গত ঈদে বড় অঙ্কের জামানত দিয়ে ‘প্রিন্স’ ছবি প্রদর্শন করে বড় মাপের আর্থিক লোকসানের কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ প্রদর্শক বা সিনেমা হল মালিকদের। ‘প্রিন্স’ ছবির আগেও নাকি তাঁরা এমন ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। তাই এবার আর প্রযোজককে জামানত দেবেন না প্রদর্শকরা। কিন্তু প্রযোজকরা এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তাঁরা চান মিনিমাম গ্যারান্টি। আর এ বিষয়ে ঈদের ছবি নিয়ে নতুন অস্থিরতার কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

গত ঈদে ‘প্রিন্স’ ছবিটি প্রদর্শন করতে গিয়ে বড় মাপের আর্থিক লোকসান গুনেছেন সিনেমা হল মালিকরা। কারণ ঈদের ছবি হিসেবে বিগ বাজেটের এই ছবির জন্য সিনেমা হল মালিকরা বড় অঙ্কের জামানত দিয়েছিলেন প্রযোজককে। কিন্তু ছবিটি না চলায় অনেক সিনেমা হল মালিক বলতে গেলে রীতিমতো পথে বসেছেন। আগেও অনেক ছবির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা প্রদর্শকরা চাচ্ছি, এবারের ঈদে কোনো প্রযোজককে আর জামানত দেব না। পরিবর্তে পার্সেন্টিজে ছবি প্রদর্শন করব। এতে প্রদর্শক আর প্রযোজক আর্থিক ক্ষতির কারণে কেউ কাউকে আর দোষারোপ করতে পারবেন না। কারণ একজন প্রদর্শক জামানত হিসেবে প্রযোজককে অগ্রিম টাকা দিয়ে নতুন ছবি প্রদর্শনের জন্য নেন। এরপর ছবিটি প্রদর্শন শেষে দেখা যায় ওই জামানতের টাকাও আর উঠে আসে না এবং আর্থিক লোকসানের কবলে পড়েন প্রদর্শক। তখন প্রযোজকের সঙ্গে প্রদর্শকদের মনোমালিন্য দেখা দেয়। কারণ ছবি না চললেও প্রযোজক টাকা ফেরতে দেন না প্রদর্শককে। প্রযোজকরা বিশ্বাস করতে চান না যে, ছবিটি চলেনি বা প্রদর্শক টিকিট বিক্রির পরিমাণ কম দেখাচ্ছেন প্রযোজককে। মানে প্রদর্শকের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলেন প্রযোজক। তাই প্রদর্শকরা এবারের ঈদে প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে জামানতের পরিবর্তে পার্সেন্টেজ পদ্ধতিতে ছবি প্রদর্শনের কথা বলবে। জামানতের পরিবর্তে পার্সেন্টেজ নির্ধারিত হবে প্রযোজক ও প্রদর্শকের আলোচনার ভিত্তিতে। যে পার্সেন্টেজের কথা বলা হচ্ছে তা হবে সিনেমা হলের দৈনিক টিকিট বিক্রির ওপর ভিত্তি করে। দৈনিক টিকিট বিক্রি থেকে একটি অংশ পাবে প্রযোজক আরেকটি অংশ পাবে প্রদর্শক। আর এই টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা প্রযোজকের কাছে তুলে ধরতে প্রদর্শকরা চাইবেন প্রযোজকের একজন প্রতিনিধি যেন সিনেমা হলে অবস্থান করেন। উদাহরণ হিসেবে জামানতের ভিত্তিতে ছবি প্রদর্শনের নিয়মটি হলো যেমন- ১ লাখ টাকা জামানত দিয়ে একটি ছবি প্রযোজকের কাছ থেকে নেওয়ার সময় উভয়ের মধ্যে এই মর্মে চুক্তি হয় যে, ছবি প্রদর্শনের পর কোনো কোনো সিনেমা হলে প্রযোজক-প্রদর্শকের মধ্যে এই টাকা অর্ধেক অর্ধেক হারে, আবার কোনো কোনো সিনেমা হলে প্রদর্শক ৬০ ভাগ এবং প্রযোজক পাবেন ৪০ ভাগ। সিনেপ্লেক্সের ক্ষেত্রে নিয়মটি হলো কোনো কোনো সিনেপ্লেক্স জামানত ছাড়াই ছবি নেয় আবার কিছু সিনেপ্লেক্স ৭০ ভাগ নিজেরা রাখে আর ৩০ ভাগ দেয় প্রযোজককে। এ ছাড়া এবারের ঈদে আমাদের দাবি, ঈদের অন্তত ১০ দিন আগে ঈদের ছবি সেন্সর করে আমাদের দিতে হবে। তাহলে আমরা প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাব। প্রচার ছাড়া কোনো কিছুরই প্রসার হয় না। ঈদের দু-একদিন আগে ছবি দিলে প্রচারের অভাবে দর্শক সিনেমাটির কথা জানতে পারে না, ফলে দর্শকশূন্যতায় ছবিটি লোকসান গোনে। সর্বশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশ সরকার যখন এফডিসিতে সেন্ট্রাল সার্ভার স্থাপন এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করবে তখন এই জামানতের সমস্যা আর থাকবে না।

ছবির ব্যবসায় লাভ-লোকসানের ঝুঁকি প্রযোজক ও প্রদর্শক উভয়েরই থাকে। এটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, শুধু লাভ থাকবে। সে ক্ষেত্রে দুইপক্ষকেই কম বেশি ঝুঁঁকি নিতে হবে। শুধু প্রযোজক যদি একাই ঝুঁকি নেন সে ক্ষেত্রে প্রদর্শকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ জন্য প্রযোজককে কমপক্ষে মিনিমাম গ্যারান্টি দিতে হবে সিনেমা হল মালিকদের।
কারণ ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অনেক সময় অস্বচ্ছতা দেখা দেয়। প্রযোজক যেমন বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে দামি শিল্পী নেন তার ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য ঠিক তেমনি প্রদর্শকরাও ছবি প্রদর্শন করেন শিল্পীদের তালিকা দেখে। উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই চলচ্চিত্র ব্যবসা হয়ে থাকে।
তাই বর্তমানে এ ক্ষেত্রে যে কোনো এক পক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ঠিক হবে না।

ঈদুল ফিতরে ‘প্রিন্স’ ছবির ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে প্রদর্শকদের মধ্যে এমন সিদ্ধান্তের উদয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। এত দিন ধরে প্রদর্শকরা ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রযোজককে কমপক্ষে মিনিমাম গ্যারান্টি দিয়ে আসছিল।
এখন যদি প্রদর্শকরা কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চান সেটি অবশ্যই প্রযোজকদের সঙ্গে আলাপ করে নিতে হবে। ঈদের ছবি যেহেতু বিগ বাজেটের হয়, তাই প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে প্রযোজকের স্বার্থরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। বিগ বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে প্রযোজকের প্রত্যাশা থাকে মিনিয়াম গ্যারান্টি দিয়ে প্রদর্শক ছবিটি প্রদর্শন করবেন। এতে উভয়পক্ষের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা হয়।