Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩২

সক্রিয় দুঃসময়ের কাণ্ডারিরা আগ্রহ নেই হাইব্রিডদের

আওয়ামী লীগসহ চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন

শাবান মাহমুদ ও রফিকুল ইসলাম রনি

সক্রিয় দুঃসময়ের কাণ্ডারিরা আগ্রহ নেই হাইব্রিডদের

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠছেন দলের দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। আশাহত হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডরা। আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের আসন্ন সম্মেলনে নেতৃত্বে আসবেন দলের দুঃসময়ের কান্ডারিরা। একই সঙ্গে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হবে ক্লিন ইমেজ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানে। ‘অন্যায়-অনিয়মের’ বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণেই লাপাত্তা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতরা। দলের বসন্তের কোকিলদের এখন কোথাও ঠাঁই নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের চারপাশেও আর দেখা মেলে না তাদের। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর কণ্ঠে একই আওয়াজ- এবার ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চাই। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছেন। নেতৃত্ব নির্বাচনে আদর্শবান নেতাদের খোঁজা হচ্ছে। সরকারের একাধিক সংস্থার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব টিম মাঠে নেমেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও দলের দুঃসময়ের কা ারিদের পক্ষে এখন সক্রিয় অবস্থানে। যুবলীগ-ছাত্রলীগের শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় আগামীতে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের নেতা খুঁজছেন। সরকার ও দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সুশাসন নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে কারণে প্রথম থেকেই তিনি ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। ক্যাসিনোকা  ও নানা অনিয়মের অভিযোগে যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই শুদ্ধি অভিযান চলবে দলের জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনেও। এর আগে যারা সহযোগী সংগঠনে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে নেতৃত্বে এসেছিলেন তাদের অবসান হবে নতুন কমিটিতে। দলীয় সূত্রমতে, নতুন কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি হবে অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই ৬ নভেম্বর হচ্ছে কৃষক লীগের সম্মেলন। ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আর ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিণত হয়েছে পদপ্রত্যাশী নেতার মিলনমেলায়। কাক্সিক্ষত পদ নিশ্চিত করতে অনেকেই নানাভাবে তদবির-লবিং শুরু করেছেন। শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর খুশি হয়েছেন দলের দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরা। আর এ অভিযান কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দলে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের। যারা গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগে ভিড়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা তদবির করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের জন্য আসন্ন সম্মেলন রীতিমতো অশুভ সংকেত। আর বৃহস্পতি তুঙ্গে তাদেরই যারা নীরবে, নিভৃতে ভালোবেসেছেন দলকে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ক্লিন ইমেজ নেতাদের ঠাঁই দেবেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোনো বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীর জায়গা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে হবে না। দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ শুরু করেছেন।’ গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, দলের দুঃসময়ের নেতারা কার্যালয়ে ভিড় করতে শুরু করেছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সালাম দেওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। একে অন্যের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন। অন্যদিকে হাইব্রিডরা গা ঢাকা দিয়েছেন। কমে গেছে হাইব্রিডদের দাপটও। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপকমিটিতে পদ পাওয়া নেতারাও এখন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন আগামী সম্মেলন নিয়ে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর