Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৩

আবারও আলোচনায় সিমলা

নিজামুল হক বিপুল

আবারও আলোচনায় সিমলা

বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মাহাদী সাগর ওরফে মো. পলাশ আহমেদ কমান্ডো অভিযানে নিহত হওয়ার পর এখন সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা ‘সিমলা’। নিহত মাহাদীর স্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘুরে-ফিরে আসছে আলোচনায়। সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পর্যন্ত বলছেন সিমলার কথা। সবার মুখে এখন ‘সিমলা, সিমলা, সিমলা’। তারা বলছেন, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঝগড়া-ঝাটির জের ধরেই মাহাদী বিমানের দুবাই ফ্লাইটে চড়ে ছিনতাইয়ের মতো দুঃসাহসিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। তারপরই কমান্ডো অভিযানে তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু মাহাদী মারা গেলেও স্ত্রী সিমলার কোনো পাত্তা নেই। তিনি কোথায় আছেন- সে বিষয়েও তার ঘনিষ্ঠ কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। একজন শুধু বলেছেন, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

তবে বাংলা সিনেমার নায়িকা সিমলা যেখানেই থাকেন না কেন মাহাদী ও তার বৈবাহিক জীবনের অন্তরঙ্গ ছবি এখন ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাকে নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

মাহাদীর ‘মাহীবি জাহান’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মাহাদী ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নায়িকা সিমলাকে বিয়ে করেছেন। বিয়ে নিয়ে কোনো স্ট্যাটাস না দিলেও বিয়ের ঠিক এক বছর পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাহাদী তার ওয়ালে দুজনের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘এই হচ্ছে আমার বউ যে আমার হাজারো ভুলের মাঝে, আমাকে সহ্য করে পার করে দিলো ১টি বছর, দোয়া করবেন যাতে সারাটা জীবন এই পাগলীটা আর আমি এক সাথে থেকে যেনো মরতে পারি, বউ অনেক ভালবাসি তোমায় আর কস্ট দেবোনা, শুভ বিবাহ বার্ষিকি আদরের পুতুল বউ আমার।’’

আবার তাদের বিয়ের যে কাবিননামা পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তাদের বিয়ে হয়েছে গত বছরের ৬ মার্চ। যেটি ছিল কোর্ট ম্যারেজ। অবশ্য গত বছরের শুরুতে মিডিয়ায় রটেছিল সিমলার বিয়ের খবর। জানা যায়, তার স্বামীর নাম মাহিবি জাহান। পেশায় ব্যবসায়ী। পরিবার নিয়ে থাকেন লন্ডনে। তবে মজার বিষয় ছিল, বর তার থেকে প্রায় ২০ বছরের ছোট! তবে এই বিষয়টিকে সিমলা স্রেফ গুঞ্জন হিসেবেই ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন।

এদিকে মাহাদী ওরফে পলাশের বাবা পিয়ার জাহান জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে সিমলা নামে এক মেয়েকে রাতের বেলা বাড়িতে নিয়ে আসে পলাশ। মেয়েটিকে চিত্রনায়িকা ও তার প্রেমিকা বলে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। দুই মাস পর আবার সিমলাকে বাড়িতে নিয়ে এসে বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিয়ের কথা সিমলাও আমাদের কাছে স্বীকার করে। তবে পলাশের এই বিয়েতে প্রবল আপত্তি করেন তারা। তিনি বলেন, বয়সে বড় মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ির লোকজন এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণে যে রাতে বাড়ি এসেছিল ওই রাতেই সিমলা ও পলাশ ঢাকায় চলে যায়।

মাহাদী ওরফে পলাশ চিত্রনায়িকা সিমলাকে বিয়ে করার আগে মেঘলা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে পলাশ বাবা-মায়ের অমতে ২০১৪ সালে মেঘলাকে বিয়ে করেছিলেন। মেঘলা বগুড়ার স্থানীয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপালের মেয়ে। তাদের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার সাতমাথা ভাইপাগলা মাজার এলাকায়। কিন্তু পলাশের উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনের কারণে সেই সংসার টেকেনি। তবে তাদের সংসারে আয়ান নামে আড়াই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালজুড়ে মাহাদী ও সিমলার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর স্ত্রী ও বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা সিমলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চলচ্চিত্র পরিচালক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, কিছু দিন আগে সিমলার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়ে (মিরা রোড) আছেন। সেখানেই টুকটাক কাজ করছেন বলে জানান তিনি। তবে বিয়ের পর লন্ডনে এখনো যাননি বলে জেনেছি আমি। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।

এদিকে মাহাদী ওরফে পলাশ আহমদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে। তার বাবা পিয়ার জানিয়েছেন, পলাশ তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পাস করে। পরে সে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে পড়া অবস্থায় সে ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। ছোটবেলা থেকেই তার ছেলে অবাধ্য ছিল। পলাশের বাবা জানান, সর্বশেষ একটানা ২৫ দিন বাড়ি ছিল পলাশ। এর আগে এতটা সময় সে বাড়িতে থাকেনি। এ সময় সে নিয়মিত নামাজ পড়ত ও আজান দিত। এটা দেখে আমরা মনে করেছি ছেলে সুপথে ফিরে এসেছে।  দুবাই যাওয়ার কথা বলে গত শুক্রবার বাড়ি ছেড়ে যায় পলাশ।

তারপর গত রবিবার ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টা করে মারা যান পলাশ আহমদ ওরফে মাহাদী।

পিয়ার জাহান জানান, রবিবার গভীর রাতে পলাশের ছবি নিয়ে পুলিশ বাড়িতে হাজির হলে তিনি ফেসবুকের ছবি দেখে পলাশ ওরফে মাহাদীকে নিজের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন।

 

 


আপনার মন্তব্য