মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টে জন্ম নেওয়া এক অদ্ভুত পাম গাছের নাম হাঁটা গাছ। বৈজ্ঞানিক নাম সক্রেটিয়া এক্সোরাইজা (ঝড়পৎধঃবধ বীড়ৎৎযরুধ)। গাছটি ধীরে ধীরে নিজের স্থান পরিবর্তন করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা-এই গাছ নাকি ধীরে ধীরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ‘হেঁটে’ যায়। আধুনিক বিজ্ঞান অবশ্য এ রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। গাছটির শিকড় মাটির ওপরে ছড়িয়ে থাকে এবং পায়ের মতো একাধিক দিকে বিস্তৃত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে হাঁটে না।
বরং আলো, পানি ও পুষ্টির অনুকূল দিকে নতুন শিকড় গজিয়ে ওঠে এবং পুরোনো শিকড় ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়।
ফলে গাছটির অবস্থান ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়। এভাবে সরতে সরতে গাছটি অনেক দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। মূলত নিজেকে পরিবেশে টিকিয়ে রাখতেই এ কৌশল। এ বিশেষ শিকড় কাঠামো দুর্বল বা জলাভূমি মাটিতেও গাছটিকে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।
পরিবেশগত দিক থেকে হাঁটা গাছ বেশ উপকারী। এর শিকড় মাটিক্ষয় রোধ করে, বনভূমির স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং ছোট প্রাণী ও পোকামাকড়ের আবাস তৈরি করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী গাছটির কাঠ ও পাতা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।
যদিও হাঁটা গাছ বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় নেই, তবে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় নির্বিচার বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে রহস্যময় নামের আড়ালে হাঁটা গাছ আসলে প্রকৃতির এক অভিনব অভিযোজন কৌশলের উদাহরণ, যা কুসংস্কারের চেয়ে বিজ্ঞানের চোখেই বেশি বিস্ময়কর।