Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪১

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ শুরু হবে কি?

প্রস্তুত ঘুমধুম ঘাট, ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার

আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ শুরু হবে কি?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পূর্বনির্ধারিত দিন আজ। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের টেকনাফের শালবাগান ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম ট্রানজিট ঘাটে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত যানবাহন। এ ছাড়া নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতকাল সন্ধ্যায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশের মিয়ানমার দূতাবাসের একজন এবং চীনা দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তা গতকাল বিকালে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। এদিকে প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৩ পরিবারের মধ্যে ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) ও ইউএনএইচসিআর মঙ্গল ও বুধবার দুই দিনে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করে। তালিকায় থাকা ৯৫ ভাগ রোহিঙ্গার কাছে প্রত্যাবাসনের বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যাবাসনের জন্য ঘুমধুম ঘাটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে সেনা, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের ক্যাম্পে টহল জোরদার করা হয়েছে। গতকাল টেকনাফে শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। শালবাগান সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) অফিসে সাক্ষাৎকার প্রদান শেষে ফেরার পথে রোহিঙ্গা মো. আলম, ইসমাইল, নুর বাহার, নুরুল ইসলাম, নুর হাসান ও শব্বির আহমদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, দাবিদাওয়া পূরণ করা হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবেন। অন্যথায় তারা ফিরতে রাজি নন। তাদের কথা থেকে বোঝা যায়, তারা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নন।

তাদের দাবিদাওয়ার মধ্যে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটেবাড়ি ও জমিজমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত, কারাগারে বন্দী রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা ও ধর্ষণের বিচার, অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা প্রদানসহ একাধিক শর্ত রয়েছে। এসব রোহিঙ্গার সবাইকে অনেকটা শেখানো বুলির মতো একই সুরে কথা বলতে দেখা গেছে। এদিকে প্রত্যাবাসনবিরোধী একটি চক্র ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় রয়েছে। তাদের চোখরাঙানিতে তটস্থ সাধারণ রোহিঙ্গারা। এমনকি তারা উচ্চ স্বরে কথা বলতেও শঙ্কিত। অদৃশ্য এ চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। প্রত্যাবাসনে রাজি ১০-১৫টি পরিবারের খবর জানা গেলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফের নয়াপাড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (২৬ নম্বর) ইনচার্জ মো. খালিদ হোসেন জানান, দুই দিনে ২৩৫টি পরিবারপ্রধানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ২১টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তবে এদের মধ্যে কতটি পরিবার প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়েছে তা সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া শেষে জানা যাবে। আগের দিনের চেয়ে সাক্ষাৎকার প্রদানে রোহিঙ্গাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানান তিনি। প্রত্যাবাসনবিরোধী একটি চক্র সক্রিয় থাকার ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ মো. খালিদ হোসেন জানান, কোনো রোহিঙ্গাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এ রকম কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। টেকনাফ র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব জানান, র‌্যাবের তিনটি টহল দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী উসকানিমূলক কর্মকা- ঠেকাতে কাজ করছে তারা। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, ঘুমধুম ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে। এ ব্যাপারে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নি-িদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। মিয়ানমারের একজন ও চীনের দুজন প্রতিনিধি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৩টি পরিবারের মধ্যে যে ২৩৫টি পরিবারের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে তাদের মধ্য থেকে ফিরতে ইচ্ছুকদের চূড়ান্ত করা হবে। রোহিঙ্গাদের পরিবহনের জন্য পাঁচটি বাস ও তিনটি ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত ঘুমধুম ঘাট : প্রত্যাবাসনের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। নাফ নদীর কিনারে কেরুনতলী প্রত্যাবাসন ঘাটে রোহিঙ্গাদের সাময়িক অবস্থানের জন্য ৩৩টি ঘর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জলপথে প্রত্যাবাসন হলে এ ঘাট দিয়েই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে স্থলপথে প্রত্যাবাসন হলে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।


আপনার মন্তব্য