Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৮

ডিবি থেকে সম্রাটকে র‌্যাবে

রাঘববোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন, প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিবি থেকে সম্রাটকে র‌্যাবে

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুজনকেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয় থেকে গতকাল বিকালে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় ডিবি পুলিশ মাদক ও অস্ত্র মামলার নথিপত্রও র‌্যাবকে বুঝিয়ে দেয়। এর আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দফতরে জেরার মুখে সম্রাট ক্যাসিনো অভিযানে তাকে গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তো অনেকেই পেয়েছেন। শুধু আমাকে কেন দায়ী করা হচ্ছে? আমাকেই কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? সুবিধাভোগী রাঘববোয়ালরা বাইরে কেন?’

গুলিস্তানেই প্রথম শুরু হয়েছিল সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা। মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে তার ক্যাসিনোর ব্যবসা দেখভাল করতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এসব জানান সম্রাট। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে ডিবি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর গুলিস্তানের ফুটপাথে কাপড় বিক্রি করতেন শাহাবুদ্দিন। সে সময় তিনি জড়িত ছিলেন ইউনিট যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে যুবলীগের মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতে শুরু করেন শাহাবুদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। এরপর গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, আদর্শ মহানগর মার্কেটসহ আশপাশের অধিকাংশ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেন শাহাবুদ্দিন। মার্কেটগুলোয় অবৈধ দোকান স্থাপনসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও বঙ্গবাজারের পাঁচটি মার্কেট। বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ জায়গায় দোকান স্থাপন করে তিন-চারজনের কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। প্রভাবশালী বলে শাহাবুদ্দিনের কাছে কেউ টাকা চাইতে সাহস পেতেন না। মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র দেখভাল করায় ওই ক্লাবের ক্যাসিনো কারবারের টাকার ভাগও যেত তার পকেটে। প্রতিদিন শাহাবুদ্দিন ২০ হাজার টাকা পেতেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের ক্যাসিনোর বোর্ড থেকে। ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন শাহাবুদ্দিন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ওই ঘটনার পর থেকে বন্ধ।

১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। নানা গুঞ্জনের পর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং টর্চারের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এরপর রাজধানীর রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

সূত্র জানায়, সম্রাট অসুস্থ হওয়ায় একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে রিমান্ডের প্রথম দিন মাদক কারবারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তবে ক্যাসিনো-কান্ডে যেসব রাঘববোয়াল আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তাদের গ্রেফতার না করায় প্রশ্ন তুলেছেন সম্রাট।

সূত্র জানায়, রিমান্ডে নেওয়ার পর বুকে ব্যথাসহ শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ বলে দাবি করেন সম্রাট। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একজন চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখে ডিবি। রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ডিবি অফিসার ব্যক্তিগতভাবে সম্রাটের পরিচিত। তাদের অনেকে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

পরে গতকাল বিকালে সম্রাট আর আরমানকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্রাটের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইসহ নতুনভাবে তাদের জেরা করা হবে বলে জানা গেছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সম্রাট ও আরমানের মামলার তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে র‌্যাবে ন্যস্ত করা হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বিকালে সম্রাট ও আরমানকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। মঙ্গলবার সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে তার সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মাদক মামলায় তাকে রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, সম্রাট ও আরমানকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্রাটকে জেরা করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর