স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় ২৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসবের মধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কামাল আহমেদ নির্মিত ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের এই চলচ্চিত্রের মুখ্য তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেন-নায়করাজ রাজ্জাক, সুচন্দা ও সুজাতা। নির্মাণশৈলী, গল্প আর অভিনয়ে সহজেই দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নেয় এ চলচ্চিত্রটি। তা ছাড়া চলচ্চিত্রটি ব্যবসাসফল হওয়ার পেছনে এর গানের ভূমিকাও ছিল অপরিসীম। যেমন এতে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এই গান যেন কোনো দিন ভুলে যেও না’ আজও দর্শকমনে গেঁথে আছে। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ১৯৭২ সালের ১২ মে। মানে প্রায় ৫৪ বছর আগে মুক্তি পায় কালজয়ী সিনেমা ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’। এ ছবির অন্যতম অভিনয়শিল্পী কিংবদন্তি সুচন্দা কথা বলেছেন সিনেমাটির নানা দিক ও চলচ্চিত্রের অন্যান্য প্রসঙ্গে। এ অভিনেত্রীর কথায়- কী যে সুন্দর ছিল সিনেমাটি। এখনো মনে আছে, সব গান সুপার-ডুপার হিট হয়েছিল। ছবিটি সিনেমা হলে দেখতে দর্শক হুমড়ি
খেয়ে পড়েছিল। তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের দর্শকের মন কেড়েছিল এই সিনেমা। তিনি বলেন, সিনেমাটিতে আমরা দুই নায়িকা ছিলাম। আমি আর সুজাতা। আসলে তখন থেকে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যেটা হলো, ‘নরমালি কোনো ছবিতে এক নায়িকা থাকলে আরেক নায়িকা কাজ করতে চান না। আবার দুই হিরো থাকলেও কার চরিত্রে ডায়ালগ কমবেশি, কার চরিত্রের গুরুত্ব কতটা, এসব নিয়ে মনোমালিন্য, কথা হয়, কাজ করতে চান না কেউ কেউ। কিন্তু দুই নায়িকা থাকার পরেও সিনেমাটির পরিচালক কামাল আহমেদ প্রস্তাব দেওয়ার পরেই রাজি হয়ে যাই। আসলে তখন আমার কোনো শিডিউল খালি ছিল না। কিন্তু গল্প ও নির্মাতা পছন্দ হওয়ায় রাজি হই। দুই নায়িকা মানেই যে কাজ করব না, এমন মনোভাব কখনই আমার মধ্যে কোনো দিনই ছিল না। শিল্পী মানেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এজন্য কবরী, সুজাতাসহ অনেক নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করেছি। তবে অনেক নায়িকার হীন মানসিকতার কারণে কষ্টও যে পাইনি তা কিন্তু নয়। যেমন- একজন নায়িকার কথা, তার নাম বলব না। সেই নায়িকার সঙ্গে কাজ করছিলাম। দৃশ্যে আমি তার পাশাপাশি থাকব। সেই নায়িকা বললেন, আমার সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে শর্ট দেবেন না। কী আর করার, পরে আমাদের অংশগুলো আলাদা করে শুটিং হয়েছে। এমন মানসিকতা নিয়ে কিন্তু কখনই কিছু মনে করিনি। আলাদা করেই আমাদের শুটিং হয়েছে, তাতে কী। আমি মনে করি, শিল্পীরা মুক্তমনা হয়, শিল্পীর বড় মন হয়। তবে এটা মনে রাখা উচিত, একজন শিল্পী তৈরি হয় অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে। তাকে সম্মান করা দরকার। এখানে একজন শিল্পী আরেকজন শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়ে অভিনয় করলে অস্তিত্ব থাকবে না, লোকে পছন্দ করবে না, এগুলো শিল্পী হিসেবে বিশ্বাস করি না। চরিত্র পছন্দ হয়েছে কাজ করেছি। এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ ছবিটিতে কাজ করার সময় মজার অভিজ্ঞতাও আছে। একটা ঘটনার কথা বলি, এতে আমার চরিত্রকে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। গল্পে আমি প্রেম করার পর জানতে পারি নায়কের ছোটবেলার সঙ্গী ফিরে এসেছে। যাকে সে বিয়ে করেছিল। নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। তখন আমি আর বাধা হয়ে দাঁড়াইনি। আমি বিবেকের মুখোমুখি হই। নিজেই হাই কোর্ট হয়ে বিচার করি, ছোটবেলার সঙ্গীর সঙ্গেই নায়কের থাকা উচিত। আর সিনেমা শেষে আমার সংলাপ ছিল, ‘সত্যকে সত্য বলে মেনে নিতে পারি বলেই আমার নাম হাই কোর্ট।’ তো সিনেমাটি মুক্তির পর সবাই আমাকে হাই কোর্ট বলে ডাকতে শুরু করেন। আরেকটি কথা না বললেই নয়, শিল্পী-কলাকুশলীরা তখন একে অন্যের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। তখন নায়ক-নায়িকা ও পরিচালকরা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। তারা তাদের চিন্তাভাবনা চরিত্রসহ সবকিছু নিয়েই চর্চায় থাকতেন। সবাই শুটিংয়ে অনেক বেশি অ্যানগেজ থাকতেন। এমন হতো যে কারও মন খারাপ হলেও অন্যরা বুঝতে পারতেন। যেমন একবার ‘নয়নতারা’ সিনেমার সময় নায়ক আজিম পাঞ্জাবি পরে একটি শর্ট বেশ কয়েকবার এনজি করে। প্রচণ্ড রোদ। ঘেমে পাঞ্জাবি ভিজে যায়। সেটা শুকিয়ে আবার শুটিং শুরু হয়। বারবার এনজি করায় আমি অন্যমনস্ক হয়ে পাশে এসে বসেছিলাম। কিছু সময় পরে পরিচালক দেখলেন আমার মন খারাপ। তাকে বারবার বললাম কিছু হয়নি। তিনি মনে করলেন অভিমান করেছি। সঙ্গে সঙ্গে অভিমান ভাঙানোর জন্য বরই, তেঁতুলের আচার আনতে লোক পাঠালেন। দিনগুলো অনেক মজার ছিল। তখন শিল্পীদের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ছিল অনেক বেশি। শুনলে অবাক হবেন, আমাদের সময়কার সহকর্মীদের সঙ্গে এখনো দেখা হলে গলা জড়িয়ে ধরে কী যে করি। গালে চুমু দিই, কপালে চুমু দিই, চিমটি কাটি। কোনো কিছু ভাগাভাগি করে খাই। আগের দিনে ফিরে যাই। মনে হয়, সেই শৈশবের বান্ধবী। আমরা সব শিল্পী ছিলাম একান্নবর্তী পরিবারের মতো। কিন্তু এখনকার শিল্পীদের মধ্যে পরিবারকেন্দ্রিক মনোভাবের অভাব। শুটিংয়ে সেই পরিবেশ থাকতে হবে। কিন্তু এখন তো শুটিং শেষ করেই নায়ক-নায়িকারা এসি গাড়িতে গিয়ে বসে শুনি। এভাবে বন্ডিং হয় না। সবার মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকতে হবে। কারণ, ছবি শুধু নায়ক-নায়িকা দিয়ে হয় না। যা হোক, কথা শুরু করেছিলাম ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ সিনেমাটি প্রসঙ্গে। আজও এটি সেই সময়ের দর্শক তো বটেই, এখনো যারা সিনেমাটির কথা শোনেন বা দেখেন, সবাই সমান আবেগে আপ্লুত হন।
শিরোনাম
- ‘মিস্টার আব্দুল্লাহ দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ দি পার্লামেন্ট’
- হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে শারজাহে ফিরছে বাংলাদেশি জাহাজ
- জাতীয় সংসদে আজ ২৪ বিল পাস
- ইরান যুদ্ধে জয়ের কথা বিশ্বাস করেন না ইসরায়েলের অধিকাংশ নাগরিক: জরিপ
- শিশুকে ধর্ষণ, প্রতিবাদ করায় মামার পায়ের রগ কর্তনের অভিযোগ
- আপত্তি সত্ত্বেও বিল পাস করায় ফের বিরোধী দলের ওয়াকআউট
- হরমুজ প্রণালির টোল ইরানি মুদ্রায়, নতুন প্রস্তাবে চাঞ্চল্য
- হরমুজে টোল দিতে হবে ইরানি মুদ্রায়, তেহরানের নতুন প্রস্তাব
- হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৭৭
- ইউএফটিবি কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশে জিএসটি এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা
- পাকিস্তানে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
- ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস
- সীমান্ত এলাকা সম্প্রসারণের কথা বলে নিজ দেশেই তোপের মুখে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী
- ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে মরিশাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- বগুড়া ও শেরপুরে পুনর্নির্বাচনের দাবি জামায়াতের
- এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা
- ‘ছয় বলে ছয় ছক্কা’ খেয়ে যুবরাজের সই করা জার্সি ডাস্টবিনে ফেলেন ব্রড
- হরমুজে উধাও ২০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন ড্রোন
- গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল পাস
- জাতীয় সংসদে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস
‘অশ্রু দিয়ে লেখা’দেখে সবাই আমাকে হাই কোর্ট বলে ডাকত : সুচন্দা
গল্পে আমি প্রেম করার পর জানতে পারি নায়কের ছোটবেলার সঙ্গী ফিরে এসেছে। যাকে সে বিয়ে করেছিল। নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। তখন আমি আর বাধা হয়ে দাঁড়াইনি। আমি বিবেকের মুখোমুখি হই। নিজেই হাই কোর্ট হয়ে বিচার করি, ছোটবেলার সঙ্গীর সঙ্গেই নায়কের থাকা উচিত। আর সিনেমা শেষে আমার সংলাপ ছিল, ‘সত্যকে সত্য বলে মেনে নিতে পারি বলেই আমার নাম হাই কোর্ট।’ তো সিনেমাটি মুক্তির পর সবাই আমাকে হাই কোর্ট বলে ডাকতে শুরু করেন। - সুচন্দা
আলাউদ্দীন মাজিদ
প্রিন্ট ভার্সন
সর্বশেষ খবর
সীমান্ত এলাকা সম্প্রসারণের কথা বলে নিজ দেশেই তোপের মুখে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী
২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহত ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খারাজি মারা গেছেন
১২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম