একটি ছোট ছেলের চোখে দেখা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে তৈরি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। মুহম্মদ জাফর ইকবালের গল্প অবলম্বনে পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, গাজী রাকায়েত, ওয়াহিদা মল্লিক, আরমান পারভেজ মুরাদ, হুমায়রা হিমু, এনামুল হক চৌধুরী, জয়িতা আফনান, রায়হান ইফতেশাম চৌধুরী প্রমুখ। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার চেতনা কিশোরদের মনকেও যে আন্দোলিত করে সেই চিত্র ফুটে উঠেছে ছবির কাহিনিতে। গল্পটি শুরু হয়েছে রাশেদ ও তার চার বন্ধুকে নিয়ে। হিন্দু হওয়ার অপরাধে প্রাণ বাঁচাতে, পরিবার-পরিজন বাঁচাতে দিলীপের বাবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। যাওয়ার আগে নিজের জমির দলিলটা মুসলিম বন্ধুর কাছে রেখে যান। দিলীপের বাবার স্বদেশ ছাড়ার দৃশ্য সে সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে। বিদায় নেওয়ার দৃশ্যে দিলীপ তার বন্ধু ইবুকে বলে, আমাদের পরিবারে সবার একটা করে মুসলমান নাম রাখা হয়েছে। আমার নাম রেখেছিল রকিবুল ইসলাম। ইবু তখন বলে ওঠে, সে তো আমার নাম। দিলীপ বলে, তুই আর আমি তো একই কথা। বন্ধু দুজন পরস্পরকে জড়িয়ে কাঁদে। দিলীপের মায়ের বোরকা পরা মুখ অচেনা ও উদ্ভট লাগে ইবুর কিশোর মনে। তার বাবা-মা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকে। ছবির প্রধান চরিত্র ইবুর বন্ধু রাশেদ রাজনীতি সচেতন কিশোর। সে তার বন্ধুদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানায়। সবাইকে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করে। এই কিশোর দল কখনো বাড়ি থেকে পালিয়ে মুক্তিবাহিনীকে মিলিটারি ক্যাম্পের অবস্থান সংক্রান্ত ম্যাপ পৌঁছে দেওয়া, জীবনবাজি রেখে শরীরে গুলি বেঁধে মুক্তিবাহিনীকে পৌঁছে দেওয়ার মতো সাহসী কাজ করে। এক সময় মিলিটারির বিরুদ্ধে সরাসরি অপারেশনে অংশগ্রহণ করে এবং সবশেষে কমান্ডো স্টাইলে যুদ্ধাহত শফিককে হাসপাতাল থেকে মুক্ত করার দুঃসাহসিক কার্যক্রম চালায়। চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র রাশেদ সব পরিকল্পনার প্রধান হিসেবে কাজ করে। প্রত্যেক অপারেশনের আগে বন্ধুদের বলে, ‘দেশের নামে শপথ কর, মরে গেলেও কাউকে কিছু বলবি না।’ তারপর একে একে একত্রিত হওয়া মুষ্টিবদ্ধ হাত শপথের সত্যিকার শক্তিকে প্রবাহিত করে দর্শক হৃদয়ে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের অকুতোভয় সাহস উজ্জীবিত করে এই প্রজন্মের তরুণকে। আহা আমি কি পারতাম যুদ্ধে যেতে দেশের জন্য? অথবা এখনো কি পারি যদি তেমন সংকটে পড়ে দেশ? কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম দিকে দু-একটি জায়গায় কিছুটা দুর্বল মনে হলেও ছবির পরিণতির সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও জ্বলে উঠতে দেখা যায় পরিণত ভঙ্গিমায়।