শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৪

ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ সাকিব

দুই বছর নিষেধাজ্ঞা আইসিসির, খেলতে পারবেন না কোনো ফরম্যাটেই

আসিফ ইকবাল

ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ সাকিব
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিব আল হাসান -রোহেত রাজীব

দুই বছর আগে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন জুয়াড়িদের কাছ থেকে। কিন্তু তা গোপন রেখেছিলেন আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের (আকসু) কাছে। এ তথ্য গোপন করার অভিযোগে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের  জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার শাস্তি পেয়েছেন আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার তিনটি আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সব কটি দায় মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তাহলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব। নিষিদ্ধ হওয়ায় টাইগার অধিনায়ক যেতে পারছেন না ভারত সফরে। তবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, বিসিবি সব সময় সাকিবের পাশে থাকবে। টাইগার অধিনায়ককে চলতি বছর ২৯ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করে আকসু। এরপর পূর্ণ তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি। টাইগার অধিনায়কের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসির নৈতিকতা বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, ‘সাকিব আল হাসান অত্যন্ত অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তিনি তার দায়িত্বের কথা ভালো করেই জানেন। তার উচিত ছিল এসব প্রস্তাবের কথা জানানো। সাকিব সব দায় স্বীকার করে নিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে আইসিসিকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তরুণ ক্রিকেটারদের তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বলবেন সাকিব।’ বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার এবারই প্রথম নিষিদ্ধ হননি। ২০১৪ সালে আরও একবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। পাঁচ বছর আগে বিসিবির অনাপত্তি ছাড়পত্র না নিয়েই সাকিব খেলতে গিয়েছিলেন ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল)। অনাপত্তি ছাড়পত্র না পাওয়ার পরও খেলতে যাওয়ায় বিসিবি তাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমিয়ে তিন মাস করা হয়। ওই বছরই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব। একই সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল তাকে। জুয়াড়িদের কাছ থেকে সাকিবের ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পাওয়ার বিষয় নিয়ে গতকাল প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ। দেশবাসী ও মিডিয়াকে দিনভর উৎকণ্ঠায় রেখেও সঠিক কোনো সংবাদ জানাতে পারেনি বিসিবি। সন্ধ্যায় আইসিসির একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, টাইগার অধিনায়ককে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাকিবকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আইসিসি যে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছে, তাতে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারার অধীনে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথমত ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তিন জাতি টুর্নামেন্ট ও ২০১৮ সালে আইপিএল চলার সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু প্রস্তাব পাওয়ার কথা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটকে (আকসু) জানাননি তিনি। দ্বিতীয়ত ২০১৮ সালের তিন জাতি সিরিজে তার সঙ্গে জুয়াড়িরা দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করার পরও আকসুর কাছে বিস্তারিত জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব। তৃতীয়ত ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটিও তিনি আকসুকে জানাননি। অবশ্য সাকিব এই প্রথম জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন এমন নয়। প্রথমবার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ২০০৮ সালে। সেবার বিসিবিকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর আরও দুবার জুয়াড়িদের প্রস্তাব পেয়েছেন। ২০১০ সালে একবার এবং এরপর ২০১৩ সালে। ওই দুবার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জুয়াড়িদের প্রস্তাবের বিষয়গুলো জানিয়েছিলেন আকসুকে। এদিকে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিন্দা জানিয়ে মিছিল করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। গত রাতে সাকিব এমসিসি ক্রিকেট কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর