আশি-নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক ছবিতে অনেক শিশুশিল্পী নায়ক-নায়িকার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু শিশু শিল্পীকে নিয়ে লিখেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ
মাস্টার সুমন
মাস্টার সুমন বিখ্যাত সুরকার সত্য সাহার ছেলে। ‘ছুটির ঘণ্টা’ তাঁর সেরা কাজ। এ ছবির ‘একদিন ছুটি হবে’ গানে গিটার হাতে মাস্টার সুমনকে স্টাইলিশ লাগে। ‘পুরস্কার’ সিনেমায় বুলবুল আহমেদের ছাত্র থাকেন মাস্টার সুমন। ‘অশিক্ষিত’ সিনেমায় মূর্খ রহমত আলী (রাজ্জাক)-কে নাম দস্তখত শেখানোর দায়িত্ব নেন মাস্টার সুমন। এ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পীর পুরস্কার পান মাস্টার সুমন।
মাস্টার শাকিল
‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘পুরস্কার’, ‘ডুমুরের ফুল’, ‘ডানপিঠে ছেলে’সহ প্রচুর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ডুমুরের ফুল ছবিতে অভিনয়ের জন্য শাকিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পীর পুরস্কার লাভ করেন।
অন্তরা
নায়িকা অন্তরা প্রথমত খুব ভালো শিশু শিল্পী ছিলেন। শিশু শিল্পী হিসেবে অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতে নবাব চরিত্রে থাকা প্রবীর মিত্রের মেয়ের ভূমিকায় ছিলেন। ‘স্বামীর আদেশ’ ছবিতে তাঁর সবচেয়ে টাচি অভিনয় ছিল শিশু শিল্পীর চরিত্রে। এ ছবিতে তিনি শাবানার মেয়ে থাকেন। শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁর আরেকটি অসাধারণ ছবি ‘লটারি।’ প্রায় ৪০টিরও বেশি ছবিতে শিশু শিল্পী ছিলেন।
সীমা
সীমা বেশির ভাগ ছবিতে শাবানার ছোটবেলার ভূমিকায় অভিনয় করেন। ‘সুখের স্বর্গ’ ছবিতে শাবানার ছোটবেলার চরিত্রে থাকেন। ‘চাকরানী, বিদ্রোহী কন্যা’ ছবিগুলোতেও শাবানার ছোটবেলাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
‘জজ ব্যারিস্টার’ ছবিতে শাবানার মেয়ের ভূমিকায় ছিলেন। ‘কাল নাগিনীর প্রেম’ ছবিতে নাগিনীর ভূমিকায় তাঁকে অসাধারণ লাগে। ‘প্রেমের সমাধি’ ছবিতে শাবনাজের ছোটবেলায় থাকেন। বাপ্পারাজের ছোটবেলার ভূমিকায় থাকা শিশু শিল্পীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। ‘প্রেমগীত’ ছবিতে লিমার ছোটবেলার চরিত্র করেছেন। ‘রূপের রাণী গানের রাজা’ ছবিতেও ছিলেন। সীমা অনেক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ধনী, গরিব, ফোক-ফ্যান্টাসি সব ধরনের ছবির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আরও কিছু ছবিতে দেখা গেছে।
প্রিয়াঙ্কা
‘ঘাত-প্রতিঘাত’ ছবির অন্যতম প্রধান শিশু শিল্পী ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় শিশু শিল্পীও বটে। তাঁর নাম প্রিয়াঙ্কা। নব্বইয়ের দশকে রাজত্ব করা প্রধান নায়ক-নায়িকাদের ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে। ‘স্ত্রী হত্যা’, ‘ত্যাগ’, ‘লক্ষীর সংসার’, ‘আঞ্জুমান’সহ অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। বড়বেলায় এসে প্রিয়াঙ্কা ‘অবুঝ বউ’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌসের স্ত্রীর ভূমিকায়।
উপমা
নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় শিশু শিল্পী ছিলেন উপমা। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘বিদ্রোহী আসামী, আমি এক অমানুষ, আমার প্রতিজ্ঞা, নিরন্তর, বাঙলা, চার সতীনের ঘর’ ইত্যাদি।
সোহেল
সোহেল শিশু শিল্পীদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, বাপ্পারাজ, রুবেল, সালমান শাহ তাঁদের ছোটবেলার চরিত্রে অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘সুখের স্বর্গ’ ছবিতে সীমার বিপরীতে ছিলেন আলমগীরের ছোটবেলায়। ‘আম্মাজান’ ছবিতে মান্নার ছোটবেলায় থাকেন। ‘প্রেমগীত’ ছবিতে ওমর সানীর ছোটবেলার চরিত্রে থাকেন। ‘প্রতিশোধের আগুন’ ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের ছোটবেলাতে ছিলেন। ‘গ্যাং লিডার’ ছবিতে রানা হামিদের ছোটবেলায় সোহেলকে অ্যাকশন মুডে দেখা যায়। ‘আমার অন্তরে তুমি’ তার আরেকটি ছবি।
সুমন
‘প্রেমযুদ্ধ’ ছবির একটি অসাধারণ গানে বাবা সালমান শাহর ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন শিশু শিল্পী সুমন। ‘অচল পয়সা’ ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের ছোটবেলার চরিত্রে ছিলেন। ‘নরপিশাচ’ ছবিতে রুবেলের ছোটবেলায় থাকেন। রুবেলকে ছোটবেলায় পেট্রোলপাম্পে আগুন লাগানোর দায়ে পুলিশে দেওয়া হয়, সেই ভূমিকায় ছিলেন সুমন। তাঁকে খুব বেশি ছবিতে দেখা না গেলেও পরিচিত মুখ ছিলেন।
মুন্না
‘একটাই কথা আছে বাংলাতে’ ‘বন্ধু আমার’ ছবির কালজয়ী এ গানের কিড ভার্সনে অভিনয় করেছেন মাস্টার মুন্না। ‘দুই জীবন’ ‘স্বামী-স্ত্রী’ ছবিতে শাবানার ছেলের ভূমিকায় ছিলেন মুন্না। শাবানার ‘সান্ত্বনা’ ছবিতে তাঁর ছেলের চরিত্রে ছিলেন। এ ছাড়া প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেন মুন্না।
দীঘি
দীঘি চলচ্চিত্রে আসেন ২০০৬ সালে। প্রথম অভিনয় করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্প অবলম্বনে ‘কাবুলিওয়ালা’য়। এ গল্পের মিনি চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ‘চাচ্চু’ ছবিতে হাইপ তোলেন দীঘি। তার অন্যতম সেরা ছবি ‘অবুঝ শিশু’ ও ‘এক টাকার বউ’। ‘দাদী মা’ ‘বাবা আমার বাবা’ অসাধারণ ছবি। ‘সাজঘর, স্বামীভাগ্য, দ্য স্পিড, রিকশাওয়ালার ছেলে’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিগুলো তার উল্লেখযোগ্য কাজ।