শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:৩৮

তোপের মুখে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক

টাকা হলেই কৃষক লীগের পদ

রফিকুল ইসলাম রনি

টাকা হলেই কৃষক লীগের পদ

‘আমাকে অভয় দিলে আজকে কিছু কথা বলতে পারি। দীর্ঘদিন কৃষক লীগের রাজনীতি করি। আমারও ভালো একটা জায়গায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। কারণ আমরা নেত্রীর প্রশ্নে আপসহীন, ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়েই কৃষক লীগ করা শুরু করেছি। আর যারা কখনো জয়-বাংলা, জয়-বঙ্গবন্ধু বলেননি, তারাও এখন কৃষক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে। টাকা হলেই  এই সংগঠনে পদ পাওয়া যায়।’ কথাগুলো বলছিলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বান্দরবান জেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রির অভিযোগ ছিল।

সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বর্ধিত সভা চলছিল। বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বক্তৃতা করেন। জেলা ও কেন্দ্রের অধিকাংশ নেতার বক্তব্যই ছিল সংগঠনের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার শামসুল হক রেজার বিরুদ্ধে। কমিটিতে পদবাণিজ্য, বর্ধিত সভা ডাকতে না পারা, এক বছরে একাধিকবার জেলা-মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া ও অনুমোদন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত কৃষক লীগের একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর স্বাক্ষরিত ১১১ সদস্যের মধ্যে যারা সহ-সভাপতি হয়েছিলেন তাদের পেছনে এবং সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ‘পকেট’ কমিটির সহসভাপতিদের সামনে বসতে দেওয়ায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

বর্ধিত সভায় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন ভুলু, আবদুল লতিফ তারিন, ছবি বিশ্বাস, ওমর ফারুক, শরীফ আশরাফ আলী, আশা লতা বৌদ্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র চন্দ, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আবুল হোসেন, আতিকুল হক আতিক, প্রচার সম্পাদক এ কে আজম খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হোসনে আরা এমপি, অর্থ সম্পাদক নাজির মিয়া বক্তৃতা করেন। জেলা নেতাদের মধ্যে রাজশাহীর রবিউল আলম বাবু, সিলেটের অধ্যাপক শাহ আলম, চট্টগ্রামের আতিকুল ইসলাম, জয়পুরহাটের অ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী, বগুড়ার আলমগীর বাদশা, ঢাকার মাকসুদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনীর প্রস্তাব তোলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটিতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে বৈঠক ডাকা হবে বলে জানা গেছে। 

বৈঠক সূত্র জানায়, এক বছরে বার বার কমিটি ভাঙা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আলম। তিনি বলেন, সিলেটে এক বছরে তিনবার কৃষক লীগের কমিটি ভাঙা হয়েছে, আবার কমিটি দেওয়া হয়েছে। কেন এসব করা হয়েছে? স্বার্থ কী? চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতা) হঠাৎ করে আমাদের ওপর ‘নেতা’ চাপিয়ে দেন। চাপিয়ে দেওয়া নেতারা কৃষক লীগকে সহযোগিতা করেন না। এভাবে চললে ভবিষ্যতে সংগঠন থাকবে না।

সহসভাপতি আবদুল লতিফ তারিন বলেন, কৃষক লীগে কী হচ্ছে? চেনা নেই, জানা নেই, সবাইকে নেতা বানানো হয়। অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করেছে কিনা? কৃষক লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা? সেসব দেখা হচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে নেতা বানালে তারা পিঠে আঘাত করে চলে যেতে দ্বিধা করবে না।

আরেক সহসভাপতি আশা লতা বৌদ্দ বলেন, আমরা জানি না, চিনি না, হঠাৎ দেখি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। কারা, কখন কীভাবে কৃষক লীগে ঢুকছে কিছুই জানি না।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র চন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর স্বাক্ষরিত কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১১১ জন সদস্যের নাম আগামীতে কৃষক লীগের নিয়মিত স্মরণিকা ‘কৃষক কণ্ঠে’ ছাপাতে হবে।


আপনার মন্তব্য