শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪০

কার নিয়ন্ত্রণে বাজার

জুলকার নাইন ও রুহুল আমিন রাসেল

কার নিয়ন্ত্রণে বাজার

পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করছে সিন্ডিকেট। এটা অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। পিয়াজের দাম নিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির শেষ হতে না হতেই চাল নিয়ে শুরু হয় অপতৎপরতা। সর্বশেষ গতকাল সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লবণের দাম নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গুজব। বাড়তি দামে লবণ বিক্রির হিড়িক মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানান প্রান্তে। অথচ চাহিদার চেয়ে ছয় গুণ বেশি লবণ মজুদ আছে দেশে। হঠাৎ করেই দেশে একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীলতা ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে মূল দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হলেও সরকারের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুঁজে দেখছে আসলেই এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি পিয়াজকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতাকে ভালোভাবে দেখছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। তাই বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টি করছে কিনা, এখানে কারও ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি টিম কাজ করছে। সরকারের ওপর মহলের নির্দেশেই টিমটি কাজ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেশের চারটি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। সূত্র জানান, শুরুতে পিয়াজ কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কারা, কত দামে, কোন দেশ থেকে, কী পরিমাণ পিয়াজ আমদানি করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমদানি করা পিয়াজ কী দরে বিক্রি করা হয়েছে, সে খবরও নেবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আমদানি ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশি পিয়াজ কেনাবেচার বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হবে। দেশি পিয়াজের উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও সংরক্ষণের কারণে পচে যাওয়ার লোকসান বাদ দিয়ে মুনাফা যুক্ত করে কে কত দামে বিক্রি করেছেন, কেউ মজুদ করেছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে। দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো মহলের কারসাজি, সিন্ডিকেট বা ষড়যন্ত্র আছে কিনা, গোয়েন্দারা তাও খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, কেউ পিয়াজের অবৈধ মজুদ করলে, কারসাজি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বা অন্য কোনো উপায়ে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার মনিটরিংয়ে তাদের ৩১টি টিম কাজ করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার অভিযান জোরদার করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত দেশীয় পিয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। যে কোনো প্রয়োজনেই মাঠে নামতে পারেন গোয়েন্দারা। বাজার মনিটরিংয়ে সারা বছরই গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করেন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পিয়াজ নিয়ে কারও কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে। এটি গোয়েন্দাদেরই কাজ।’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাজার নিয়ে কোথাও কেউ অতিমুনাফার কিংবা সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। এই বাজার নিয়ন্ত্রণকারী মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ চাই। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অ্যাকশন থাকতে হবে।’ তার মতে, বাজারে পিয়াজ সরবরাহে সরকার সরাসরি কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। এর সঙ্গে সরকার ব্যবসায়ীদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করায় পিয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়নি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ভোগ্যপণ্যের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকার, আর পরিচালনা করেন ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় দরকার। এজন্য প্রয়োজন ভোগ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর থাকলেও তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজে আসছে না। তারা শুধু জরিমানা করছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজারে লবণের দাম বাড়েনি। মজুদেরও কোনো ঘাটতি নেই। নিছক গুজব ছড়ানো হয়েছে ফেসবুকে। এখানে নজরদারি বাড়ানো দরকার।’


আপনার মন্তব্য