Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫১

সরকার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে : ফখরুল

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের জনগণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্নের সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের মানুষ তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে।’ গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এটি এম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর স্মরণে এই সভা হয়। দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এস এম এম শামীমের পরিচালনায় সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এস এম এস আলম, নওয়াব আলী আব্বাস খান, শফি উদ্দিন ভুঁইয়া, মাওলানা রুহুল আমিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রয়াত নেতার মেজো ছেলে মইনুল রাব্বী চৌধুরী এতে বক্তব্য দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা এ দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলের একটি। তাদের একটা গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে, সেই অতীত হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের অতীত, স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার অতীত এবং সবসময়ে সামনে থাকার একটা অতীত। কিন্তু এই নির্বাচনের ফলে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। আজকে আমার মনে হয় না এমনকি আওয়ামী লীগের যারা সমর্থক তারাও বলেছেন, আমি আমার ভোটটা দিতে পারলাম না  কেন? কারণ, তারা ভোট দিতে পারেনি। এটা সমগ্র  দেশের চিত্র।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০-দলীয় জোটের  সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘ঐক্যের  কোনো বিকল্প নেই। ২০-দলীয় জোট যখন গঠন হয় তখন একই কথা ছিল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যখন গঠন হয় তখন এই একই প্রশ্ন এসেছে। ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০-দলীয়  জোটের মধ্যে যে সেতুবন্ধন সেটাই বিএনপি তৈরি করেছে। সেটার অবশ্যই ঐতিহাসিকভাবে প্রয়োজন ছিল এবং প্রয়োজন আছে।  বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচন আমরা মানি না। এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কোনো মতেই হতাশার কোনো জন্ম না হয় তার জন্য সজাগ থাকা। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে সচেতনভাবে জাতীয় ঐক্যকে আরও বেশি দৃঢ় করা। কেউ যদি মনে করে থাকেন যে, একা বা এককভাবে ভয়াবহ দানবের সঙ্গে সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক বিজয় লাভ করবেন তাহলে তিনি সঠিক সত্যটা উপলব্ধি করতে পারছেন না। এটাই বাস্তবতা। যারা গণতান্ত্রিক  চেতনাকে ধ্বংস করেছে তাদের পরাজিত করতে হলে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।  জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন আছে। রাজনীতি করলে প্রশ্ন থাকবে। রাজনীতির চর্চার প্রয়োজন আছে। কোন পরিস্থিতিতে কোন পর্যায়ে  কোন উদ্যোগ সঠিক কী  বেঠিক  সে বিষয়ে আলোচনা আছে। সেই আলোচনাগুলোর জন্য ফোরাম রয়েছে। আমরা আশা করব,  সেসব  ফোরামে বিষয়গুলো সঠিকভাবে আলোচনা হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হতাশ হবেন না। আমাদের অনেকের বয়স হয়ে গেছে। সত্তরোর্ধ্ব বয়স অনেকের। আর বোধ হয় কিছুই হবে না। অবশ্যই হবে। হতাশাই তো শেষ কথা হতে পারে না। কারণ আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে, আমাদের সামনে নতুন প্রজন্ম আছে। তাদের সামনে বিরাট ভবিষ্যৎ আছে। তারা আরও বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হবে, আরও বেশি করে  তারা দেশকে ভালোবাসবে। দেশকে ভালোবেসে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’


আপনার মন্তব্য