প্রতিভা অনেকের মাঝেই থাকে, কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রতিভার যথাযথ পরিচর্যা করতে পারেন। আবার প্রতিভা থাকলেই যে জীবনে সাফল্য নিশ্চিত, তা-ও নয়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বিপাশা হায়াত সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি শিল্পের নানা শাখায় নিজেকে মেলে ধরেছেন এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বাতন্ত্র্যের ছাপ রেখেছেন। সম্প্রতি নিজের মা শিরীন হায়াতকে নিয়ে আবেগঘন অনুভূতির কথা বলেছেন বিপাশা। তার কথায় উঠে এসেছে এক নিখুঁত মস্তিষ্কসম্পন্ন, শুদ্ধ জীবনযাপনকারী মানুষের প্রতিচ্ছবি, যিনি শুধু একজন মা নন, বরং একজন সাধক, একজন সৌন্দর্য পুজারী। বিপাশার ভাষায়, শিরীন হায়াত এমন এক মানুষ, যিনি পৃথিবীর সব কিছুর ভিতরেই শিল্প, সৌন্দর্য ও শুদ্ধতার সন্ধান করেন এবং চারপাশের মানুষদের আজীবন শিল্পকলার আলোর পথে হাঁটার সাহস জুগিয়ে চলেছেন। মায়ের সঙ্গে নিজের একান্ত আলাপচারিতার কথাও ভাগ করে নেন বিপাশা। একটি হাতে বোনা সোয়েটার চাওয়ার পর মায়ের প্রশ্ন ছিল, ‘আমি মরে যাব বলে স্মৃতি রাখবে?’ সেই কথার উত্তরে বিপাশা জানান, তিনি শুধু একটি পোশাক চাননি; চেয়েছিলেন সেই মানুষের হাতে তৈরি কিছু, যার কারণে তার অস্তিত্ব, যার কারণেই তার জীবনের সব ভালো দিকের জন্ম। এই সোয়েটার তাই নিছক একটি বস্তু নয়, বরং মা ও মেয়ের ভালোবাসা, ত্যাগ আর শিল্পবোধের এক জীবন্ত স্মারক। বহু নাটকীয় ঘটনার পর সেই সোয়েটার সাতসমুদ্র পেরিয়ে বিপাশার কাছে পৌঁছে যায়। মায়ের ভালোবাসায় বোনা সেই উষ্ণতা যেন দূরত্বের সব সীমা ভেঙে দিয়েছে। এই অনুভূতির শেষ প্রান্তে এসে রবীন্দ্রনাথই যেন হয়ে ওঠেন চূড়ান্ত আশ্রয়- ‘ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে!’ মায়ের ভালোবাসা, শিল্প আর আত্মত্যাগে গড়া এই সম্পর্কই বিপাশা হায়াতের জীবনের সবচেয়ে গভীর শক্তি।