বলিউডের অন্যরকম প্রতিভাধর অভিনেত্রী ছিলেন স্মিতা পাতিল। আর্ট এবং কমার্শিয়াল দুই ঘরানার ছবিতেই দক্ষ অভিনয় দিয়ে সহজে দর্শক নজর কাড়েন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়ে ১৯৮৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হয় তাকে। এ অকাল প্রয়াণের জন্য তার পরকীয়া ও বিয়েকেই দায়ী করেন অনেকে। স্মিতা আড়াল করেননি বিবাহিত রাজ বব্বরের সঙ্গে তার সম্পর্ক। ‘ভিগি পলকে’ ছবির সেটে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। রাজ আগেই বিবাহিত ছিলেন এবং প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি স্মিতাকে বিয়ে করেন। তার বোন মান্যতা পাতিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নিজের পরিসরে স্মিতা ছিলেন নিঃসঙ্গ। রাজ বব্বরের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারেননি, আবার, রাজ-নাদিরার সংসার ভাঙার জন্য অপরাধবোধ তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে। ৩১ বছরে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই স্মিতার মৃত্যু হয়। দিনটা ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৬। এখনো বলিউডের বুকে স্মিতা পাতিলের মৃত্যুর ক্ষত। হিন্দি সিনেমার দুরন্ত এই অভিনেত্রীর পরিণতি যে এমনটা হবে, তা ভাবলে এখনো চোখের কোলে জল আসে। কিন্তু নিয়তির লেখা কে মুছবে? সবাইকে চমকে দিয়ে ১৩ ডিসেম্বর হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করতে করতে চলে গেলেন স্মিতা। স্মিতার জীবন বরাবরই টালমাটাল। বরং বলা ভালো তার জীবনজুড়ে শুধুই ঝড়। কখনো বিবাহিত রাজ বব্বরের সঙ্গে তার প্রেম, বিরহ ও এই প্রেম ঘিরে অসম্মান। কখনো আবার গোপনেই ভেঙে ফেললেন সংসারকে নিয়ে দেখা তার স্বপ্ন। মৃত্যুও ঠিক আগের দিনও যেন একটু একটু করে স্বপ্ন বুনছিলেন এবং আতঙ্কে ভুগছিলেন। ১২ ডিসেম্বর। কয়েকদিন আগে স্মিতার কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে পুত্রসন্তান। সাধ করে নাম রেখেছিলেন প্রতীক। কিন্তু মা হওয়ার পর থেকেই নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। জ্বর কমছিলই না তার। ১২ ডিসেম্বর সকালের কথা। পাশে শুয়ে গভীর ঘুমে রাজ বব্বর। এদিকে জ্বর বাড়ছে স্মিতার শরীরে। হঠাৎ করেই ছোট্ট প্রতীক কেঁদে ওঠে। যাতে রাজের ঘুম না ভাঙে, অসুস্থ অবস্থাতেই, সন্তানকে কোলে নিয়ে বেডরুম থেকে বেরিয়ে যান স্মিতা। গায়ে চাদর জড়িয়ে কোলে নিয়ে কান্না থামান ছোট্ট ছেলের। বিকাল গড়ায়, স্মিতা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর আরও বাড়তে থাকে। ডাক্তার বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে স্মিতা। কিন্তু স্মিতা নাছোড়বান্দা। ছোট্ট বাচ্চাকে ছেড়ে সে হাসপাতালে যাবে না। শেষমেশ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন মধ্যরাতে দুনিয়া কাঁপানো খবর। প্রয়াত অভিনেত্রী স্মিতা পাতিল।