শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩৩

ইন্টারভিউ

শিল্পী নিঃসঙ্গ দলবাজ নন

শিল্পী নিঃসঙ্গ দলবাজ নন

দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। পরপর পাঁচটি সফল ছবি নির্মাণের ধারাবাহিকতায় এবার আসছে তার ষষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এটি টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। চলতি সপ্তাহে ছবিটি সেন্সরে জমা পড়বে। মুক্তি প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলাপনে - পান্থ আফজাল

পরিকল্পনার ১০ বছর পর ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এত সময় নেওয়ার কারণ কী?

পরিকল্পনা করেছিলাম ২০০৮ সালে। তখন প্রডিউসার পাইনি। অনেকেই হয়তো ভেবেছে, ছবিটা চলবে না। কেউই টাকা লগ্নি করতে চায়নি। কিন্তু আমি তো ভাষা আন্দোলনের ওপর কোনো ডকুমেন্টারি করছি না। গল্পটার প্রেক্ষাপট একটি মফস্বলের গল্প; যেটি আমাদের ভাষা আন্দোলনকে রিলেট করবে। এর মধ্যে প্রেম আছে, সুন্দর গল্প আছে আর বেদনাও আছে।

 

ভাষা আন্দোলনকেই কেন ছবির কনটেন্ট হিসেবে বেছে নিলেন?

দীর্ঘদিন থেকেই ভাবছিলাম যে, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করব। অন্যদিকে পুরোপুরি ভাষা আন্দোলনকে স্পর্শ করে দেশে খুব বেশি কাজ হয়নি। দেরিতে হলেও কাজটা করা গেল!

 

এর আগে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের খণ্ড খণ্ড বিষয় উঠে এসেছে। এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে কি ভাষা আন্দোলনের সামগ্রিক বিষয় পাব?

এটা একটা ফিকশন। আমরা একটা গল্পই বলতে চেয়েছি। কেউ ডকুমেন্টারি হিসেবে দেখতে বসলে ভুল হবে; তবে পাবেন বলা যায়। আমরা একটা গল্পের মাধ্যমেই তুলে ধরার চেষ্টা করছি ভাষা আন্দোলনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র। এটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। সিনেমার স্বাদও পুরোটাই পাবেন দর্শক তা বলতে পারি।

 

ভাষা আন্দোলনের মতো সিরিয়াস বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। সহজ না কঠিন কাজ?

এরকম একটা ছবি বানানো আসলে অনেক কঠিন। সহজও কিন্তু সহজ করে বলা যায়। কিন্তু সহজ করে বানাতে গেলে আবার মনের মতো বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। তবে লোকেশন খুঁজে বের করা, সাত দশক আগের একটা আবহ তৈরি করা, এই সময়ের অভিনয়শিল্পীদের মাধ্যমে অভিনয় করিয়ে সেটা ফুটিয়ে তোলা কঠিন।

 

মুক্তি নিয়ে কী ধরনের প্রচার-প্রচারণা করেছেন?

প্রচার-প্রচারণার বিষয়টা আসলে ডিরেক্টরের কাজ নয়; ডিস্ট্রিবিউটর ও প্রডিউসার এটি করবেন। যদিও এ দেশে ডিরেক্টররা করে থাকেন। আমি এটা পারি না, দুর্বল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা হতে পারে। পাশাপাশি টেলিভিশন, অনলাইন গণমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় প্রচারণা হবে। জানি না কতটা পারব; পূর্ব অভিজ্ঞতা খুব খারাপ।

 

কিন্তু স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলো তো লগ্নিকৃত টাকা তুলতে পারে না। কোন তাড়না থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসা?

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র। আমি শিল্পের মধ্যেই থাকতে চাই, শিল্পী হতে চাই। শিল্পের কাজটাই একাকিত্বের। শিল্পী নিঃসঙ্গ হন; দলবাজ নন। সেই কাজে চলচ্চিত্র আমাকে উৎসাহিত করেছে। ভালো চলচ্চিত্র নিজেকে ও দর্শককে তৃপ্তি দেয়।

 

দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন কোনো সম্ভাবনা দেখছেন?

অনেকেই বলেন, ভালো ছবি হবে আবার বাণিজ্যও করবে। এটা বিরল ঘটনা। যে সমাজ এগিয়ে আছে সেখানে হয়তো সম্ভব, কিন্তু অন্য সব জায়গায় খারাপ ছবিই বেশি চলে। সস্তা জিনিসই বেশি জনপ্রিয় হয়। আশা করছি, তরুণরা নতুন ভাবনা নিয়ে আসবে। তবে আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি দেখছি।


আপনার মন্তব্য