দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্যান্ড দল সোলসের অন্যতম সদস্য ও গায়ক-অভিনেতা পার্থ বড়ুয়া। অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। সিনেমা, নাটক এবং ওটিটিতে সমানতালে অভিনয় করে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল
নতুন বছরে কী নিয়ে ব্যস্ততা?
এখন গান নিয়েই সব ব্যস্ততা। গানই করছি আমার ব্যান্ড সোলসের সঙ্গে। মূলত স্টেজ শো নিয়েই ব্যস্ততা বেশি। গত বছরের শেষে বিটিভিতে ব্যান্ড সোলস গান পরিবেশন করেছে। শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ভাইয়ের কথায় ও ফোয়াদ নাসের বাবুর সুরে ১০টি ব্যান্ড গান করেছে। তার মধ্যে সোলসও ছিল। এই তো ১০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আইটি স্কুলের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা কনসার্ট করলাম। ১৩ তারিখে আইক্যাব মেম্বারস নাইটসে কনসার্ট করেছে সোলস। ১৫ তারিখে কক্সবাজারে শো করেছি। এরপর ১৬ তারিখে আরেকটি করেছি শো। আর আগামী ২৩ জানুয়ারিতে এসএসসি ২০০১ ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব এসএসসি-০১’র উদ্যোগে পূর্বাচলের স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাসোসিয়েশনের সপ্তম বার্ষিক মিলনমেলা ও সিলভার জুবিলি অনুষ্ঠান। যেখানে আমাদের ব্যান্ড সোলস পারফর্ম করবে। সেখানে আরও গাইবে ব্যান্ড গায়েন এবং ডিজে মারুফ। ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে একটি করপোরেট শো রয়েছে। আরও অনেক কনসার্টের পরিকল্পনা রয়েছে সামনে। সব মিলিয়ে অনেক ব্যস্ততায় কাটছে।
আপনার কাছ থেকে আরও বেশি গান আশা করেন শ্রোতারা...
গান তো নিয়মিতই গাইছি ব্যান্ড সোলসের সঙ্গে। দেখুন, আমরা যখন সোলসের ৫০ বছর শুরু করেছি তখন থেকে নিয়মিতই কিন্তু গান বের করছি। আমরা এ পর্যন্ত বেশ কিছু গান ছেড়েছি। আরও ছাড়ব। বেশির ভাগই নতুন গান। ইনক্লুডিং যতটুকু ভিজ্যুয়াল অ্যাড করা যায়। গান করছি তবে আগের মতো যেটা হয় এখন তো মানুষ অনেক বিজি। মানুষের লাইফ বিজি, প্রচুর চ্যানেল। প্রচুর ইউটিউব চ্যানেল, প্রচুর টেলিভিশন। তো মানুষ তো আসলে প্রচুর অপশন নিয়ে থাকে। আগে একটা প্ল্যাটফর্ম থেকে গান ছাড়ত। এরপর যখন টেপ, সিডি ছিল, তখন মানুষ একটা জায়গাতে ফোকাস হয়ে একটা ভালো গান পেত। এখন তো নেটদুনিয়ায় প্রতিদিন অজস্র্র গান বের হচ্ছে। তো ওখানে টিকে থাকাটা আসলে অনেক ডিফিকাল্ট।
নিজেও একটা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত। এসব প্ল্যাটফর্ম কতটা সম্ভাবনার?
দেখুন আমি একটু স্পষ্ট করে কথা বলতে চাই। যেটা আমি আগেও বলেছি। যেই রিয়েলিটি শো বলেন বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যে প্ল্যাটফর্মের কাজ হয় সেগুলো মূলত তাদের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্যই হয়। মিউজিকটা সেখানে একটা কনটেন্ট মাত্র। সেখানে যারা মিউজিশিয়ান কাজ করে তারা অনেক আবদ্ধ থেকে কাজ করে। আজকাল তো ভিজ্যুয়ালেও অনেক একটা ব্যাপার। কিন্তু সবকিছুরও পরও দিনশেষে ব্র্যান্ডিংটাই মূল। এটাকে ব্যবসা বলা যেতে পারে। তো ওখানটায় খুব কম প্রোডাকশনই কিন্তু মৌলিক গান নিয়ে কাজ করে। আর যারা প্রোডাকশনগুলোতে মৌলিক গানগুলো নিয়ে কাজ করতে চায় তাদের নিয়ে মূল সমস্যা হলো ওরা গানের পুরোটাই নিয়ে যেতে চায়। পুরো রাইটস নিয়ে যেতে চায়।
উৎসবভিত্তিক গানের এখনো অভাব। এটা কি আমাদের দৈন্যতা?
দৈন্যতা তো কিছুটা চলছেই। আমাদের নিয়েই তো ইন্ডাস্ট্রি। তো যাই চলছে সেটারও দায়ভার কিন্তু আমাদেরই। আমাদের নিজেদের দোষ তো অনেক রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, আমি ঠিক সৎভাবে কাজগুলো করতে চাই না। এটা হচ্ছে আমাদের প্রথম প্রবলেম। সৎভাবে কাজ করতে চাইলে কাজ যে করা যায় না তাই ঠিক নয়। মিউজিশিয়ান থেকে ধান্দাবাজি লোকদের চলাফেরাটা ইন্ডাস্ট্রিতে খুবই বেশি এখন। একটা ধান্দাবাজের সঙ্গে তো আমি পেরে উঠব না। আমি তো কাজ করব।