বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিবারের পোষা বিড়াল ‘জেবু’ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় এসেছে। জেবুর ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া কৌতূহল নজরে এসেছে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানেরও। বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন, যা পরে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান লেখেন, জেবুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি কিছুটা অবাক হলেও মজা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, জেবু যদি বুঝতে পারত যে তাকে নিয়ে এত আলোচনা, তাহলে বিষয়টা হয়তো তার কাছেও আলাদা লাগত।
জাইমা রহমান তার পোস্টে পোষা প্রাণী লালন-পালনের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো প্রাণীকে লালন-পালন করা মানে বড় একটি দায়িত্ব নেওয়া, কারণ প্রাণীরাও আল্লাহর সৃষ্টি এবং তারা অনুভূতিসম্পন্ন জীব। ছোট্ট বিড়ালছানা হিসেবে জেবুকে বাসায় আনার সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে সে পরিবারের এত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবে।
তিনি লেখেন, এমনও হয়েছে যে তার বাবা-মা বাসায় ফিরে প্রথমেই জেবুর খোঁজ নিয়েছেন, তারপর তার। তার মা বাগান করতেন বা পাড়ায় হাঁটতে গেলে জেবু সব সময় পাশে পাশে ঘুরত। অন্যদিকে, সন্ধ্যার পর তারেক রহমানের অনলাইন মিটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত জেবু তার কোলে গুটিশুটি মেরে বসে থাকত এবং আদর উপভোগ করত।
নিজের সঙ্গে জেবুর সম্পর্কের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তিনি লেখেন, জেবু যেন তার মনের অবস্থা বুঝে ফেলত এবং ছোট্ট পা ও কোমল ছোঁয়ার মাধ্যমে নিজের মতো করে সঙ্গ দিত।
পোস্টে পোষা প্রাণী নিয়ে বাসা বদলানোর কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জাইমা রহমান জানান, জেবু এখন মহাদেশ পেরিয়ে একেবারে নতুন একটি পরিবেশে এসেছে, যা ছোট্ট এই প্রাণীর জন্য বড় পরিবর্তন এবং কষ্টের। বিষয়টি মানুষ হিসেবে পুরোপুরি বোঝা কঠিন হলেও তারা সেটি অনুভব করার চেষ্টা করছেন।
জেবুর মাধ্যমে পরিবারের সবাই ধৈর্য, মমতা এবং ভালোবাসার শিক্ষা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাইমা রহমান লেখেন, ভাষা এক না হলেও প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীর হতে পারে এবং ভালোবাসা কোনো প্রজাতির সীমা মানে না। তিনি বিশ্বাস করেন, যে মানুষ অন্য কোনো জীবের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পায়, সে নিজের সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারে।
পোস্টের শেষ অংশে জেবু সম্পর্কে একটি মজার তথ্যও শেয়ার করেন জাইমা রহমান। তিনি জানান, জেবু কখনো ‘মিউ মিউ’ শব্দ করে না। আলমারিতে আটকে গেলেও নয়। বরং খুশি বা অবাক হলে পাখির মতো নরম শব্দ করে। অনুমতি ছাড়া কোলে নিলে হালকা বিরক্তিতে গোঁ গোঁ করে এবং যেসব বিড়াল তার পছন্দ নয়, তাদের দিকে বেশ জোরেই চিৎকার করে।
উল্লেখ্য, জেবু একটি সাইবেরিয়ান জাতের বিড়াল। চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা জেবুর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিড়ালটি আলোচনায় আসে। সাত বছর বয়সী এই লোমশ বিড়ালটি ধীরে ধীরে নেটিজেনদের কৌতূহল ও ভালোবাসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক