শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৪

যুবলীগে কী হবে

সপ্তম কংগ্রেস কাল, ইমেজ উদ্ধারে দায়িত্ব পাচ্ছেন কারা, চুপসে গেছেন বিতর্কিতরা, বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগে কী হবে

ক্যাসিনো ঝড়ে সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের ইমেজ পুনরুদ্ধারে সংগঠনের দুই শীর্ষ পদ গ্রহণযোগ্য ও স্মার্ট নেতৃত্বের হাতে দেওয়া হতে পারে। আগামীকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনের সপ্তম কংগ্রেসে ‘ইমেজ’ উদ্ধারের দায়িত্ব পাচ্ছেন কারা তা নিয়ে সারা দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের রয়েছে কৌতূহল। ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।

যুবলীগের             নেতারা বলছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠনের সপ্তম কংগ্রেসে এক ঝাঁক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ সব শ্রেণিপেশার যুবকদের হাতে দেওয়া হবে এই সংগঠনের নেতৃত্ব। দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসে পদ-পদবি পেতে সক্রিয় হয়েছেন ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা। আর চুপসে গেছেন নানাভাবে বিতর্কিতরা। নেতৃত্বের বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হলেও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, বয়স বাড়ানো হলে সংগঠনের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, যুবলীগের নেতৃত্ব সবসময়ই একজন থাকেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ। সেই বিবেচনায় গতবার ওই পরিবারের জামাই হিসেবে ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যান করা হয়। তার নেতৃত্বে যুবলীগ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় চেয়ারম্যান পদ থেকে। এবারের সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকেই যুবলীগের শীর্ষ পদ দেওয়া হচ্ছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে। চেয়ারম্যান পদে জোর আলোচনায় আছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের কংগ্রেসে কখনো ভোট হয়নি। সমঝোতার মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়ে থাকে। এবারও তাই হবে বলে জানিয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির একাধিক নেতা। দুর্নীতি ও ক্যাসিনোকা-ের কারণেই ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানে সব থেকে বেশি আলোচনায় ছিল যুবলীগের নাম। এরই জের ধরে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে। চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করে সপ্তম জাতীয় সম্মেলন (কংগ্রেসের) প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে যুবলীগ গঠন করা হয়। সে সময়ে আহ্বায়ক করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও সদস্য সচিব করা হয় নূরে আলম সিদ্দিকীকে। ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে শেখ মণি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ আহমেদ। সাংগঠনিক কার্যক্রমে দক্ষ হিসেবে পরিচিত মণি পঁচাত্তর ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান। তারপর বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ১৯৭৮ সালে যুবলীগের দ্বিতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আমির হোসেন আমু ও সাধারণ সম্পাদক হন ফকির আবদুর রাজ্জাক। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফলু সরকার। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে ১৯৯৩ সালে মন্টু গণফোরামে যোগ দিলে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। ১৯৯৬ সালের চতুর্থ কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক হন কাজী ইকবাল। ২০০৩ সালের পঞ্চম কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক হন মির্জা আজম। নানক-আজমের যুবলীগই সর্বশেষ মাঠের সংগঠন হিসেবে রাজপথে পরিচিতি পায়। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন মোকাবিলা এবং ১/১১ সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা। ২০০৯ সালে নানক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ২০১২ সালে ষষ্ঠ কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মণি ও শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন হারুনুর রশিদ। যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসেন, আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেনÑ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, মনজুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, ফারুক হাসান তুহিন, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, আন্তর্জাতিক সম্পাদক অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার ও উপ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা শেফালী, সহসম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ, এন আই আহমেদ সৈকত। এ ছাড়া যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক হতে চান। এ ছাড়াও যুবলীগের শীর্ষ পদে সংগঠনের সাবেক এক নেতা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার নাম জোর আলোচনায় আছে। নেতৃত্বের চমক হিসেবে তাদেরকেও চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে। যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের জন্য যারা নিবেদিত, দলের প্রতি আনুগত্য, শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল এমন লোকদের থেকেই নেতৃত্ব আসবে। নেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে যুবলীগকে নিয়ে আসার জন্য। নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’


আপনার মন্তব্য