Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২২

বিশেষ সাক্ষাৎকারে

সম্মেলনের চমক শেখ হাসিনার হাতে

রফিকুল ইসলাম রনি

সম্মেলনের চমক শেখ হাসিনার হাতে
মাহবুব-উল আলম হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিষ্কার হয়েছে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল। আওয়ামী লীগের এই বিশাল জয়, বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা। এই আস্থাকে মূল্যায়ন করতে আমাদের ব্যাপক কাজ করা প্রয়োজন। বড় জয়ে মানুষের বড় প্রত্যাশা থাকে। এখন জনগণের বিশাল প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজারে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে একথা বলেন।

নতুন সরকারের এই মুহূর্তে কোন কাজগুলো দ্রুত করা উচিত-এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর আমরা সরকার গঠন করি। সে সময়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা তাদের বিচার করেছি। এই যুদ্ধাপরাধীর একটি অংশ নানা নামে জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। অনেকটাই জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর তৎপরতা ছিল। তাদের তৎপরতাকে ভেঙে দিয়ে জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সক্ষম হয়েছি। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। সামনে সবচেয়ে বড় দুটো চ্যালেঞ্জের একটি হচ্ছে, মাদক নির্মূল করা। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, সমাজে দুর্নীতিটাকে পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন। আমাদের দলের সভানেত্রী ১৯৮১ সাল থেকে দলটির হাল ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ। আমরা মনে করি, সমসাময়িক সময়ে দেশেই নয়, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে এমন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আর কেউ নেই। দলের কাউন্সিলে সব কাউন্সিলর দলীয় সভানেত্রীর ওপর দায়িত্ব দেন কমিটি গঠনের জন্য। তিনিই ভালো জানেন কাকে দিয়ে দল পরিচালনা করলে দল শক্তিশালী হবে। সেক্ষেত্রে কোন পদে পরিবর্তন করা দরকার সেই বিষয় তিনি দেখবেন। কোনো চমক থাকবে কি-না তা নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রীর ওপর। ১৪ দলীয় জোটে কোনো টানাপড়েন চলছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট। জোট শরিকদের কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা থাকলে দলের নেতা-কর্মীদের বেশি সহায়তা করতে পারতেন। প্রত্যেক রাজনীতিবিদেরই প্রত্যাশা থাকে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা থাকবে। সে কারণে জোট শরিকরা মন্ত্রিপরিষদে থাকতে চাইলেও চাইতে পারে। তবে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ওপর।  তিনি যাদের ভালো মনে করেছেন তাদের রেখেছেন।

 এ নিয়ে জোটে টানাপড়েন চলছে বলে মনে করি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আশা করি সব ছাত্র সংগঠনের অংশ গ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। ফলাফল কেমন হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। প্রার্থী হলেই বোঝা যাবে নির্বাচন ফলাফল কেমন হবে। তবে আমরা একটা কথা বলতে পারি, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বর্তমানে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দশ বছরে দেশ অন্ধকার থেকে আলোরপথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। শুধু উন্নয়নই নয়, বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে ছাত্র সমাজের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। সে কারণে ছাত্রলীগ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, হয়তো সব দল অংশ নেবে। বিএনপি অংশ না নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত। তবে মনে হচ্ছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে চরম লজ্জাজনক পরাজয়ের পর আরেকটি হারের হাত থেকে বাঁচতেই উপজেলাতে অংশ নিচ্ছে না। বিএনপির এমন সিদ্ধান্ত ভুল। নির্বাচনে অংশ নিলে রাজনৈতিক লাভবান হতো। বিএনপি দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবে অনেকেই। উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচন হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর