শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৬

সরকার ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করেছে

সরকারের অত্যাচার পাকিস্তানি স্বৈরশাসনকে ছাড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এই সরকার ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করেছে, ৫০০ মানুষকে গুম করেছে। হাজারের ওপরে মানুষকে তারা পঙ্গু করে দিয়েছে। আজকে সমগ্র দেশে যে অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন তা অনেক সময় মনে হয় যে, একাত্তর সালের পাকিস্তানি নির্যাতনকে ছাড়িয়েছে গেছে। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ’ এর উদ্যোগে তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়। বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী যশোর জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপিকা নার্গিস ইসলাম বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য, বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সব শেষে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। এ সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। সরকার দেশটাকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সিপিডি বলেছে, বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে সেটা সঠিক নয়। তারা বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে- ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট, টাকা পাচার, এক লাখ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে। যেটা দিয়ে পাঁচটা পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। এভাবে একদিকে বিচারব্যবস্থা ধ্বংস, প্রশাসন ধ্বংস, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, অন্যদিকে মানুষের সব অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ছাত্রজীবন থেকে তরিকুল ইসলাম আমৃত্যু একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক, সাহসী রাজনৈতিক যোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে দেশকে যদি রক্ষা করতে হয় তাহলে তরিকুল ইসলামের মতো আমাদের সবাইকে সাহসী এবং নীতির প্রতি আপসহীন এবং সংগ্রামী ভূমিকা পালন করতে হবে-এই শিক্ষা আমরা তরিকুল ইসলাম থেকে নিতে চাই।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের হাতে এখন নেই। রাজনীতি চলে গেছে এখন অর্থ, সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তদের হাতে। এটা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এর একটা মাত্র কারণ হলো দেশে সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার নেই। জনগণের কাছে জবাবদিহি করার সরকার  নেই বলে সমাজে নৈরাজ্য চলছে। এজন্য আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তরিকুল ইসলাম একদিকে ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী তৈরির কারিগর, অন্যদিকে সাহসী মাঠসৈনিক। আজকে যে বয়সে আমাদের অনেক যুবকরা মিছিল থেকে পালিয়ে যায়, ওই সময়ে আমরা  দেখেছি তরিকুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে থেকে মাঠ গরম করেছেন এবং রাজপথে থেকেছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, তরিকুল ভাইয়ের কাছে সরকারের মন্ত্রিত্ব বা বড় পদ কখনো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তিনি রাজপথেই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাঁটতে ভালোবাসতেন।


আপনার মন্তব্য