Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩৯

পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা দিল বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বস্তরের মানুষের কথা নির্ভীকভাবে বলে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিন : স্পিকার গণমাধ্যমকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করতে হবে : বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা দিল বাংলাদেশ প্রতিদিন
দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন পাঁচ গুণী ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননা জানায় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পাঁচজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এই বিশেষ সম্মাননার আয়োজন করা হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘এ দেশের গুণী এবং কৃতী সন্তানদের সম্মাননা জানাতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।’ অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়ে সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশ প্রতিদিনের। অবস্থান অর্জনের চেয়ে ধরে রাখা কঠিন। এই শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের।’

সম্মাননা পেলেন যারা : বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠতম কবি শামসুর রাহমান (মরণোত্তর), দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ্ বেগম কবরী ও ফরিদা আখতার ববিতা এবং স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। কবি শামসুর রাহমানের সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্রবধূ টিয়া রাহমান এবং ফরিদা আখতার ববিতা দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন ছোট বোন অভিনেত্রী গুলশান আখতার চম্পা।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পাঁচ গুণী ব্যক্তির হাতে সম্মাননা তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘দশ বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশের সর্বস্তরের মানুষের কথা নির্ভীকভাবে বলে যাচ্ছে। প্রত্যাশা করি আগামীতেও তারা বস্তুনিষ্ঠ নির্ভীক সাংবাদিকতার এই ধারাকে অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এই মার্চ মাসে। তার ‘‘স্বাধীনতা তুমি’’ কবিতা আমাদের আন্দোলিত করে। সম্মাননাপ্রাপ্ত অধিকাংশ গুণী ব্যক্তিই নারী। এটা আমার জন্য ভীষণ আনন্দের। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে মেধার উৎকর্ষে বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।’

গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘দেশের কৃতী সন্তানদের সম্মাননা জানানোর এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার তিনটি পত্রিকা, একটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং একটি রেডিও রয়েছে। আমাদের গণমাধ্যমগুলোর অবস্থান সব সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক। নারীদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতি শনিবার নারীদের সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরছে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিনের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই সংবাদপত্রের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে আপনাদের নিরন্তর পরিশ্রম করতে হবে। পত্রিকাতে প্রতিদিনই পরীক্ষা দিতে হয়। এক দিনের পত্রিকাতে ভুল হলে সেটা নিয়েই সমালোচনা শুরু হবে। এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের পক্ষে সব সময় থাকতে হবে। জনগণের পক্ষে থাকতে গিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, সংবাদকর্মীদের অসংখ্য মামলার বেড়াজালে পড়তে হয়েছে। তবু পিছপা হওয়া যাবে না।’

নগর উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া কাজ করবে। বিশ্বের ব্র্যান্ডিংয়ে আমরা কাজ করব। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে এখন পুরো বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়। দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ প্রতিদিন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন একটি বাসযোগ্য নিরাপদ নগরী গড়তে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন নিরাপদ ঢাকা গড়ব।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এই গণমানুষের পত্রিকার সহযোগিতা কামনা করছি। ঢাকা শহরকে নিরাপদ বাসযোগ্য করে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বাংলাদেশ প্রতিদিন।’

সম্মাননা গ্রহণ করে সারাহ্ বেগম কবরী বলেন, ‘শুরু থেকেই সংবাদের স্বকীয়তায় বাংলাদেশ প্রতিদিন হট কেকে পরিণত হয়। জনপ্রিয় এই পত্রিকাকে অভিনন্দন জানাই।’ তিনি বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্য যাদের মধ্যে নেই তারা এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে না। এ জন্য আমি বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন, সাংস্কৃতিক জগতের মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে উদ্দেশ করে সারাহ্ বেগম কবরী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে আপনার কাছে প্রত্যাশা, সিনেপ্লেক্স তৈরিতে সরকারের সঙ্গে আপনিও আমাদের সহযোগিতা করবেন। সিনেমা বানানোর জন্য আপনার সহযোগিতা চাই। রাজা আসে যায় কিন্তু সেলুলয়েডের পর্দায় স্মৃতি হিসেবে এই সৃষ্টিশীলতা থেকে যায়। এই স্মৃতি আপনাকে সম্মান, প্রশান্তি এবং ভালোবাসা দেবে।’

সম্মাননা গ্রহণ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন অনেকগুলো পত্রিকা নিই এবং পড়ি। কিন্তু সারা দিনে বাংলাদেশ প্রতিদিন না পড়লে মনে হয় কিছু একটা বাদ পড়েছে। শুধু দেশে নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও বাংলাদেশ প্রতিদিন ভীষণ জনপ্রিয়। আমি আনন্দিত এবং গর্বিত যে, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আমাকে সম্মাননা দিচ্ছে।’

সম্মাননা গ্রহণ করে হানিফ সংকেত বলেন, ‘আমাকে সম্মাননা দেওয়ায় আমি আনন্দিত, উৎফুল্ল, উচ্ছ্বসিত এবং উদ্দীপ্ত। পুরস্কার পেলে মানুষ বলে, এই অর্জন আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমটির সঙ্গে আমি একমত হলেও দ্বিতীয়টির সঙ্গে দ্বিমত। পুরস্কার আমার দায়িত্ব বাড়ায়নি। দায়িত্ববান মানুষ কাজ করে বলেই পুরস্কৃত হয়। আমরা সবাই যে যার দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কাজ করি। সেটা পুরস্কারের জন্য নয়।’ বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানের ব্যানারের শুরুতে লেখা রয়েছে- আমরা জনগণের পক্ষে, দ্বিতীয় লাইনে আছে- দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক, এর পরে লেখা রয়েছে- বাংলাদেশ প্রতিদিন। জনগণ কিন্তু খুব দুর্ভাগা। সবাই জনগণকে ব্যবহার করে। এই জনগণের পক্ষে কথাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন যথার্থভাবে বজায় রেখেছে। সাধারণ মানুষ এই পত্রিকাটি পড়ে। জাতীয় সংসদে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাম ঘোষিত হয়েছে। সাংবাদিকের কাজই বিশ্বাস এবং সত্যের সঙ্গে। বাংলাদেশ প্রতিদিন মানুষের সেই বিশ্বাস ধরে রেখেছে।’ সম্মাননা গ্রহণ করে অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতার পক্ষে তার বোন অভিনেত্রী গুলশান আখতার চম্পা বলেন, একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে ববিতা এখন আমেরিকায় অবস্থান করছেন। তিনি এই সম্মাননার প্রতিক্রিয়ায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করায় আমি গভীরভাবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতি কৃতজ্ঞ। সেই সরল কৈশোরে বেণি-দুলানো কিশোরী পপি হয়ে উঠল ববিতা। এরপর অবিরাম পথচলা। জীবনের এই ছোট্ট আঁকাবাঁকা পথে দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে সিক্ত করেছে বার বার। বাংলাদেশ প্রতিদিন ভাষার কথা বলে হয়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের সীমানা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। আমি এই পত্রিকার একজন গর্বিত পাঠক।’

 


আপনার মন্তব্য