শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৮

চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা নেই সিনিয়র অভিনেত্রীদের

চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা নেই সিনিয়র অভিনেত্রীদের

ষাটের দশক থেকে  রুপালি পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বেশ কজন জনপ্রিয় নায়িকা, দর্শকমন জয় করে অভিনয় করেছেন। নানা খেতাবেও ভূষিত হয়েছেন। লাভ করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। আজ তাদের চলচ্চিত্রে নেই কোনো ব্যস্ততা। এমন কয়েকজন নায়িকাকে নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

শবনম

ষাটের দশকে এহতেশাম শবনমকে নায়িকা করে নির্মাণ করেন ‘চান্দা’ ছবিটি। এরপর প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তান চলে যান। সেখানকার চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে ফেরেন এবং কাজী হায়াৎ-এর ‘আম্মাজান’ ছবিতে অভিনয় করেন। এরপর অভিনয় থেকে দূরে সরেন তিনি।  এখন বাসায় ধর্মকর্ম আর সংসারের কাজকর্ম নিয়েই কাটছে শবনমের অবসর সময়।

 

সুচন্দা

 ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে আসা সুচন্দা আশির দশকে হঠাৎ করেই অভিনয় থেকে বিদায় নেন। ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন ‘হাজার বছর ধরে’। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, প্রযোজক, পরিচালক।  বর্তমানে ছেলে-মেয়ে আর নাতিদের নিয়ে সময় কাটছে দর্শকনন্দিত এই অভিনেত্রীর।

 

কবরী

ষাটের দশকে প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন কবরী। এরপর একটানা ২০০০ সালের প্রথম পর্যন্ত  অভিনয় করেন তিনি। ‘আয়না’ শিরোনামের একটি ছবিও পরিচালনা করেন। এরপর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং এমপিও নির্বাচিত হন। বর্তমানে সংসার ও সামাজিক কর্মকান্ড, টিভি নাটক নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে এই অভিনেত্রীর।

 

সুজাতা

ষাটের দশকে সালাউদ্দীন পরিচালিত ‘রূপবান’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সুজাতা। এরপর অভিনয় এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ২০০০ সালের প্রথম পর্যন্ত। বর্তমানে ছোট পর্দার নাটকে অভিনয় এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

 

শাবানা

১৯৬৭ সালে এহতেশামের ‘চকোরী’ ছবিতে শাবানা নায়িকার ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করেন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়, ২৫টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ১১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছবিটিতে ছিল তার শেষ অভিনয়। এরপর ব্যক্তিগত কারণে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান এবং আমেরিকা প্রবাসী হন। মাঝে-মধ্যে দেশে আসেন তিনি। মূলত ধর্মকর্ম ও সংসার নিয়েই কাটছে বিউটিকুইনখ্যাত শাবানার অবসরের দিনকাল।

 

ববিতা

১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন ববিতা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে নার্গিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর গল্পের মানহীনতার কারণে চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান তিনি। এখন সমাজকল্যাণমূলক কাজ নিয়েই দেশ-বিদেশে ব্যস্ত রয়েছেন। ববিতা বছরের বেশির ভাগ সময় এখন কানাডায় তার পুত্র অনিক ও প্রবাসী ভাইদের সঙ্গে থাকেন। দেশে থাকলে গুলশানের বাড়িতে ছাদে বাগান পরিচর্যা নিয়েই সময় কাটে তার।

 

অঞ্জু ঘোষ

‘বেদের মেয়ে জোছনা’খ্যাত অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। ১৯৮২ সালে ‘সওদাগর’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় তার অভিষেক। ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবিটি তার অভিনয় জীবনের সেরা ছবি। আশির দশকের শেষ ভাগে কলকাতা পাড়ি জমান তিনি। এরপর টালিগঞ্জের চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন। একই সঙ্গে যাত্রাপালাও করেন। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাঈদুর রহমান সাঈদের ‘মধুদা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ঢাকায় আসেন এবং এক সপ্তাহ থেকে কলকাতা চলে যান। বর্তমানে তিনি কলকাতায় যাত্রাপালা নিয়ে মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

রোজিনা

১৯৭৬ সালে কালিদাসের ‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন রোজিনা। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেন তিনি। ২০০০ সালের শুরুতে মতিন রহমানের ‘রাক্ষুসী’ ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি।

পারিবারিক কারণে দাপুটে এ অভিনেত্রী মিডিয়ার অন্তরালে চলে যান। বর্তমানে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে আছেন। আমেরিকায় প্রবাস জীবন শুরু করলেও বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। ২০১৯-২০২০ মেয়াদে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির জুরি বোর্ডের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন রোজিনা।

 

অঞ্জনা

সুনয়না খ্যাত নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী অঞ্জনা চলচ্চিত্রে আসেন ১৯৭৬ সালে। শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ ছবিটি ওই বছর মুক্তি পায়।

এরপর টানা ২০০৮ সাল পর্যন্ত বড় পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে যান এবং নৃত্য ও অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তার সর্বশেষ অভিনীত ছবি হলো ‘হাঙ্গামা’। এরপর ভালো গল্প ও চরিত্রের অভাবে বড় পর্দার অভিনয় থেকে দূরে সরেন তিনি।

বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ড, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন, নাচের পারফর্ম এবং একমাত্র পুত্র মনিকে নিয়ে কাটছে তার সময়।


আপনার মন্তব্য