Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১১

গার্মেন্টে ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা

প্রত্যাখ্যান শ্রমিকদের দাবি ১৬ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গার্মেন্টে ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা

পোশাক শ্রমিকদের জন্য সরকার ন্যূনতম  মজুরি নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার টাকা। গেজেট প্রকাশের পরই এটা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকেই এই মজুরি কার্যকর হবে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে তারা এসব বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, শ্রমিক প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু ও বেগম শামছুন্নাহার ভূঁইয়া প্রমুখ। প্রতিমন্ত্রী  চুন্নু বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ৮৪ শতাংশ অর্থ আয় করে তৈরি পোশাক খাত। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছেন। শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী সব দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, এর আগে চারটি বৈঠকে একমত হতে না পারায় উভয়পক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান। প্রধানমন্ত্রী উভয়পক্ষের কথা শুনে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেন। এর আগের বৈঠকে মালিকপক্ষ ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা, আর শ্রমিকপক্ষ ১২ হাজার ২০ টাকা করার দাবি করে। শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি ৫ বছর পর পর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন মজুর কাঠামো ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে, আগামী ডিসেম্বরে নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করে মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে রাজধানীর তোপখানা রোডে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে দুই পক্ষই সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা করার পক্ষে সম্মত হয়। বৈঠক শেষে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম সচিবালয়ে গিয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জমা দেন। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে দেশে পোশাকশিল্পের মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। সে বছর ন্যূনতম মজুরি হার ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই শ্রমিক সংগঠনগুলো ১৬ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানিয়ে আসছিল। আর নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে এ বছরের ১৪ জানুয়ারি নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন করে সরকার।

এদিকে গতকাল মজুরি বোর্ডের বৈঠক চলাকালে অন্যান্য দিনের মতো বিক্ষোভ দেখিয়েছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। ১৬ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে এসব সংগঠনের নেতারা এখনো অটল রয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নামের দুটি সংগঠনের নেতারা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, মাছের বাজারের মতো মজুরি নিয়ে এখন দরদাম কষা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য