Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১০

আওয়ামী লীগ ৫১, বিদ্রোহী ২৭ প্রার্থী বিজয় - ভোটের হার নিয়ে মাথাব্যথা নেই : ইসি

বর্জন ভোটার কম সংঘর্ষ গুলি

তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যুবলীগ নেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্জন ভোটার কম সংঘর্ষ গুলি
তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও ভোটার নেই। অলস সময়ে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন নিরাপত্তা কর্মী। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আল-হেরা ইসলামী একাডেমি কেন্দ্রে গতকাল -বাংলাদেশ প্রতিদিন

উপজেলা পরিষদের তৃতীয় দফা নির্বাচনেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। আগের দুই দফার মতোই অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ছিল ভোটারশূন্য। ছিল জাল ভোটের ছড়াছড়ি। কুষ্টিয়ায় আনন্দ মিছিলে জাসদ নেতা-কর্মীদের হামলায় এক যুবলীগ নেতা নিহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কেন্দ্র দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পাঁচটি কেন্দ্রে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলায় ওই উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রত্যাহার করা হয়েছে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকেও। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোট বর্জন করেছেন একাধিক প্রার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে ১৪টি কেন্দ্রে। এছাড়া নানা অনিয়ম, জাল ভোট প্রদানসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যদিয়েই শেষ হয়েছে তৃতীয় দফায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় দফায় রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও চট্টগাম বিভাগের ২৫ জেলার ১২৭ উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হলেও স্থানান্তর, আদালতের স্থগিতাদেশ ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ১০ উপজেলায় নির্বাচন হয়নি। বাকি ১১৭টি উপজেলায় ভোট হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৫৫ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৩৩, ভাইস চেয়ারম্যান ৯, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ জন। ১১৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩৪০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৮৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ধাপে নির্বাচনে ৯ হাজার ২৯৮টি ভোট কেন্দ্রে এক কোটি ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার গাংনী উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই চেংগাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ পিরিচ) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেংগাড়া ভোট কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়। পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  মুজিবনগর উপজেলায় আনন্দবাস মিয়া মুনসুর এমএম একাডেমি ভোট কেন্দ্রে পোলিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে রাসেল ও তার সঙ্গীরা।কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮৯টি কেন্দ্রের সবকটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ভোটগ্রহণের আগের রাতে দুর্বৃত্তরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ ওঠায় সবকটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। রাতে সিল মারার বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লায়ন আলী আকবর আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বাজিতপুর উপজেলায় পাঁচটি কেন্দ্র  ও ভৈরব উপজেলার তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে করিমগঞ্জ উপজেলার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন খাদ দিদার ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে ৮টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। এর বাইরে জেলার অপর ১৩টি উপজেলার বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা সদর, শালিখা, মহম্মদপুর ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বরিশালের ৭টি উপজেলায় নির্বাচন হলেও ভোটার না থাকার কারণে অলস সময় কাটিয়েছেন ভোটগ্রহণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভোটার উপস্থিতি না থাকার কারণ হিসেবে ভোটাররা তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান এবং পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হওয়ায় দুই উপজেলায় কোনো ভোটগ্রহণ হয়নি। এছাড়া বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও বানারীপাড়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।  নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, কম ভোটার উপস্থিতির মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নরসিংদীর চারটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার রাজৈর ও কালকিনি উপজেলায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কালকিনি উপজেলার স্নানঘাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৭টি। রাজৈর উপজেলার খালিয়া রাজারাম ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে বিকাল সাড়ে ৩টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৪৬টি। রাজৈর উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মহসিন মিয়া দাবি করেছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্র দখল করেছে। সাধারণ অনেক ভোটারই ভোট প্রয়োগ করতে পারেননি। কালকিনি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।  লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জেলার ৫টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একবারেই কম। কিছু কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও নারী ভোটার একেবারেই দেখা যায়নি। ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুমকে মারপিট করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এ সময় পুলিশ শাহিন নামের এক পোলিং এজেন্টকে আটক করেছে। ব্যালট পেপার না দেওয়ায় তাকে মারপিট করা হয়। এছাড়া জাল ভোটা দেওয়ার অভিযোগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ১৫নং ঈশ্বরবা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শৈলকুপা উপজেলায় কেন্দ্র দখল নিয়ে মির্জাপুর ও কাজেরকোল কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় আনন্দ মিছিল থেকে এক যুবকের মৃত্যু : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দাবি তিনি যুবলীগ নেতা। ভোটের হার নিয়ে ইসির মাথাব্যথা নেই : উপজেলা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে ভোট পড়ার হার নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির। তৃতীয় ধাপেও আগের ধারাবাহিকতায় ৪০-৪৫% ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল তৃতীয় ধাপের ভোট শেষে সাংবাদিকদের এ প্রতিক্রিয়া জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। চার উপজেলায় ইভিএমে ভোট, অনিয়মও নেই : জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো চারটি সদর উপজেলায় সফলভাবে ইভিএমে ভোট হয়েছে। এসব উপজেলার ৩৪০টি কেন্দ্রের ২২৬৩ ভোটকক্ষে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। এ চার উপজেলায় কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি; অনিয়মের সুযোগও ছিল না। ভোটাররা উৎসাহী হয়ে ভোট দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অনেক এলাকায় নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা গতকাল তাদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

যারা বিজয়ী হলেন : গতকাল ১১৬টি উপজেলার মধ্যে ৮৩  উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়। রাত ১টা পর্যন্ত ৭৯টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ৫১টি এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ২৭টি ও একজন জাতীয় পার্টির প্রার্থী উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ভোট ছাড়াই এ ধাপে ৩৩ জন চেয়ারম্যান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) নির্বাচিত হয়েছেন। অনিয়মের কারণে বিভিন্ন উপজেলার ১৪ কেন্দ্রে এবং কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পুরো ভোট বন্ধ করে কমিশন। অনেক উপজেলায় ভোট বর্জন করেছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া ভোটারশূন্য ছিল অধিকাংশ কেন্দ্র। গল্প করে সময় কাটিয়েছেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা। গতকাল তৃতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণের কথা ছিল, পরে একটি উপজেলার ভোট গ্রহণ পুরো বন্ধ করা হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। তবে ২৫ জেলার তৃতীয় ধাপে ১২৭ উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী ধাপে স্থানান্তর, আদালতের আদেশে স্থগিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ১০ উপজেলা বাদ পড়েছে। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ৫৫ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৩৩, ভাইস চেয়ারম্যান ৯, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ জন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৪০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৮৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ধাপে নির্বাচনে ৯ হাজার ২৯৮টি ভোট কেন্দ্রে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। তৃতীয় ধাপে অনিয়মের কারণে এ ধাপে মোট ৯ হাজার ২৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পুরো ভোট। খুলনা বিভাগ : ঝিনাইদহের ৪টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ২ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ২ প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে সদরে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ, শৈলকুপায় মোশারফ সোনা শিকদার (স্বতন্ত্র) বিদ্রোহী, হরিণাকুন্ডুতে (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও কালীগঞ্জে বিনা ভোটে নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।  নড়াইলের তিন উপজেলার মধ্যে সদরে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন খান নিলু ও কালিয়ায় কৃষ্ণপদ ঘোষ এবং লোহাগড়ায় (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র শিকদার আবদুল হান্নান রুনু বিজয়ী হয়েছেন। মাগুরায় ৪ উপজেলার ১টিতে নৌকা, ৩টিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) জয় পেয়েছে। সদরে আওয়ামী লীগের আবু নাসির বাবলু, শালিখাতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মহম্মদপুরে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) আবু আবদুুল্লাহেল কাফি, শ্রীপুরে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী) মাহামুদুল গনি শাহিন নির্বাচিত হয়েছেন। মেহেরপুরের গাংনীতে আওয়ামী লীগের এম. এ. খালেক বিজয়ী হয়েছেন। বাকি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বরিশাল বিভাগ : বরিশালের ৩ উপজেলার মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগের কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, উজিরপুরে আবদুুল মজিদ সিকদার বাচ্চু ও হিজলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বেলায়েত হোসেন ঢালী বিজয়ী হয়েছেন। ঝালকাঠি ৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। তারা হলেন সদরে খান আরিফুর রহমান, রাজাপুরে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির, কাঁঠালিয়ায় এমদাদুল হক মনির এবং নলছিটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিদ্দিকুর রহমান বিজয়ী হন। ময়মনসিংহ বিভাগেরÑশেরপুরের তিনটি উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটিতে আ’লীগ প্রার্থী। ঝিনাইগাতীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ এস এম আবদুুল্লাহ হেল ওয়ারেজ নাঈম, শ্রীবরদী স্বতন্ত্র প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলাম, নালিতাবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুকছেদুর রহমান লেবু বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিভাগ : নরসিংদীর শিবপুরে আওয়ামী লীগের হারুনুর রশিদ খাঁন, মনোহরদীতে সাইফুল ইসলাম খাঁন বীরু, বেলাবতে শমসের জামান ভূইয়া রিটন এবং রায়পুরায় স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) আবদুস সাদেক বিজয়ী হয়েছেন। শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া এ জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। গাজীপুরে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন কাপাসিয়ায় আমানত হোসেন খান (আওয়ামী লীগ)। কালিয়াকৈরে কামাল উদ্দিন সিকদার (স্বতন্ত্র), শ্রীপুরে শামসুল আলম প্রধান (স্বতন্ত্র)। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সোহেল বিজয়ী হয়েছেন। চট্টগাম বিভাগ : চাঁদপুরের ৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা  প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সদর আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ফরিদগঞ্জে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, শাহরাস্তিতে মো. ফরিদ উল্যাহ চৌধুরী, কচুয়ায় শাহজাহান শিশির নির্বাচিত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার মধ্যে ৩টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ২টিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। লক্ষ্মীপুর সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, রামগতিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী  শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, কমলনগরে বিদ্রোহী প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি এবং রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনির হোসেন চৌধুরী, রায়পুরে মামুনুর রশীদ। কক্সবাজারে ৬ উপজেলার মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন ব্যতীত অন্য ৫ উপজেলায় নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়া উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। ৫ উপজেলায় আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন পেকুয়ায় জাহাঙ্গীর আলম, চকরিয়ায় ফজলুল করিম সাইদী, মহেশখালীতে শরীফ বাদশা, রামুতে সোহেল সরওয়ার কাজল ও টেকনাফে নুরুল আলম।


আপনার মন্তব্য