Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৬

ছুটির দিনেও ডাকসু নিয়ে মুখরিত ক্যাম্পাস

নিজস্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ছুটির দিনেও ডাকসু নিয়ে মুখরিত ক্যাম্পাস

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মুখরিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আগামী ১১ মার্চ বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে সরগরম ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। বাড়াতে শুরু করেছে তাদের কার্যক্রম। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারাও ডাকসু নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বৈঠক করেন। গতকাল বিকালে গুলিস্তানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে ডাকসু ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও শর্ট লিস্ট (সংক্ষিপ্ত তালিকা) তৈরি করতে ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয় বৈঠকে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা যায়।

বৈঠক সূত্র জানায়, তথ্য সংগ্রহ ও সংক্ষিপ্ত তালিকা করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে জমা হওয়ার পর নীতিমালা ঠিক করা হবে- কারা কোন পদে নির্বাচন করবেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি সেই তালিকা থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন- আফজাল হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বি এম মোজাম্মেল হক, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, গোলাম রব্বানী চিনু, আনোয়ার হোসেন, মারুফা আক্তার পপি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে ছিলেন- মাঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরী, বাহাদুর বেপারী, লিয়াকত সিকদার, তারেক শামস হিমু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসাইন। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাশ ও সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সাদ্দামসহ ছাত্রলীগের বিগত কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অছাত্রদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের অছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বাগাড়ম্বর করছে। প্রধানমন্ত্রী চান ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্বের সৃষ্টি হোক, সেটা আমরাও চাই। আবদুর রহমান বলেন, ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক বিবেচনা করেই ডাকসুতে জয় পেতে হবে ছাত্রলীগকে। আগে রাজনীতিতে জিততে হবে, তাহলেই ডাকসুতে জয় পাওয়া সম্ভব। রাজনীতিতে না জিততে পারলে ভোট জিতা যায় না। রাজনীতির অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে ডাকসুতে জয়লাভ করতে হবে। আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ ভাগ ছাত্র হলে থাকে, আর ৪০ ভাগ ছাত্র ঢাকা শহর ও আশপাশের শহরে থাকে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের তাদের সঙ্গে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক হলে অ্যালামনাই আছে, বিভাগ অ্যালামনাই আছে, জেলা সমিতি আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ক্যাম্পাসে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। ডাকসুতে আমাদের বিজয় নিশ্চত করতে হবে। ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতাদের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ডাকসুতে ছাত্রলীগকে বিজয়ী করতে, কাজ করে যেতে হবে। এর আগে বুধবার ডাকসু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে দলীয় প্রার্থী বাছাইসহ বেশ কিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। এদিকে গতকাল সকালে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেন্দ্রের স্থান ঠিক করতে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে গণভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’। প্রতিদিনের মতো গতকালও ছাত্রনেতাদের আড্ডায় জমে উঠে ছাত্ররাজনীতির ‘রাজনীতির আঁতুড়ঘর’খ্যাত মধুর ক্যান্টিন। ডাকসু নির্বাচন শুধু মধুর ক্যান্টিনই নয়, ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের আলোচনার বিষয়। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ডাকসু ভবনে লাগানো হয়েছে নতুন নামফলক। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে চোখে পড়ছে নতুন নতুন লেখা। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আমেজ লেগেছে পুরো ক্যাম্পাসে।

তবে সকাল থেকে মধুর ক্যান্টিনে কিছুক্ষণ পর পর ভিড় জমাতে শুরু করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের ‘জয় বাংলা’র পাশাপাশি ‘১১ মার্চ জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’ এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে মধুর ক্যান্টিনে না এলেও জুমার নামাজ আদায় করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আসেন ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। পরে তিনি সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে বেশ কিছু কর্মী নিয়ে আড্ডা দেন।  ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’র সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আদালতে রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকায় ভোট কেন্দ্র কোথায় হবে, এই প্রশ্ন এসেছে। বিষয়টির মীমাংসা করতে প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোটের ব্যবস্থা করতে পারে। এটা তাদের জন্য খুব কঠিন হবে না।

লিখিত বক্তব্যে মঞ্চের আহ্বায়ক মওদুদ মিষ্টি বলেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে নাকি আসন দেওয়ার নিয়মই নেই। যেন বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বয়ং তাদের ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের খপ্পরে ঠেলে দিচ্ছে। ভোট নিয়েও যেন শঙ্কার শেষ নেই। আদতে ভোট হবে তো? নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে তো শিক্ষার্থীরা?


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর