অসহায় নারী যখন অভাব মেটাতে কাজ করতে যায় তখনো এ সমাজ তাকে অন্য নজরে দেখে। সমাজের কুচক্রী মানুষের চোখে সে কেবল ভোগের বস্তু, হোক সে গরিব-ধনী, রাজা-ফকির, পরিষ্কার-অপরিষ্কার। তার পরিচয় তখন মানুষ না, তার পরিচয় নারী। নারীর অসহায়ত্বের গল্প নিয়ে ১৯৮৪ সালে নির্মিত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন নির্মাণ করেন ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রটি। আর এ বিষয়বস্তুটিই ছিল ছবির মূল বক্তব্য। এতে মুখ্য চরিত্র জরীর ভূমিকায় অভিনয় করেন ঢালিউডের বিউটি কুইন খ্যাত অভিনেত্রী শাবানা। ছবিটিতে জীবনঘনিষ্ঠ অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা লাভ করেন তিনি।
শাবানা বলেন, কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন সব সময় সমাজের নানা অসংগতি তার চলচ্চিত্রে তুলে ধরতেন। ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রটি ছিল নারীর প্রতি অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে একটি সাহসী প্রতিবাদের প্রতীক। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে এই নারীকেন্দ্রিক ছবিটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ছবির গল্পে দেখা যায়, না খেয়ে থাকা জরী যখন কোথাও খাবার চেয়ে পায় না। সে সময় তার মাথায় থাকে না সে নারী, সে কোন ঘরের মেয়ে, কার স্ত্রী। তার মাথায় কেবল খাবার। বাধ্য হয়ে ভাত চুরি করা শুরু করে সে। মৌলিক অধিকার তার খাদ্য, আর তা থেকে যখন সে বঞ্চিত হয় তখন অধিকার কেড়ে নেওয়াই তার কাছে সঠিক মনে হয়। ছবিতে সবশেষে শাবানা উন্মাদের মতো নেচে নেচে একটি গান গেয়ে বেড়ান যার ভাষা ‘তিলে তিলে মইরা যামু তবু তোরে ডাকবো না’। ধৈর্য ধরে ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর হওয়া অসহায় বান্দার কান্না যখন কেউ শোনেননি, একসময় সেই ধৈর্য ভাঙতেই হয়।