি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। পরে তারা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিজেরাই সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরার মতো অনিয়ম ঘটায়।
আব্দুর রহিম সরকার অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-সমর্থিত ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি এবং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এক কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০০ ভোটের স্থলে ২ হাজার ৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ফান্ডের বান্ডেলকে ১০০টি হিসেবে দেখানোরও অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বরত পুলিশের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া একটি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০০ ভোটের স্থলে ২ হাজার ৮০০ ভোট কাষ্ট দেখানো হয়েছে। রেজাল্ট শীটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ফান্ডের বান্ডেলকে ১০০টি হিসেবে দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার একাধিক ভিডিও এবং ডকুমেন্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, দখল হওয়া কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হয়নি। এসব কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণ ও সব কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের প্রার্থী আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার এবং শিবিরের সভাপতি রুম্মান ফেরদৌস।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া