Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২৭

ভোট পড়েছে ৩১ শতাংশ তবু সন্তুষ্ট সিইসি

উত্তর সিটির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোট পড়েছে ৩১ শতাংশ তবু সন্তুষ্ট সিইসি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে কোন কেন্দ্রে কত ভোট পড়েছে সে হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থাপিত ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে’ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার আবুল কাসেম। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও নতুন সংযুক্ত ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ হবে। বেসরকারি ফল ও চূড়ান্ত ফলে কোনো হেরফের হয়নি উল্লেখ করে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা করে রিটার্নিং অফিসার জানান, আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত ফলের গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দিতে পারব। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। তাতে দেখা যায়, এই সিটি করপোরেশনের ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ১৯ হাজার ৫১৩টি, বৈধ ভোটের সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজার ২৬টি। বৈধ ভোটের মধ্যে নৌকার প্রার্থী আতিক পেয়েছেন ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। মেয়র পদে অপর তিন প্রার্থী এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) ৮ হাজার ৬৯৫, পিডিপির শাহীন খান (বাঘ) ৮ হাজার ৫৬০ এবং স্বতন্ত্র আবদুর রহিম (টেবিল ঘড়ি) ১৪ হাজার ৪০ ভোট পেয়েছেন। মেয়র পদে উপনির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে সারা দিনই ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তবে ঘোষিত ফলাফলে ভোটের হার হয়েছে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটির ১৮টি করে মোট ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও ভোট হয় এদিন। পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে হয় উপনির্বাচন। দুই সিটি মিলিয়ে ১ হাজার ৭০০ এর বেশি কেন্দ্রে হয় এই ভোট; সব মিলিয়ে ভোটার ছিলেন ৪০ লাখের মতো। চার বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তরে ভোট হওয়ার পর ১৪ মে প্রথম সভা হয়। সে হিসেবে এ উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র বাকি মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবেন।

ভোটার কম হলেও সন্তুষ্ট সিইসি : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোর নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল মেনে নিয়েও সিইসি  কে এম নূরুল হুদা বলেছেন ভোটে তিনি সন্তুষ্ট। গতকাল সকালে ভোটার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি শেষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে এ কথা জানান সিইসি। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের পাশাপাশি  দেশের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা পরিষদ, মেয়র পদে ও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন/উপনির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোটে ভোটার ছিল উল্লেখযোগ্য হারে কম। সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ঢাকা সিটির নির্বাচনের মেয়াদ খুব কম, এটা প্রথম কারণ ভোটার কম উপস্থিত হওয়ার। প্রধান রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি, এটা দ্বিতীয় কারণ। আবহাওয়া খারাপ ছিল, তৃতীয় কারণ হলো এটা। এসব কারণে আশাব্যঞ্জক ভোটার উপস্থিত হয়নি। সিইসি বলেন, তবে বাইরে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেমন পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, সেখানে প্রচুরসংখ্যক ভোটার উপস্থিত ছিল। সেখানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে। ভোটে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে নূরুল হুদা বলেন, ‘হ্যাঁ, সন্তুষ্ট।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ভোটারদের যে উপস্থিতি, তা এ দেশের ভোটের প্রকৃত চিত্র নয়। তার দাবি, এ দেশের মানুষ সারি বেঁধে ভোট দিতে যায়। গতকাল ১ মার্চ ভোটার দিবস পালিত হওয়ায় ভোটাররা উদ্বুদ্ধ হবেন বলেও মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এদিকে গতকাল দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ভোটার দিবস পালন হয়। এ উপলক্ষে গতকাল শোভাযাত্রার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর