শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৭

বাজারে কমছে না দাম কাটেনি পিয়াজ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে কমছে না দাম কাটেনি পিয়াজ সংকট

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমছেই না। সংকট রয়েছে পিয়াজেও। একদিকে পিয়াজের সরবরাহ কম অন্যদিকে ভালো পিয়াজেরও অভাব। আবার বাজারে পিয়াজ পাওয়া গেলেও ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলুর সঙ্গে শীতের সবজির দামও চড়া। ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। এক সপ্তাহ আগে চালের যে দাম বেড়েছে তা আর কমেনি। রাজধানীসহ সারা দেশেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পিয়াজ, চালের দাম কমবে বলে সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান বক্তব্য দিলেও কমার কোনো আভাস নেই। বরং এক সপ্তাহ আগে পিয়াজ ২০০ টাকার নিচে নামলেও গতকাল তা ফের ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় মাস দুই ধরে অস্থিরতায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়েছে পিয়াজ। সংকট কাটাতে সরকারিভাবে তুরস্ক, মিসর, মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান থেকে পিয়াজ বিমানে করে আমদানি করা হয়। এতে দাম কিছুটা কমলেও গতকাল দেশের বিভিন্ন বাজারে পর্যাপ্ত পিয়াজের সরবরাহ ছিল না বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ফলে ফের দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা বার্মা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে, মিসরের পিয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে। তবে বেশির ভাগ পিয়াজের মানও ভালো নয়। সরকারের পিয়াজ আমদানি, ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ, বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা ঘোষণায় কোনো সুফলই দেখছেন না সাধারণ ক্রেতারা। এক সপ্তাহ আগে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে যায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, দেশে কোনো চালের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দাম বাড়বে না। বাজার পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যে কোনো মিল নেই বাজারে। সব ধরনের মোটা চালে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৫০  থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চিনিগুঁড়া ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এসব চালে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে প্রতিকেজিতে। শীতের সবজি হিসেবে নতুন আলু বাজারে প্রথম এসেছে। এখন অন্যান্য সবজিও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব পণ্যের সবগুলোই চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। নতুন আলুর সঙ্গে আগের সপ্তাহের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ, শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, জালিকুমড়া ও সব ধরনের শাক। বাজারে নতুন আলু এলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন আলু ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। নতুন আলু (আকারভেদে) ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কোনো শীতকালীন সবজি কেজিপ্রতি ৬০ টাকার নিচে নেই। মসলার বাজারেও হঠাৎ এই সপ্তাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও খুচরা বাজারে হঠাৎ এলাচের দাম  কেজিতে প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে এলাচের  কেজিতে মূল্য বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিকেজি এলাচের মূল্য ছিল ২৪০০ টাকা। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ টাকায়। এর প্রভাব পড়ে অন্য মসলায়ও। স্থিতিশীল রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়, খাসি ৭৮০ টাকায়, ছাগলের মাংস ৭২০ টাকায়। ইলিশ (বড়) বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য মাছের দামও স্থিতিশীল। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার ১৮০  থেকে ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 


আপনার মন্তব্য