Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৫

মেননের ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেননের ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গতকাল ১৪ দল আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বৈঠকে অংশ নেন। গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মারক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জনগণ ভোট দিতে পারেনি’ বলে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মেননের বিষয়ে ঠিক কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি ১৪ দলের এই মুখপাত্র। এ সময় মোহাম্মদ নাসিমের পাশেই উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এ বিষয়ে নাসিম আরও বলেন, ‘বৈঠকে ওয়ার্কাস পার্টির সেক্রেটারি এসেছেন। কিন্তু রাশেদ খান মেনন কেন আসেননি তা আমি বলতে পারব না। আর কে কী কারণে আসেননি তা বলাও ঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সাহসী প্রধানমন্ত্রী। দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনে শেখ হাসিনা আদালতেও যেতে রাজি আছেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন।

ভবিষ্যতেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনো সমস্যার সমাধান করবেন।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম মাহবুব মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, একটি মহল স্বাধীনতার পর থেকে জাতির স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে বলে জিকির তুলে আসছে। অথচ তারা বার বার ক্ষমতায় এসেও কোনো চুক্তি বাতিল করেনি। তারা পাকিস্তানের চশমা দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দেখছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলে তা ‘স্বার্থবিরোধী’ এমনটি ভাবা একটি মহলের বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে রিজিওনাল হাব কীভাবে করা যায় সে বিষয়েও আলাচনা করেছেন। এটি বুঝতে হবে যে, ভারতের সঙ্গে এবার আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে স্বার্থ বিসর্জন দেবেন না। তিনি জান থাকতে মান দেবেন না। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘৭১-এ যাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, তাদের বিরুদ্ধে এখনো যুদ্ধ করছি। তাদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের পর কিছু জ্ঞানপাপী এর সমালোচনা করছেন। আর এদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘বিএনপি বলছে বঙ্গোপসাগরে রাডার স্থাপনের মাধ্যমে ভারত চীনের ওপর নজরদারি করবে। কিন্তু এ রাডারের মালিকানা বাংলাদেশের, যা দিয়ে আমরা সমুদ্রসীমার ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে পারব।’ ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতবিরোধিতা বাংলাদেশের একটি মহলের জন্য তুরুপের তাসের মতো। মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, এবার যে সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে। আর একে উইন-উইন সিচুয়েশন বলা যায়। গোলটেবিল বৈঠকে আরও আলোচনা করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, গাজী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আবদুল কাইয়ূম, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি এ আরাফাত, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর