যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা জোশুয়া ট্রি প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি। এটি ইউক্কা পরিবারের এক ধরনের উদ্ভিদ। এর অদ্ভুত আকৃতির ডালপালা অনেক সময় মানুষের হাত তুলে থাকা ভঙ্গির মতো দেখায়, যা একে অন্য সব গাছ থেকে আলাদা করে তুলেছে। এ গাছের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো-এক ধরনের বিশেষ পতঙ্গ ছাড়া এরা বংশবিস্তার করতে পারে না।
জোশুয়া ট্রি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, অ্যারিজোনা ও উটাহ অঞ্চলের মরুভূমিতে জন্মে। বিশেষ করে জশুয়া ট্রি জাতীয় উদ্যানে এ গাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মরুভূমির কঠিন পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে, কারণ এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে গিয়ে অল্প বৃষ্টির পানিও সংগ্রহ করতে সক্ষম। এ গাছের উচ্চতা সাধারণত ১৫ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। বয়সের দিক থেকেও এটি বেশ দীর্ঘজীবী। অনেক জোশুয়া ট্রির বয়স ১০০ থেকে ২০০ বছরের বেশি হতে পারে। বসন্তকালে এতে সাদা বা সবুজাভ ফুল ফোটে, যা দেখতে অনেকটা ঘণ্টার মতো।
জোশুয়া ট্রির প্রজনন বেশ অদ্ভুত। এর পরাগায়নের জন্য নির্ভর করতে হয় ইউক্কা মথ নামের বিশেষ এক ধরনের পতঙ্গের ওপর। এ পতঙ্গ ছাড়া গাছটি স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করতে পারে না। প্রকৃতিতে এমন পারস্পরিক নির্ভরতার উদাহরণ খুবই বিরল।
মরুভূমির বাস্তুতন্ত্রেও এ গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখি, সরীসৃপ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে এটি কাজ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোশুয়া ট্রির অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অদ্ভুত আকৃতি, দীর্ঘ জীবন ও কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে জোশুয়া ট্রি আজ মরুভূমির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।