Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:২৭

আজ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাবেন ক্রিকেটাররা

হার্ডলাইনে বিসিবি ক্রিকেটাররা অনড়

গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দু-তিনজন জড়িত : পাপন

আসিফ ইকবাল

হার্ডলাইনে বিসিবি ক্রিকেটাররা অনড়
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান পাপন

১১ দফা দাবি জানিয়ে সব ফরম্যাটের ক্রিকেট বর্জন করেছেন সাকিব, মুশফিক, তামিমরা। শুধু তাই নয়, বর্জন করেছেন ভারত সফরের ক্যাম্পও। ক্রিকেটারদের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি বিসিবি। তাদের এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলেননি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু বিস্মিত হয়েছেন। দুঃখ পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার জন্য। এর পেছনে ষড়যন্ত্র করছে কোনো এক পক্ষ। এই ষড়যন্ত্রে দু-তিনজন ক্রিকেটারও জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাপন বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান চায় ক্রিকেট বোর্ড। এজন্য হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। তবে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের জন্য দুয়ার খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, ক্রিকেটাররা ক্যাম্প বর্জন করলেও নির্ধারিত সময়েই ভারত সফরে যাবে ক্রিকেট দল। সফর নিয়ে আশাবাদী বোর্ড সভাপতি। কিন্তু ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে নামতে নারাজ বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত এক ক্রিকেটার। আজ তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসবেন। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এত বিসিবি ও ক্রিকেটাররা দুই পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে গত দুই দিনের ঘটনায়। আগের দিন হঠাৎ করেই সাকিবের নেতৃত্বে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবি পেশ করে ধর্মঘটে যান। তাদের এ আন্দোলন দেশ ও বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এতে বিব্রত হয়েছে বিসিবি। এজন্যই বিসিবি সভাপতি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কড়া ভাষায় আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের সমালোচনা করেন। তাদের ১১ দফার অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো সমাধানের পথে উল্লেখ করে পাপন বলেন, ‘ক্রিকেটাররা যে ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন, তার অধিকাংশই আমরা পূরণ করেছি। বাকিগুলো পূরণ করার পথে।’ তিনি বিস্মিত হয়েছেন ক্রিকেটাররা কোনো রকমের নোটিস না দিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। বলেছেন, ‘দেখুন, তারা যে ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন, তা আমাদের আগে জানাতে পারতেন। তাদের দাবির অধিকাংশই আমরা পূরণ করেছি। কিংবা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আর দেখুন, তাদের প্রথম শর্ত কোয়াব নিয়ে। কোয়াব তো আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা কীভাবে এটা ভেঙে দেব। বিপিএলের এবারের আসরটি স্পেশাল। আমরা জানিয়েছি, বিপিএল আবারও পুরনো আদলে হবে। এ ছাড়া জাতীয় ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও বাড়ানো হয়েছে।’ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি ক্রিকেটারদের, তা নিয়ে তো তারা কখনই কিছু বলেননি। তাদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এসব নিয়ে তো আগে তারা কিছু বলেননি। অথচ হঠাৎ করে আন্দোলনে নেমে পড়েছেন।’ বিসিবি সভাপতি জানান, গত এক বছরে ১৫ ক্রিকেটারকে বিসিবি ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে ঘটেনি। পরশু ক্রিকেটারদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল তাদের পারিশ্রমিক ও চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ানো। সে প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি। আমরা আরও বাড়াতে পারি। কিন্তু তা ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, বুঝতে হবে। যার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাকে তো আর চুক্তিভুক্ত করা যায় না!’ এ মুুহূর্তে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারের সংখ্যা ১৮। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ৭৯। যদিও একসময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ছিল ১০৫। পারিশ্রমিকের দাবি ও নির্ধারিত সময়ে দলবদলের জন্য ২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালেও আন্দোলন করেছিলেন ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতির সমাধান করতে সে সময় তারা তৎকালীন বিসিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছিলেন। বর্তমান বিসিবি সভাপতি চাইছেন, এবারও যেন ক্রিকেটাররা দেশের কথা ভেবে তাবের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। আমার চেয়ে বেশি মনে হয় না কেউ যোগাযোগ রাখেন। আমি তো বহুদূর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। বলার কিছু থাকলে ওরা বলতে পারতেন।’ আসন্ন মৌসুমে ক্রিকেটাররা ফের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজস্ব পছন্দের দলে খেলতে পারবেন। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ক্লাবগুলোর দাবিতে। ক্রিকেটাররা যেহেতু চাইছেন প্লেয়ারস বাই চয়েস, আমাদের কোনো সমস্যা নেই মেনে নিতে। এতে বিসিবিরই লাভ। কারণ, ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা দিতে হবে না বিসিবিকে।’

প্লেয়ারস বাই চয়েসে, অধিকাংশ ক্রিকেটারই তাদের পুরো টাকা পান না। যা-ই হোক, ক্রিকেটারদের দাবি পেশ ও বিসিবির হার্ডলাইনে অবস্থানে একটি বিষয় পরিষ্কার, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন দ্বিধাবিভক্ত! ক্রিকেটার ও বিসিবি এখন স্পষ্ট দুই পক্ষ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর