Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:২২

২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ বাকি সবাই ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ক্যাসিনোকান্ডে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ ২২ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল দুদকের এ-সংক্রান্ত চিঠি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপারের (ইমিগ্রেশন) কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে গঠিত দুদকের অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে দুদক জেনেছে, অভিযোগ-সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তারা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে দুদকের নিষেধাজ্ঞায় জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম রয়েছে। এ ছাড়া কথিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাটের সহযোগী এনামুল হক আরমান, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম (ফিরোজ), অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী নাবিলা লোকমান, গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই, বরখাস্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এনামুল হকের সহযোগী ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ (আজাদ রহমান), রাজধানীর কাকরাইলের জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাকির হোসেন ও সেগুনবাগিচার শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শফিকুল ইসলামও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোকান্ডে  জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে খালেদ : রাজধানীর খিলগাঁও থানায় করা সায়মন হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মিনা মাহামুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এ আসামি এবং তার অন্য সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন আনোয়ার হোসেনের বাড়ির গেটের সামনে ২০১৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ইসরাইল হোসেন ও শরীফ হোসেন সায়মনকে গুলি করে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই করে। ঘটনাস্থলেই শরীফ হোসেন সায়মন মারা যান এবং ইসরাইল হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মারা যান ইসরাইল হোসেন। এ আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। তাই এ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামি খালেদকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িত অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেফতারের জন্য ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এর আগে তিনজন আসামি গ্রেফতার হয়। ওই তিনজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আদালতে চার্জশিটও দাখিল হয়। কিন্তু আদালত তদন্ত অসম্পূর্ণ হওয়ায় পিবিআইর কাছে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠায়। অধিকতর তদন্তে খালেদ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে গুলশান ও মতিঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে পৃথক তিনটি মামলা এবং মতিঝিল থানায় মাদক আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।


আপনার মন্তব্য