যেভাবে প্রেম বিচ্ছেদ
১৯৬৪ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘চারুলতা’ সিনেমায় কাজ করতে করতেই একে অপরের কাছাকাছি চলে আসেন সত্যজিৎ এবং মাধবী। যদিও পরবর্তীকালে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ‘কাপুরুষ’ সিনেমার পর সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আর কোনো সিনেমায় কাজ করেননি তিনি।
কেন দূরে সরলেন মাধবী
সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করা তো দূরের কথা, তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সেই মানুষটাকে ভালোবাসতাম। তিনিও যে আমায় ভালোবাসতেন এ বিষয় নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু আমাদের কারোর একে অন্যের প্রতি কোনো প্রত্যাশা ছিল না কখনোই। ওকে দখল করার মানসিকতা ছিল না আমার।’ মাধবী জানিয়েছিলেন, ‘উনি বিবাহিত ছিলেন। একজন মহিলা হয়ে আর এক মহিলার ক্ষতি করতে চাইনি আমি। যাকে ভালোবাসতাম তিনি বিবাহিত ছিলেন, তাঁর একটি সন্তান ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ওর স্ত্রী আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছিলেন।’
আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন মাধবী
মাধবী বলেছিলেন, ‘একবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। একসঙ্গে ৬০টা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম। হাসপাতালে চার দিন ছিলাম, তাও অজ্ঞান অবস্থায়। আমি যে মানুষটাকে ভালোবাসতাম তাঁর ক্ষতি কোনো দিন চাইনি। আমার সঙ্গে তাঁর নাম যোগ করে যখন কালিমালিপ্ত করা হচ্ছিল আমার মনে হয়েছিল নিজেকে শেষ করে দেওয়া অনেক সহজ।’
সেই প্রেম নিয়ে মাধবী
মাধবী বলেছিলেন, ‘মাধবী ও সত্যজিৎ প্রেম এবং বিচ্ছেদ দুটো জিনিস মিশিয়ে ফেলা একেবারেই পছন্দ করি না। আমি তো চায়ের সঙ্গে কফি মিশিয়ে খাই না। আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ না-ও হতে পারি, কিন্তু আমারও কিছু নীতি আছে। মাধবী সিনেমার জন্য সম্পর্কে জড়িয়েছিল, এটা কেউ বললে মেনে নিতে পারব না। আমার কাছে ভালোবাসা আর পেশা সম্পূর্ণ আলাদা দুটো বিষয়। আমার ফিল্ম যদি দর্শকের পছন্দ না হয়, তাতেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না। কিন্তু আমি যদি কাউকে ভালোবাসি, তাহলে তাকে শুধু ভালোই বাসব। তাতে কোনো শর্ত থাকবে না। ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছু মেশাতে পারব না। আর এ কারণে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের ভালোবাসা অটুট ছিল।’
মাধবী আরও বলেন, সত্যজিৎ একটা কথাই বলতেন, ‘আমি জীবনে এত কিছু অর্জন করেছি, এত সম্মান পেয়েছি। সমাজ কি আমার একটা ছোট্ট অপরাধ মেনে নেবে না?’ উত্তরে আমি বলেছিলাম, ‘না। এ সমাজ আপনার উচ্চতায় পৌঁছতে পারেনি। তাই এ সম্পর্ক কখনোই মেনে নেবে না।’
সত্যজিতের শেষ যাত্রায় মাধবী
১৯৯২ সালে সত্যজিৎ মারা যাওয়ার পর হাওয়ার বেগে ছড়িয়ে গিয়েছিল খবর। সেদিনও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পেলেন না মাধবী। তখন অবশ্য অভিনেতা নির্মল কুমারকে বিয়ে করেন তিনি। মাধবী সত্যজিৎ রায়কে শেষ দেখা দেখতে হাজির হলেন। তবে সবাই দেখল, বড্ড চড়া মেকআপ তাঁর।
শোকের পরিবেশে বেমানান, চোখে পড়ার মতোই। তাতে যদিও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি, পরোয়া করেননি মাধবী। বিরক্ত হলেন অনেকেই। বাদ গেলেন না বিজয়া রায়ও। তিনি শোকের মাঝেও বিরক্তি প্রকাশ করলেন মাধবীর এ অদ্ভুত সাজের জন্য। প্রেস, মিডিয়া থেকে নিউজ চ্যানেল সবাই ছবি তুলল অতি মেকআপ করা মাধবীর।