আওয়ামী অধ্যুষিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিজয় পেয়েছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সরোয়ারজান মিয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারান। দীর্ঘ সময়ের সেই পরাজয়ের ধারায় এবার পরিবর্তন আনলেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।
নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। বাবুল ৫১ হাজার ৬৮৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের বিজয়।
রাজনৈতিকভাবে নতুন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অল্প সময়ের মধ্যে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। নিজ দলের ভেতরের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি ভিন্ন মতের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ান।
স্থানীয়দের মতে, তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, নম্র আচরণ ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এই বড় বিজয়ের মূল কারণ।
নির্বাচনের আগে একাধিক সভায় তিনি বলেন, দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি এই আসনে নির্বাচন করতে আসেন। দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি এলাকাবাসীর সমর্থন কামনা করেন।
বিজয়ের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গায় এসে তিনি বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। শূন্য হাতে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের সঙ্গে আমার আত্মার বন্ধন তৈরি হয়েছে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব।’
তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই বিজয় শুধু একটি আসনের জয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক