অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু, এরপর অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাটকে থিতু হন। ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছেন ছোট পর্দায়ই। মাসের ৩০ দিনই শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি।
তানিয়া বৃষ্টি অভিনীত এ বছরের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত নাটক ছিল ‘সাইফুল লাইব্রেরি’। অপূর্ণ রুবেলের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন রুবেল আনুশ। নতুন বছরের শুরুতেই নাটকটি দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রকাশের ১০ দিনেই ১০ লাখের অধিক দর্শক দেখেছেন। প্রচলিত ঘরানার বাইরে থাকা গল্পের কারণেই নাটকটি আলাদা করে দর্শকের নজর কেড়েছে। এতে তানিয়ার বিপরীতে কাজ করেছেন খায়রুল বাসার। এ জুটির সর্বশেষ নাটক ‘চাবিওয়ালা’ ভিউয়ের দিকে পিছিয়ে থাকলেও গল্প ও অভিনয়ের জন্য দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিল। সে ধারাবাহিকতায় ‘সাইফুল লাইব্রেরি’ নাটকটিও দর্শকের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। নিজের অনুভূতি জানিয়ে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, ‘আমি আর বাসার এর আগেও একসঙ্গে অভিনয় করে সাড়া পেয়েছিলাম। বেশ কিছুদিন বিরতির পর যখন আমাদের নতুন নাটক হিসেবে সাইফুল লাইব্রেরি প্রকাশ পেল, তখন দর্শকের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর গল্পটা একেবারেই অন্যরকম। এ কারণেই দর্শকের ভালো লাগছে। দিনদিন এ নাটকের প্রতি দর্শকের ভালোবাসা বাড়ছে। এখন দর্শক ভালো গল্পের নাটকই দেখতে চায়। আর আমি নিজেও ভালো গল্প ছাড়া কাজ করতে চাই না।’ তানিয়া বলেন, আমার কাছে সেভাবে চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসেনি, এমনকি এখনো আসে না। সত্যি বলতে, আমি এখন সিনেমা নিয়ে ভাবছি না। এখন নাটকেই সময় দিতে চাই। সিনেমার জন্য আলাদা প্রস্তুতির দরকার। পর্দায় অভিনয় কমিয়ে, বিরতি দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করে তবেই সিনেমায় আসা উচিত। মেহজাবীন আপু, সাবিলা নূরের কথা যদি বলি, তারা কিন্তু সিনেমা করার আগে বিরতি দিয়েছেন তারপর সিনেমা করেছেন। হুট করে সিনেমা করা আমার কাছে মোটেও ঠিক মনে হয় না। ভালো গল্প, পরিচালক পেলে এবং যদি আমার মনে হয়, হ্যাঁ, এটা হাতছাড়া করা যাবে না, তখন হয়তো আমি ভাবব। নাটক থেকে বিরতি নিয়ে নিজেকে সিনেমার জন্য প্রস্তুত করব। তার আগে নয়। ক্যারিয়ারে পাওয়া না পাওয়া নিয়ে তানিয়া বলেন, ‘আমি যা চেয়েছিলাম তা এখনো পাইনি। এর জন্য আমাকে আরও অনেক পরিশ্রম করতে হবে, কাজ করে যেতে হবে। নিজেকে একজন ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে আমার অভিনয় দর্শক মনে রাখবে এমন কিছু করার ইচ্ছে এখনো রয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তবে কখনো হেরে যাননি উল্লেখ করে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, ‘এমনও হয়েছে আমার কাজের জন্য ডেট নিয়েছে, আমি এটার জন্য অন্য কাজ বন্ধ করে রেখেছি। কিন্তু হঠাৎ করে বলছে কাজটি হবে না।
কারণ হয়তো নায়ক চাচ্ছে না বা অন্য কিছু! এমন অনেক কিছুর মুখোমুখি হয়েছি; কিন্তু হেরে যাইনি।’ যোগ করে তানিয়া বৃষ্টি আরও বলেন, ‘এমনও কিছু আছে যা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। এমনও হয়েছে ওয়াশরুমে গিয়ে কল ছেড়ে দিয়ে অনেক কান্না করেছি, যাতে কেউ না শোনে। ওই সময়টা পার করে আজ আমি এই অবস্থানে।’