প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:২১

বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার মূল পর্ব শুরু

রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী

মানিক মুনতাসির, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে চলমান বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের বার্ষিক সভার মূল পর্ব শুরু হয়েছে। এ পর্বে বাংলাদেশ সেগমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ পর্বে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, তাদের পুনর্বাসন ও স্বদেশে প্রত্যাবাসনের জন্য এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি প্রভাবশালী দেশগুলোর সহায়তা চাইবে সরকার। সম্প্রতি সমাপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও একই বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে ইস্যু স্মরণ করিয়ে দিতে ও রোহিঙ্গা খাতের ব্যয় মেটাতে বিশ্ববাসীর সহায়তা চাওয়া হবে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে চলমান বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের সভায় শুক্রবার ১৮ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত একটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রোহিঙ্গা খাতের ব্যয়, রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশগত জটিলতা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা ইস্যুর প্রভাব বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরবেন। এ সম্মেলনের কার্যতালিকার দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ সেগমেন্টে এসব বিষয় তুলে ধরবেন তিনি। সেখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, আইডিএ, আইএফসিসহ উন্নয়ন-সহযোগী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে প্রভাবশালী দেশগুলোর ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। গতকাল ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া, চাওয়া এবং কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরব। এ-সংক্রান্ত চলতি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুবই সন্তোষজনক। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুধু বিশ্বব্যাংক আগামী বছরের জন্য বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আমরা আশা করি এটা আরও বাড়বে।’ এ সময় তার সঙ্গে ইআরডির বিশ্বব্যাংক উইংয়ের যুগ্ম-সচিব আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার পেছনে বাংলাদেশের ব্যয় প্রতিবছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কক্সবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশগত সমস্যা, ক্যাম্পগুলোর ভিতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। এসব বিষয় তুলে ধরা হবে ১৮ অক্টোবরের (আজ) সেশনে। এদিকে বর্তমানে চলমান বিশ্বব্যাংকের স্বল্প সুদের ঋণ প্যাকেজ আইডা-১৮-এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২০ সালে। তিন বছরে এ প্যাকেজের আওতায় সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাংলাদেশ নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ ঋণ নিয়ে ফেলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ঋণ ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

আর প্রথম অবস্থানে ইথিওপিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি এই বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আইডা-১৯ ঋণ প্যাকেজের আওতায় আগামী তিন বছরের জন্য ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া স্কেলআপ ফ্যাসিলিটিজের আওতায়ও বেশি ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও থাকতে পারে। তবে ইতিমধ্যে কিছু প্রকল্পে এ উইন্ডো থেকে ঋণ নেওয়া হলেও এখনো এর পরিমাণ কম। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করায় অনমনীয় ঋণের সুদ হারসহ ঋণের পরিমাণ প্রাপ্তির বিষয়ে যেসব পরিবর্তন আসবে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হবে এই সেগমেন্টে। সেই সঙ্গে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরিতে আইএমএফ ও আইএফসির যৌথ প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে ইআরডি সচিব বলেন, ‘বছরে দুটি মিটিং হয় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে- একটি বসন্তকালীন বৈঠক, অন্যটি বার্ষিক সভা। এবারের বার্ষিক সভাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকগুলো ইভেন্ট আছে। বিশ্বব্যাংক টিমের সঙ্গে মিটিং ছিল। পাইপ লাইনের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বব্যাংক আলোচনা করছে। উদ্দেশ্য এর ক্ষেত্র ও ভলিউম বাড়ানো। আইডা-২০১৮ বিষয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সক্ষমতার কারণে এটা শেষ করতে পেরেছি। সম্পন্নভাবে খরচও করতে পেরেছি। এ জন্য বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি প্রধান মার্সি টেম্বন আমাদের অনুরোধ করেছেন। অনেক দেশ থেকে অর্থ ফেরত আসবে। এটা আমরা গ্রহণ করতে পারি। এটা ব্যবহারের জন্য আমাদের অনুরোধ জানাতে পারে। বিশ্বব্যাংক আমাদের অফিশিয়ালি এই অনুরোধ করবে। কী সহযোগিতা প্রত্যাশা করি এটা জানানো হবে। কীভাবে সরকার এই অর্থ ব্যবহার করবে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর