Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১১

তরুণ ভোটারের মনোভাব বুঝতে হবে : দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

তরুণ ভোটারের মনোভাব বুঝতে হবে : দেবপ্রিয়

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন তিন কোটি তরুণ ভোটারের মনোভাব বুঝতে হবে। বিগত ১০ বছরে তৈরি হওয়া এই তরুণ ভোটারের সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ’ আয়োজিত প্রাক-সম্মেলন মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক। এই সংগঠনের আয়োজনে আগামী ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সারা দেশের তরুণদের অংশগ্রহণে যুব সম্মেলন ২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন স্বাধীনতার পর। এই প্রজম্মের ভিতর কী চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা, বেদনা ও ক্ষোভ তাও বুঝতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে এই যুব সমাজ ভ্যাট, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করেছে। নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করেছে। অর্থাৎ একটা স্বপ্রণোদিত যুব কণ্ঠস্বর প্রকাশিত হচ্ছে। ওই যুব সম্মেলন ঘিরে আগামী দেড় মাস প্রতি সপ্তাহেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের একজন এখন যুব সমাজের অন্তভুর্ক্ত। আমরা যে বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি, তার নেতৃত্ব দেবে আজকের যুব সমাজ। আমরা লক্ষ্য করছি, নতুন ৩০ শতাংশ, যা যুব সমাজের দেড় কোটির মতো ভোটার হয়েছে গত পাঁচ বছর। তার আগের পাঁচ বছর যদি আমরা হিসেবে নিই, তাহলে দেখব প্রায় ৩ কোটি নতুন ভোটার। সাড়ে ১০ কোটির মধ্যে এই তিন কোটি ভোটারের মনোভাবকে আমাদের আজকে বুঝতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জানতে হবে এবং তাদের দেশের কাজে লাগাতে হবে। তার মতে, বাংলাদেশ সবার। উন্নয়নে আছে সবার অধিকার। এ উন্নয়নে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এখানে সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবিশেষের অবদানও গুরুত্ব্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ইতিহাস বলে, নাগরিকের অংশগ্রহণ না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না। এসডিজি বাস্তবায়নে আগামী ১৫ বছর আজকের যুব সমাজ নেতৃত্ব দেবে। এই যুব সমাজের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমাদের নীতিনির্ধারক, রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভিতরে একই রকম উপলব্ধি থাকা দরকার। তিনি বলেন, মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসডিজির ১৬ নম্বর লক্ষ্যে বলা হয়েছে— সব পর্যায় থেকে দুর্নীতি কার্যকরভাবে কমিয়ে আনতে হবে। যদি আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে সফল হই, তাহলে সেই সুফল আজকের তরুণরা পাবে। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব তরুণদের নিতে হবে। এসডিজির মূলমন্ত্র কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতোই মনে হয়। তিনি বলেন, রাজনীতি জনগণকে বাদ দিয়ে নয়। তার মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি তরুণ প্রজন্ম। আমরা বলছি, কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। এখন পুরো প্রক্রিয়া থেকে তরুণরাই পিছিয়ে আছে। দেশটা যে আমাদের সবার, তাও সবার উপলব্ধি করতে হবে। আমরা সেই জায়গাটা অনেক সময় ভুলে যাই। মানবাধিকার সব মানুষের।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর