Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৯ ২১:৪১

কাজের অভাবে বিদেশমুখী নায়িকারা

আলাউদ্দীন মাজিদ

কাজের অভাবে বিদেশমুখী নায়িকারা

বাণিজ্যিক ছবির বাজারে খরা চলছে দীর্ঘদিন। মানসম্মত ছবির অভাবে দর্শক সিনেমা হলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। সিনেমা হলের সংখ্যা এখন তলানিতে ঠেকেছে। নির্মাতাদের অভিযোগ- সিনেমা হল মালিকদের কারণে নাকাল হচ্ছেন প্রযোজকরা। তারা ছবি নির্মাণ করে আর পথে বসতে চাইছেন না। তাই ছবি নির্মাণের হার উদ্বেগজনক হারে কমেছে। প্রযোজক আর প্রদর্শকদের এই দ্বন্দ্বের জাঁতাকলে নিষ্পেশিত হচ্ছেন তারকারা। শুধু তারকা নয়, নির্মাতা, কলাকুশলী সবারই বেহাল দশা। যাদের সুযোগ-সামর্থ্য আছে তারা  গেছেন অন্য পেশায়। যাদের কোনো পথ নেই তারা অর্ধাহার-অনাহার এমনকি ভিক্ষাবৃত্তিও বেছে নিয়েছেন। এ অবস্থায় বেশ কয়েকজন নায়িকা নিজ দেশে চলচ্চিত্রের কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বা জমাচ্ছেন বিদেশে। এমন নায়িকাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- সিমলা, শাবনূর, অপু বিশ্বাস, রোদেলা জান্নাত, পূজা চেরী আর সিনিয়রদের মধ্যে শবনম, শাবানা, রোজিনা, ববিতাসহ অনেকে।

সিমলা গত বছরের নভেম্বরে চলচ্চিত্রের কাজে ভারত পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে ছবি নির্মাণ কমেছে। হাতে কাজ নেই। এভাবে কতদিন বেকার থাকা যায়। তাই বাধ্য হয়েই মুম্বাই এসে এখানকার ছবি ‘সফর’-এ কাজ করছি। আরও অনেক ছবির প্রস্তাব আছে। এ জন্যই মুম্বাইর মিরা রোডে ফ্লাট ভাড়া নিয়ে এখানেই বাস করছি। দেশে যখন চলচ্চিত্রের কাজ নেই আর এখানেই যখন প্রস্তাব পাচ্ছি তাই এখানেই থাকতে চাই। শাবনূর গত বছর অভিনয় শুরু করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘এত প্রেম এত মায়া’ ছবিতে। অভিনয়ের পাশাপাশি এ ছবির একটি গানের প্লেব্যাক করেছিলেন তিনি। নিয়মিত অভিনয়ের জন্য শারীরিক ফিটনেসও ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম। নতুন ছবির প্রস্তাব আসা তো দূরে থাক প্রযোজকের কারণে এ ছবির কাজই এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি তিনি। তার কথায় ছবি নির্মাণ নেই, নির্মাণ হলেও সিনেমা হলের পরিবেশের কারণে ব্যবসা নেই। সিনেমা হলের সংখ্যাও কম। এ অবস্থায় নিজে ছবি নির্মাণ করব সেই সাহসও পাচ্ছি না। তাই ঠিক করেছি পুত্র আইজানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায়ই থাকব। যদিও ঢাকায় আমার নিজের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আছে, তারপরও এখানে কর্মশূন্য অবস্থায় বসে থাকতে ভালো লাগছে না। আমি যেহেতু অস্ট্রেলিয়ারও নাগরিক সেহেতু ঠিক করেছি ছেলেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাব। সেখানে ওকে স্কুলে ভর্তি করাব আর বোনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনযোগ দেব। তবে মাঝে মধ্যে দেশে আসব। শাবনূর ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। অপু বিশ্বাস ২০১৬ সালে আড়াল ভাঙার পর থেকে গত তিন বছরে ‘শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ টু’ ছাড়া আর কোনো ছবির কাজ হাতে নিতে পারেননি। তার কথায় অনেক প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু মানের সঙ্গে আপস করতে পারছি না বলেই ওই প্রস্তাবে সাড়া দিতে পারছি না। কলকাতার ‘শর্টকার্ট’ ছবির শুটিং শেষ করেছি। সেখানে আরও ছবির প্রস্তাব রয়েছে। স্ক্রিপ্ট দেখতে ও কয়েকটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করতে ২৩ মার্চ কলকাতা যাচ্ছি। গত মাসে কলকাতায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে সে দেশের সরকারের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও যোগ দিয়েছিলেন সেই উৎসবে। সেখানকার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয় আমার অভিনীত ‘রাজনীতি’ ছবিটি। এটি সেখানে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর থেকেই কলকাতার ছবিতে প্রচুর প্রস্তাব পাচ্ছি। যদি ব্যাটে-বলে মিলে যায় তাহলে নিজ দেশের কৃষ্টি-কালচারকে সমুন্নত রেখে সেখানকার ছবিতেই থিতু হব।

এদিকে চলচ্চিত্রের নবাগত নায়িকা রোদেলা জান্নাত তার শাহেনশাহ ছবির কাজ শেষ করে গত মাসে মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন। সেখানে অবশ্য আগে থেকেই তিনি পড়াশোনা করছেন। শাহেনশাহতে অভিনয় করার সময় তার ইচ্ছা ছিল আরও ছবিতে কাজ করবেন তিনি। কিন্তু তার কথায় সিনিয়র নায়িকারাই ছবির অভাবে কাজ পাচ্ছেন না আমি পাব কোথা থেকে। এ অবস্থায় দেশে ছবির জন্য অপেক্ষা না করে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা কন্টিনিউ করাকেই শ্রেয় মনে করছি। এদিকে জাজের আবিষ্কার নায়িকা পূজা চেরীর হাতেও এখন তেমন কাজ নেই। একটি সূত্র জানায়, পূজা যেহেতু কলকাতার সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার দুটি ছবিতে কাজ করেছেন সেহেতু এখানে কাজের অভাবে কলকাতায় পাড়ি জমাতে পারেন তিনি। কারণ তার নূরজাহান, পোড়ামন টু, দহন, প্রেম আমার টু ছবিগুলোতে তার অভিনয় কলকাতার দর্শকদের নজর কেড়েছে। অবশ্য এ রিপোর্ট লেখার সময় পূজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তার সিদ্ধান্ত সরাসরি জানা যায়নি। এত গেল সাম্প্রতিক সময়ের নায়িকাদের কাজের অভাবে বিদেশ পাড়ি জমানোর চিত্র। এর আগে সিনিয়র নায়িকাদের অনেকে একই কারণে বিদেশে গেছেন। কেউ সেখানে স্থায়ী হয়েছেন কেউবা আবার আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন। এই নায়িকাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- শবনম, ববিতা, রোজিনা প্রমুখ। ২০১৪ সালে শবনমকে ‘খোদার পরে মা’ ছবিটিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন নির্মাতা মালেক আফসারী। গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় তিনি এ ছবি এবং পরবর্তীতে আর কোনো ঢাকাই ছবিতে কাজ করেননি। পাকিস্তানের একটি টিভি মেগা সিরিয়ালের কাজে সেখানে চলে যান তিনি। ববিতা ২০১৫ সালে সর্বশেষ ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিতে অভিনয় করেন। এরপর গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় ঢাকার ছবিতে অভিনয় থেকে অবসর নেন। এখন বছরের বেশির ভাগ সময় কানাডায় অধ্যয়নরত পুত্র অনিকের কাছে থাকেন তিনি। নব্বই দশকের শেষদিক থেকে মানসম্মত ছবির অভাবে ইংল্যান্ড পাড়ি দিয়ে প্রবাস জীবন শুরু করেন রোজিনা। ২০০৫ সালে দেশে এসে প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা মতিন রহমানের ‘রাক্ষুসী’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ব্যস, ওই পর্যন্তই। এরপর মানসম্মত ছবির অভাবে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন এবং বেশির ভাগ সময় প্রবাস জীবন         কাটান রোজিনা।


আপনার মন্তব্য