Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৫

ভিতর থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ

হচ্ছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা, বিনিয়োগ আসছে, জিডিপিতে বাড়ছে অবদান

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

ভিতর থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ

স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশকে এসে শিল্পায়নের সিঁড়িতে উঠে ভিতর থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তলাবিহীন ঝুড়িখ্যাত সেই ব-দ্বীপ রাষ্ট্র এখন তৈরি পোশাকের বৃত্ত ভেঙে গাড়ি থেকে জাহাজ, সিমেন্ট থেকে কাগজ, ওষুধ থেকে পাদুকা, ইস্পাত থেকে বিলেট নানা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে এসব খাতে। সত্তর দশকের কুটিরশিল্প আর আশির দশকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বাংলাদেশে স্থাপন হচ্ছে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা। অর্থনীতিকে নিয়ে যাচ্ছে নতুন উচ্চতায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় কমমূল্যের তৈরি পোশাক ছিল বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এখন পরিবেশবান্ধব নতুন নতুন গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। পোশাক খাতেও এখন বড় বড় বিনিয়োগ আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল তৈরি পোশাক খাতে বিশ্বের সেরা ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির যে স্বীকৃতি দিয়েছে- এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়সহ ৭টি বাংলাদেশের। এসব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন হচ্ছে উচ্চমূল্যের পোশাক ও ডেনিম পণ্য। চীনকে হটিয়ে ইউরোপের বাজারে এখন শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরি ডেনিম পোশাক। এক দশক আগেও দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এখন এ ধরনের বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে দেশীয় শিল্প গ্রুপ। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল শোধনাগার প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। সীতাকুণ্ডে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে দেশের ইস্পাত শিল্পে। এই বিনিয়োগ আরও বাড়াতে এগিয়ে এসেছে অন্যতম শিল্প গ্রুপ

পিএইচপি ফ্যামিলি। মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনে প্রায় ৪৪০ একর জমিতে ইস্পাত কারখানা স্থাপন করবে পিএইচপি স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড। ওই কারখানায় প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইস্পাত কারখানায় বড় বিনিয়োগে আসছে দেশের আরেক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টস। বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটালের সঙ্গে তারা যৌথভাবে ৫৯ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও এগিয়ে গেছে দেশের বেসরকারি খাত। স্পেন, ফ্রান্স, ইতালির মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোও এখন বৃহদাকারের জাহাজ তৈরির জন্য বাংলাদেশে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে গুণগত মানসম্মত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে দেশের শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি মোট ২৭টি জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। বর্তমানে দেশে রয়েছে ১০টিরও বেশি শিপইয়ার্ড, যারা আন্তর্জাতিক মান ও উচ্চ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ জাহাজ নির্মাণে সক্ষম।

এরই মধ্যে জাপানের অন্যতম গাড়ি ও মোটরবাইক নির্মাণ কোম্পানি হোন্ডা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কারখানা নির্মাণ করেছে। বিদেশি এসব কোম্পানির বাইরেও ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পে নিজস্ব ব্র্যান্ডে সুনাম অর্জন করেছে ওয়ালটন ও রানার-এর মতো দেশীয় কোম্পানিগুলো। ওয়ালটনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় ব্র্যান্ড রানার অটোমোবাইলের তৈরি বাংলাদেশি মোটরসাইকেল এখন পার্শর্¦বর্তী দেশ নেপালে রপ্তানি হচ্ছে। খুব শিগগিরই আফ্রিকার দেশগুলোতেও দেখা যাবে রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।

ইস্পাতের পাশাপাশি বিলেট শিল্পও সম্প্রসারণ হচ্ছে দেশে। বিদ্যুৎ-সংকট কেটে যাওয়ায় এই খাতে নতুন নতুন কারখানা গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। এখন রড ও রডজাতীয় পণ্য তৈরির কারখানাগুলো নিজেরাই পুরনো লোহা গলিয়ে বিলেট উৎপাদন করছে। ১৯৯৬ সালে দেশের বিলেট তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা গড়ে তোলে বিএসআরএম গ্রুপ। এই গ্রুপটি এখন বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন বিলেট উৎপাদন করছে।

অটোমোবাইল শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে এরই মধ্যে বিশ্বের সুনাম অর্জনকারী গাড়ি (প্রাইভেট কার) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার প্রোটন-সাগা চট্টগ্রামে কারখানা স্থাপন করেছে। ভারতের আরেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্রা বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থাপনের চিন্তা করছে। এ ছাড়া চীনের জিলি, ইরানের সাইপা, ভারতের টাটা, বাজাজ-এর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশে শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পে সব খাতেই বিকাশ ঘটছে সমানতালে। দেশে এখন কমপক্ষে ২০টি বড় শিল্প গ্রুপ রয়েছে যারা যে কোনো প্রকল্পে ১০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্তত একশ শীর্ষ ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চিত্রটাই পাল্টে দিচ্ছেন। আর সহজলভ্য ও সস্তা শ্রম, প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বাজার এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও মানুষের আয় বৃদ্ধির কারণে চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ভারী শিল্প স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের একটি রাজকীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে বিদ্যুৎ প্লান্ট, সার-কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, কেমিক্যাল কারখানা, হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন  খাতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে গেছে। সৌদির এসব প্রস্তাবের সবই হবে বড় শিল্পে বিনিয়োগ। 

বিআইডিএসের রিসার্স ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম প্রজন্মের শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহায়তা করেছে। এখন দ্বিতীয় প্রজন্মের যে শিল্পোদ্যোক্তা গ্রুপ তৈরি হয়েছে তারা ভারী শিল্পের বিকাশে কাজ করছে। বিআইডিএসের এই গবেষক বলেন, ভারী শিল্প দিয়েই একটি দেশের উন্নত রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের ভিতর থেকে বদলে যাওয়াটা সঠিক পথেই আছে। তবে বড় শিল্পের বড় কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। সরকারের নীতি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা না পেলে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারকে বড় শিল্প বিকাশে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে গার্মেন্ট শিল্পের অবদান ছিল ১২ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার আয় আসে অন্য খাত থেকে। এক দশক পর এখন গার্মেন্ট বাদে অন্য খাত থেকে সেই রপ্তানি আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ইপিবি বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গার্মেন্ট খাতে রপ্তানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্য খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

রপ্তানি আয়ের হিসাব দেখাতে ইপিবি ২০০৮-০৯ অর্থবছরের রপ্তানি পণ্যের যে তালিকা তৈরি করেছিল সেখানে পণ্যের সংখ্যা ছিল ২৭টি। ইঞ্জিনিয়ারিং কোটায় মাত্র দুই ধরনের পণ্যের উল্লেখ ছিল, বাইসাইকেল ও আয়রন চেইন। এক দশক পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এখন ওই সংস্থার রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রকৌশল পণ্যের কোটায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আয়রন স্টিল, কপার ওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিল ওয়্যারসহ অন্যান্য প্রকৌশল উপকরণ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ধীরে হলেও রপ্তানি খাতে নতুন পণ্য যোগ হচ্ছে। গার্মেন্ট শিল্পের পাশাপাশি, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, পাদুকা, কাগজ, সিমেন্ট ও সফটওয়্যার শিল্প রপ্তানি আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এতে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য বাড়ছে।

এক দশক আগেও কাগজ ও সিমেন্ট রপ্তানির কোনো তথ্য ছিল না ইপিবির তালিকায়। রপ্তানি বাড়ায় এই দুটি পণ্য ইপিবির রপ্তানি তালিকায় উঠে এসেছে। গত অর্থবছরে কাগজ ও কাগজ জাতীয় পণ্যের রপ্তানিতে আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর সিমেন্ট রপ্তানি করে আয় হয় প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এখন সিমেন্ট উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে এখন ৩ কোটি টন সিমেন্ট উৎপাদিত হচ্ছে এবং উৎপাদনক্ষমতা ৬ কোটি টন। উদ্যোক্তারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও যেখানে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে বিদেশি উপকরণের ওপর ভরসা করতে হতো, এখন সেখানে অনেক উপকরণই পাওয়া যাচ্ছে দেশে। দেশীয় শিল্প-কারখানায় তৈরি সিমেন্ট দিয়েই নির্মাণ হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শুধু তাই নয়, প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আরেক মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও দেশীয় সিমেন্ট কোম্পানি বসুন্ধরার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সরকারের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাধীনতার পরও এক দশক পর্যন্ত দেশের শিল্প বলতে ছিল পাট, কাগজ ও চিনিকল, তাঁতবস্ত্র কারখানা, হস্ত ও কুটিরশিল্পের মতো ছোট ছোট এলাকাভিত্তিক কয়েকটি শিল্প। পাটকল বা কাগজ শিল্প সবই ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এখন এসব খাতের প্রায় পুরোটাই এগিয়ে নিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশে এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাগজের কারখানা স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এই গ্রুপের পেপার মিলসের উন্নত মানের কাগজ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চিনি পরিশোধনেও এগিয়ে রয়েছেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। তারা এখন পরিশোধিত চিনি বিদেশে রপ্তানি করতে চাইছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বস্ত্র ও পোশাকশিল্প গত কয়েক দশকে অর্থনীতির মেরুদ  হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এখন অন্যান্য শিল্পেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বেসরকারি খাতে ওষুধশিল্পের অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো। বিশ্বমানের ওষুধ এত কম দামে আর কোথাও পাওয়া যায় না। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ রপ্তানি করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে বাংলাদেশ। বেক্সিমকো গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপের ওষুধ এখন আন্তর্জাতিক মানদে র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে যাচ্ছে। বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশে ওষুধশিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে বিশ্বের ১৪৪টি  দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলে প্রায় ৩০টির মতো বৃহৎ জুতা কারখানা গড়ে উঠেছে। দেশের মধ্যে ইয়ং ওয়ান সর্ববৃহৎ জুতার কারখানা স্থাপন করেছে। এ ছাড়া অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারও দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করছে বাংলাদেশের জুতা। ২০২১ সালের মধ্যে চামড়াজাত ফুটওয়্যার ও অন্যান্য পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে আয় হচ্ছে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

শিল্প খাতের এই অগ্রগতির প্রভাব পড়ছে মোট দেশজ উৎপাদনেও (জিডিপি)। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসাবে এটি ঠিক থাকলে প্রথমবারের মতো জিডিপি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আর ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে মাত্র ৩ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পেছনে মূলত শিল্প খাতই বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মূলত শিল্প খাতের হাত ধরে প্রবৃদ্ধির আকার বেড়েছে। কৃষি, শিল্প ও সেবাÑ এই তিনটি খাতের প্রবৃদ্ধি যোগ হয় জিডিপিতে। এর মধ্যে কৃষি খাতে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১৩ দশমিক ০২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ। উৎপাদনে যে গতি অর্জন হচ্ছে, তাতে ২০২০ সালের পরের ৩ বছরে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব নয়।


আপনার মন্তব্য