Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৯

যৌথ ভাগাভাগি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

যৌথ ভাগাভাগি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে

অনিয়মের বাসা বেঁধেছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। উন্নয়নকাজের অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জাহাঙ্গীরনগরের বিতর্কের পর আলোচনায় এসেছে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শাখা কমিটির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যরা উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি দিচ্ছেন নিজেদের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে। এ নিয়ে বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে,   সেখানে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রলীগের। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ৬ মে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৮ হাজার ৮৮ দশমিক ৪৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা অ-উন্নয়ন কর্মকা  এবং বাকি ২ হাজার ৯৯৯ দশমিক ৩ কোটি টাকা উন্নয়ন কর্মকান্ডে  ব্যয় করা হবে। এসব প্রকল্পে ভাগাভাগি বসাতে ছাত্রলীগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বন্দ্ব নতুন করে শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। বিতর্কে জড়িয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামও। এ কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ছাত্রলীগের অপসারিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের মধ্যকার নতুন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে ফোনালাপের তথ্য ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা। অন্যদিকে গতকাল শাখা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়েছে। ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা ভাগ করে দিয়েছেন। উপাচার্যের বাসায় টাকা বাটোয়ারার ওই বৈঠকে সাদ্দাম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে অস্থিরতা চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগে। এর মূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পের টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা রয়েছে বলে জানা গেছে। আট মাস কমিটি স্থগিত থাকার পর গত ১৪ জুলাই মধ্যরাতে রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন সদ্যসাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কমিটি হওয়ার ১০ দিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে বর্তমান কমিটির সঙ্গে স্থানীয়দের গ্রুপিং শুরু হয়। গত ৬ আগস্ট টেন্ডার বাটোয়ারা নিয়ে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে মৌনমিছিল করে এই বিদ্রোহী পক্ষ। এরপর গ্রুপিং আরও প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, নেতাদের মধ্যে টেন্ডার ভাগাভাগির সমঝোতা হলে এক হয়ে যায় বিদ্রোহীদের একাংশ। এরপর আগস্টের মাঝামাঝি ফের টেন্ডার নিয়ে গ্রুপিং শুরু হয়। ২৫ আগস্ট মধ্যরাতে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মারধর করে বিদ্রোহী গ্রুপ। এ সময় উভয় গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারপর আবারও সমঝোতায় আসেন তারা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়। এ প্রকল্পেও ভাগ বসাতে চান ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও শাখা ছাত্রলীগ এতে রাজি না হওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অজুহাতে ওই শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভিন্ন পদে নিয়োগ, আপগ্রেডেশনও দিয়েছেন খেয়ালখুশিমতো। কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি এ অপকর্ম করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে করেছেন আত্মীয়করণ। মাস্টাররোলে একের পর এক নিয়োগ দিয়েছেন। কিছুদিন আগে তিনি ক্যাম্পাস বন্ধের দিনে তড়িঘড়ি করে ২৫ জনকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ দেন। উপাচার্যের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী, ইউজিসি ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানা গেছে, আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এই উপাচার্য বিলাসবহুল বাংলো নির্মাণ করলেও তিনি সেখানে বাস করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে মাত্র ১ হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন তিনি। বিলাসবহুল বাংলো ফেলে তার প্রশাসনিক ভবনে থাকা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মজাদার সব কিস্সা পয়দা করেছেন। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়োগ বাণিজ্য ও নৈতিক স্খলনের। গত বছরের নভেম্বরে অভিযোগ ওঠে, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ১১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন এই উপাচার্য। রফিকুল ইসলাম নামের একজন চাকরিপ্রার্থী দুদকে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়। গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া, নিয়োগে বাণিজ্য করা, ইচ্ছামতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ভিসি কোটার নামে তিনি কয়েকটি বিভাগে নিয়মবহির্ভূতভাবে বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী ভর্তি করিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর