Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৩৪

জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই : ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই : ড. কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছে নেই। তিনি বলেন, জামায়াতকে নিয়ে কোনো দিন রাজনীতি করিনি, করবও না। জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে, একথা এখন বলাই যায়। জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের প্রার্থিতা দেওয়ার বিষয়টি ‘ভুল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল আরামবাগে পুরাতন ইডেন ভবনের পাশে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। এর আগে দলটির নির্বাহী কমিটির সভায় ৭০ জনেরও বেশি নেতা অংশ নেন এবং ২৫ জন বক্তব্য রাখেন।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ছাড়াও গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, এসএম আলতাফ হোসেন, আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ অংশ নেন। এ সময় গণফোরামের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের একটি লিখিত বক্তব্য দেয়া হয়। এটি পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। এতে তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে গণফোরাম সভাপতি বলেন, একমাত্র সরকারি দল ছাড়া আর কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেটা বলছে না। চাইলেও বলা সম্ভব নয়। এ সময় দেশের স্বার্থে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত আছে। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সংসদ গঠিত হোক, এটা নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর যা ঘটেছে সেটা তো আপনারা সংবাদ মাধ্যমে পাচ্ছেন। সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনারা যদি মনে করেন আপনাদের ওপর মানুষের আস্থা আছে তাহলে সেটা প্রমাণ হোক একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। যাতে প্রমাণ হয়, সব মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে পেরেছে। আমাদের তো অনেকগুলো লাইন দেখানো হয়েছে, অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ভোটের সময় বলা হয়েছে, আপনারটা  দেওয়া  হয়ে গেছে, আপনাদের আর কাজ নেই।

দেশের এই সংবিধান প্রণেতা বলেন, সরকারকে বলব, বিতর্ক না বাড়িয়ে একটা সমাধান করা হোক। গণতন্ত্রের ব্যাপারে, সংবিধানের ব্যাপারে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। যেখানে এতগুলো  মৌলিক ব্যাপারে ঐকমত্য আছে, সেখানে সরকারকে এটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিন্তু সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। সবার আস্থা নিয়ে যে কেউ সরকার গঠন করলে তাদেরও দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়, দেশও যেটা প্রাপ্য সেটা পায়। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ভোট সম্পর্কে ড. কামাল হোসেন বলেন, ওইদিন যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিও একই রকমের নির্বাচন করেছে, ৩০ ডিসেম্বর সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। সরকারকে তিনি বলেন, ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে যাতে অর্থপূর্ণ নির্বাচন দাবি করতে পারেন এবং যে নির্বাচনে জনগণের আস্থা থাকে সে ধরনের আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করেন এবার। তিনি বলেন, নির্বাচনে যেভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা হয়েছে এভাবে মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা যায় না। তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে  ভোট দিয়ে একটা ফলাফল ঘোষণা করে দেওয়া- এটা যে কেউ বলছে, করাচ্ছে তা দেশের স্বার্থে করা হচ্ছে না। কোটি মানুষের মধ্যে যারা ভোটার তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। জামায়াত সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে অতীতে যেটা হয়েছে, সেটা ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিএনপি যে ধানের শীষে জামায়াতের ২২ জনকে মনোনয়ন দেবে, সেটি আমরা জানতাম না, আমাকে জানানো হয়নি। নির্বাচনের আগেই আমি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এখনো একই কথা বলছি, জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। গতকালের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গণফোরামের সাংগঠনিক অবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে জোরদার করবেন। বৈঠকে দলের দুই সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়টি কাউন্সিলেই সুরাহা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


আপনার মন্তব্য