Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৮

তাদের চোখে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ (বিবিএফএ)। গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রী হলে বসেছিল এই অ্যাওয়ার্ডের জমকালো আসর। এতে যোগ দিতে ভারত থেকে এসেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকাররা। তাদের চোখে কেমন ছিল বাংলাদেশ। চলচ্চিত্রকারদের সেই অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেনÑ আলী আফতাব ও পান্থ আফজাল

তাদের চোখে বাংলাদেশ

রঞ্জিত মল্লিক

এ দেশের মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ

প্রায় ২০ বছর আগে এখানে একটি ছবিও করেছিলাম। আমরা বাংলায় কথা বলি প্রায় ২২ কোটি মানুষ।

বাংলাদেশ আমার অনেক আপন জায়গা। এবার যে কারণে এ দেশে এসেছি, অর্থাৎ ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান সত্যি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এ দেশের মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। পৃথিবীর বহু জায়গায় গেছি, কিন্তু এ দেশের মতো এত ভালো আতিথেয়তা কোনো দেশে পাইনি। যে দেশেই  গেছি সেখানকার বাঙালিরা আমার কাছে ছুটে এসেছেন। আমার খবর নিয়েছেন। এই বাংলার এসব বিষয় আমার ভালো লেগেছে। প্রায় ২০ বছর আগে এখানে একটি ছবিও করেছিলাম। আমরা বাংলায় কথা বলি প্রায় ২২ কোটি মানুষ। আমার মনে হয় আমরাই শ্রেষ্ঠ ভাষার মানুষ, যারা বাংলায় কথা বলি। আমরা যদি যৌথভাবে ছবি করি আর তা যদি ২২ কোটি মানুষ দেখে, ভাবা যায় ছবিটি কী পরিমাণ ব্যবসা করবে। অন্যদিকে আমার কাছে মনে হচ্ছে এই দেশটির দিন দিন অনেক উন্নতি হচ্ছে।

 

অরিন্দম শীল

বাংলাদেশ আমাকে বড্ড টানে

আসল বাংলাদেশ কিন্তু ঢাকার বাইরে। সেই বাংলাদেশটা আমাকে বড্ড টানে। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই ঘোরা হয়েছে আমার।  

একটা সময় তো একসঙ্গে ছিলাম আমরা। ভৌগোলিক সীমারেখা তো অনেক হিসাবের অদল-বদল করে দেয়; আবার কিন্তু অনেক কিছুর করে না। যেটা করে না সেটা সংস্কৃতির। যেটা করে না সেটা বোধ এবং সেই বোধটা বোধহয় একে অপরের প্রতি আমাদের আছে। বাংলাদেশের প্রতি আমার সেই সফট কর্নারটা এখনো আছে। আমি একাধিকবার এখানে এসেছি, আসি। এখানকার সঙ্গে যৌথভাবে চলচ্চিত্র নিয়ে উদ্যোগ ভীষণভাবে আমি নিয়েছিলাম। কিন্তু হয়নি, তা আলাদা ব্যাপার! এই বাংলাদেশের মধ্যে সুন্দরবন, কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি বা সিলেট থেকে শুরু করে সুন্দর ও অপূর্ব সব মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ বলতে শুধু ঢাকার কথাই বলি। কিন্তু আসল বাংলাদেশ কিন্তু ঢাকার বাইরে। সেই বাংলাদেশটা আমাকে বড্ড টানে। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই ঘোরা হয়েছে আমার।

 

ব্রাত্য বসু

দেশটাকে যতই দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি

এই দেশটাকে আমি দুই ভাগে ভাগ করতে চাই না। এটা তো আমারও দেশ। এই দেশটিকে যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আমরা যৌথ প্রযোজনায় ছবি করছি কিন্তু এই প্রথম যৌথ প্রযোজনায়  কোনো অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করছি। এটি দুই বাংলার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এখন কিন্তু  গ্লোবালাইজেশনের যুগ। কোনো কিছুই আমাদের জানার বাইরে নেই। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে ফেসবুক অনেকটা বাঁদরের হাতে পারমাণবিক বোমার মতো হয়ে গেছে। বিদেশেও ফেসবুক ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সে দেশের মানুষ ১৮ ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করে না। ভার্চুয়াল দুনিয়ার প্রতি এই যে টান তা আগে ছিল না। এটা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির জন্য বড় ধরনের বাজে দিন বলা যেতে পারে। হয়তো এখন আমরা আগের থেকে অনেক বেশি জানতে পারছি।

 

কৌশিক গাঙ্গুলী

বাংলাদেশ আমার প্রিয় জায়গা

আমার বাবার জন্ম এ দেশের কুমিল্লায়। কাজেই এটা আমারও দেশ। কিন্তু আমার বিসর্জন ও বিজয়া ছবি দুটিতেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর আবহকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশ আমার খুব দুর্বল জায়গা। আমার বাবার জন্ম এ দেশের কুমিল্লায়। কাজেই এটা আমারও দেশ। যদিও রাজনীতি আর ধর্মের কারণে দেশটি ভাগাভাগি হয়েছে। কিন্তু আমার বিসর্জন ও বিজয়া ছবি দুটিতেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর আবহকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি আমার শেকড়ের টান। সেই টান থেকে বাংলার প্রতি আমার সম্মান কাজ করে। যেমন সে দেশের একটি গাড়ির নাম্বারপ্লেটও বাংলা ভাষায় লেখা থাকে। এ বিষয়টি আমার কাছে খুব ভালো লাগে। পাশাপাশি কষ্ট হয় আমরা যে ছবি নির্মাণ করি তা এই দেশের দর্শককে দেখাতে পারি না। কারণ তা চোরাইপথে পাইরেটেড হয়ে এ দেশে ঢুকছে। কিন্তু এ ছবিগুলোর জন্য এই দেশ থেকে অনেকে আমাকে ফোন করছে, নানা ধরনের উপহার পাঠাচ্ছে। আমি অবাক হয়ে যাই এত মানুষ আমার ছবি ভালোবাসে, কিন্তু এ ছবিগুলো আমরা নিজেরা গিয়ে দেখাতে পারছি না। তার পাশাপাশি বাংলাদেশের যেসব পরিচালক রয়েছেন আমি চাই তারাও গিয়ে ওখানে ছবি দেখাবেন। সেখানেও তাদের ছবি ভালো চলবে। বাংলাদেশ নিয়ে আমি আশাবাদী। এখানকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অনেক উন্নত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমকে যদি দেখি, পৃথিবীর যে কোনো দেশের দলকে হিমশিম খাইয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি দেখছি ফুটবল টিমও এখন ভালো খেলছে। কলকাতার নাম্বার ওয়ান ক্লাবগুলোকেও তারা হিমশিম খাইয়ে দিচ্ছে। এসব কারণে মনে হয়, বাংলাদেশের বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ একটি অপূর্ব জায়গায় পৌঁছেছে এবং আমি খুব গর্বিত যারা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলে।

 

ঋতাভরী চক্রবর্তী

বাংলাকে আলাদা মনে করি না

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি। সবকিছু মিলিয়ে খুবই ভালো লাগছে। আর আমি বাংলাদেশে প্রথমবার এলাম, ঢাকায় প্রথমবার এলাম। যদিও আমি কলকাতায় বড় হয়েছি। কাজ করেছি, কাজ করে চলেছি এখনো। তারপরও আমি তো আসলেই বাঙাল...(হাসি)! আমার দাদু ছিলেন পাবনা জেলার মানুষ এবং দিদা ছিলেন মুক্তাগাছার। সেই হিসেবে আমার রুট বা শিকড় কিন্তু এই ঢাকাতেই। ঢাকাতে বলব না, বাংলাদেশে। অনেক আত্মœীয়-স্বজনই ঢাকাতে রয়েছেন। আমি তো খুবই এক্সাইটেড ছিলাম যে, সবার সঙ্গে দেখা হবে, বাংলাদেশে আসাও হবে। যেখানে আমার শিকড়, সেখানকার খাবার খাওয়া হবে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, দুই বাংলা এর মাধ্যমে এক হচ্ছে। যে বাংলা ১৯০৫ সালে যিনি বাঙালি নয় তিনি ভাগ করেছিলেন। আমি কিন্তু মনে মনে সেটাকে কোনোদিনই মেনে নিতে পারিনি। বেড়ে উঠেছি এভাবে। আমি কিন্তু ইতিহাসের ছাত্রী। যেখানে বাংলাকেই আলাদা মনে করি না, সেখানে কীভাবে দুই বাংলার সিনেমাকে আলাদা ভাবব?

 

ঋতুপর্ণা

বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত

আমার মনে হয় এটি অসাধারণ একটি উদ্যোগ। যারা এই উদ্যোগটি নিয়েছেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। দুই দেশকে এক করার অনেক রকম অঙ্গীকার, প্রচেষ্টা বা প্রত্যয় থাকে। আমরা কিছুদিন আগেও এনএবিসি মানে আমেরিকাতে  যেটা হয় বঙ্গসম্মেলন, সেখানে দুই বাংলাকে এক করতে একটি অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম করার প্ল্যান করি। কিন্তু এভাবে এত বড় প্লাটফর্মে দুই দেশকে এক করতে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমার কাছে মনে হয়, দুই বাংলা না বলে, সমগ্র বাংলাকে এক করে যে অ্যাওয়ার্ড-সেটার মাহাত্ম্য অন্যরকম। এটা কিন্তু সবার কাছে একটি আকাক্সিক্ষত প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মে নবীন-প্রবীণ অনেকেই জায়গা পাবে। শিল্পীদের সবচেয়ে বড় সম্মান হলো তার আইডেন্টিটি। এরকম অ্যাওয়ার্ডে যদি তারা পরিচিতি পায়, সেটা আমাদের কাছে খুবই গর্বের। আমি আজকে কিন্তু পারফর্মও করছি। আমি খুব এনথোজিয়াস্টিক্যালি এবং অনেক আনন্দ করে এটিতে শামিল হয়েছি। আমি মনে করি, এই অ্যাওয়ার্ডের এমনই একটি লিগ্যাসি আছে, যেটা শুরু হওয়ার পর হিস্ট্রিতে ঢুকে যায়। এই ইতিহাসের সঙ্গে যেদিন আমরা থাকব না, সে সময় পরবর্তী প্রজন্ম এটির মাধ্যমে লাভবান হতে পারবে। বাংলাদেশ কিন্তু এখন অনেক পরিণত এবং বাংলাদেশি সিনেমার নতুন নতুন দ্বার এখন উন্মোচিত হচ্ছে। অবশ্য প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। একসময় বাংলাদেশি ছবিতে যেমন ক্রেজ ছিল, এখন কন্টেন্ট রিলেটেড ছবি নির্মাণ নিয়ে মানুষ চিন্তা করছে। ইন্ডিয়াতেও ভিষণভাবে এটি শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেও শুনলাম, নতুন আরেকটি সিনেপ্লেক্স বাংলাদেশে ওপেনিং হয়েছে। সেটা খুবই আনন্দের কথা এবং এফডিসিতেও নানা রকম প্রচেষ্টা চলছে বলে জেনেছি। সবকিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। তো কোথাও না কোথাও ডিজিটালি চেঞ্জ হচ্ছে! আর বাংলা ছবি এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েও পড়ছে।

 

পাওলি দাম

এ দেশের প্রতিটি ছবি আমার প্রিয়

বাংলাদেশে এত অসাধারণ কিছু জায়গা আছে যা আর কোনো দেশে নেই। এ ছাড়া এই দেশের খাবারের প্রতি আমার লোভ সবসময় বেশি। আমি বাংলাদেশের খাবার অনেক ভালোবাসি। বিশেষ করে এই দেশের শুঁটকি ও ইলিশ মাছ আমার অনেক পছন্দের।

যৌথ প্রযোজনায় অনেক ছবি হয়েছে, আমি নিজেই একটা করেছি ‘মনের মানুষ’। তারপর বাংলাদেশের ছবি ‘সত্তা’। এটি পরিচালনা করেছেন কল্লোল। এ দেশে অনেকবারই আসা হয়েছে। এই দেশটাকে আমার অনেক ভালো লাগে। কিন্তু যৌথ প্রযোজনায় প্রথম কোনো অ্যাওয়ার্ড, এটাকে আমি বলব বড় ধরনের পদক্ষেপ। দুটো দেশের এত মিল যে পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। এই দেশের প্রতিটি ছবি আমার ভালো লাগে। আর সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে লোকেশন। বাংলাদেশে এত অসাধারণ কিছু জায়গা আছে যা আর কোনো দেশে নেই। এ ছাড়া এই দেশের খাবারের প্রতি আমার লোভ সবসময় বেশি। আমি বাংলাদেশের খাবার অনেক ভালোবাসি। বিশেষ করে এই দেশের শুঁটকি ও ইলিশ মাছ আমার অনেক পছন্দের।


আপনার মন্তব্য